Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

১৭ জানুয়ারি ২০২২ ই-পেপার

জনপথে ‘গুপ্তচরবৃত্তি’ মনে করাচ্ছে ২৭ বছর আগের সরকার পতনের সেই ঘটনাকে

নিজস্ব প্রতিবেদন
২৮ অক্টোবর ২০১৮ ১৭:০৬
চন্দ্রশেখর ও রাজীব গাঁধী। ছবি: আনন্দবাজার আর্কাইভ।

চন্দ্রশেখর ও রাজীব গাঁধী। ছবি: আনন্দবাজার আর্কাইভ।

‘নির্বাসিত’ সিবিআই অধিকর্তা অলোক বর্মার বাসভবন ২ জনপথ রোডে ‘গুপ্তচরবৃত্তি’ চালিয়েছেন ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর চার কর্মী। সেই অভিযোগ নিয়ে এখন সরগরম দেশের রাজনীতি। সিবিআই ইস্যু নিয়ে শুক্রবারই দিল্লির রাস্তায় নেমেছিলেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গাঁধী। ভারত সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক অবশ্য জানিয়েছে এই চার কর্মী তাঁদের রুটিন কাজেই ব্যস্ত ছিলেন ২ জনপথে। যদিও তা মানতে রাজি নন ‘ছুটিতে পাঠানো’ সদ্যপ্রাক্তন সিবিআই অধিকর্তা অলোক বর্মা। তাঁর সুরে সুর মিলিয়েছে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলিও। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনের আগে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠতে এই ‘গুপ্তচরবৃত্তি’-র অভিযোগ। যা অনেককেই মনে করিয়ে দিচ্ছে ২৭ বছর আগে ১৯৯১ সালের একটি ঘটনা, যেখানে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে পড়ে গিয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার। সেই ঘটনাটিও জনপথে, তবে তা ১০ জনপথ।

১০ জনপথে তখন থাকতেন লোকসভায় বিরোধী দলনেতা রাজীব গাঁধী। ১৯৯১ সালের মার্চে তাঁর বাসভবনের সামনে চা খেতে দেখা যায় হরিয়ানা পুলিশের দুই কর্মীকে। কংগ্রেসের অভিযোগ ছিল, এই দুই পুলিশকর্মী আসলে রাজীবের ওপর গুপ্তচরবৃত্তি চালাচ্ছেন। গুপ্তচরবৃত্তির বিষয়টি জানতে পেরে এতটাই ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছিলেন রাজীব গাঁধী, যে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী চন্দ্রশেখরের ওপর থেকে সমর্থন তুলে নিয়েছিলেন তিনি। পড়ে গিয়েছিল সরকার, ফের নির্বাচনের মুখোমুখি হয়েছিল সারা দেশ।

কংগ্রেসের অভিযোগ ছিল সাদা পোশাকের এই দুই পুলিশকর্মী হরিয়ানা পুলিশের সিআইডি-র লোক, যারা আসলে রাজীবের গতিবিধির ওপর নজরদারি চালাচ্ছিলেন। তখন রাজীবের সমর্থনেই সরকারে এসেছিলেন চন্দ্রশেখর। ১৯৭টি আসন নিয়ে লোকসভায় বৃহত্তম দল হলেও সরকারে ছিল না কংগ্রেস। প্রাথমিক ভাবে ভিপি সিংহের নেতৃত্বে সরকার তৈরি করেছিল জনতা দল (১৪৩), বিজেপি (৮৫) ও বামেদের (৫২) জোট। এক বছরের মধ্যে পড়ে গিয়েছিল সেই সরকার। কারণ, বিজেপি সমর্থন প্রত্যাহার করার পাশাপাশি ৬৪ জন সাংসদ নিয়ে জনতা দল ভেঙে সমাজবাদী জনতা পার্টি তৈরি করেছিলেন চন্দ্রশেখর। এর পর চন্দ্রশেখরকে সমর্থন দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বানিয়ে সরকারের চাবিকাঠি কার্যত নিজের হাতেই রেখেছিলেন রাজীব। এই পরিস্থিতিতে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ সামনে আসায় চন্দ্রশেখর ও রাজীবের রাজনৈতিক সম্পর্ক একদম তলানিতে গিয়ে ঠেকেছিল। হাজার চেষ্টা করেও তা ভাল করতে পারেননি চন্দ্রশেখর। উল্টে নিজেকেই সরে যেতে হয়েছিল সরকার থেকে।

Advertisement



রাষ্ট্রপতি ভবনে রাজীবের সমর্থনে প্রধানমন্ত্রী পদে শপথ নেওয়ার অনুষ্ঠানে চন্দ্রশেখর। ছবি: আনন্দবাজার আর্কাইভ।

রাজীবের সন্দেহের পেছনে কিছু যুক্তিও ছিল। কারণ, তখন হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন চন্দ্রশেখর নেতৃত্বাধীন সমাজবাদী জনতা পার্টির গুরুত্বপূর্ণ নেতা ওমপ্রকাশ চৌতালা। চন্দ্রশেখরের নির্দেশেই ওমপ্রকাশ এই গুপ্তচরবৃত্তির কাজ দিয়েছিলেন সিআইডিকে। এমনটাই ছিল রাজীবের অভিযোগ। রাজধানীর রাজনীতির অন্দরমহলে অবশ্য শোনা যায়, ওমপ্রকাশ চৌতালার ভাই রঞ্জিত সিংহই এই গুপ্তচরবৃত্তির খবর তুলে দিয়েছিলেন রাজীবের কাছে। হরিয়ানায় তার ঠিক আগেই নিজের বাবা দেবীলাল নেতৃত্বাধীন সরকারে মন্ত্রী ছিলেন র়ঞ্জিত। তাই সরকারে তাঁর নিজস্ব নেটওয়ার্ক ভালই ছিল। সেখান থেকেই রাজীবের ওপর গুপ্তচরবৃত্তির চালানোর খবর বের করে নিয়েছিলেন তিনি। ওমপ্রকাশ ক্ষমতায় আসার পর থেকেই অবশ্য ক্ষমতার বলয় থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া হয় রঞ্জিতকে। সেই আক্রোশ থেকেই রাজীবের কাছে গোপন খবর পৌঁছে দিয়েছিলেন তিনি, এমনটাও বলে থাকেন অনেকে।

আরও পড়ুন: সিভিসি-প্রধানের বিদেশযাত্রা কেন বাতিল? প্রশ্ন তুলল কংগ্রেস

এর পরই লোকসভায় চন্দ্রশেখরের বিরুদ্ধে আনা হয় অনাস্থা প্রস্তাব। তার পাশ থেকে সরে যান রাজীব। মার্চেই পদত্যাগ করেন চন্দ্রশেখর। পড়ে যায় সরকার। জুন মাসে দেশব্যাপী সাধারন নির্বাচনের ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।

আরও পড়ুন: সিবিআই ‘প্রধান’ অলোক বর্মা-কাণ্ডে জুড়লেন অমিত-পুত্র

এই নির্বাচনের প্রচারে বেরিয়েই আততায়ী হামলায় ছিন্ন ভিন্ন হয়ে যায় রাজীবের দেহ। যদিও তার পর থেকে চাপা পড়ে যায় এই গুপ্তচরবৃত্তির বিষয়টি। হরিয়ানাতেও ক্ষমতায় আসে ভজনলাল নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস সরকার। কিন্তু এই গুপ্তচরবৃত্তির বিষয়টি নিয়ে আর কাউকে কোনও দিন মুখ খুলতে দেখা যায়নি।

(ভারতের রাজনীতি, ভারতের অর্থনীতি- সব গুরুত্বপূর্ণ খবর জানতে আমাদের দেশ বিভাগে ক্লিক করুন।)

আরও পড়ুন

Advertisement