নয়ডার সেক্টর ১৫০-এ রাস্তার ধারে গভীর জলাশয় নিয়ে তিন বছর আগে প্রশ্ন তুলেছিল রাজ্য সেচ দফতর। শুধু প্রশ্ন তোলাই নয়, নয়ডা অথরিটিকে প্রকল্পের কাজ বন্ধ করে রাস্তার ধারের ওই গভীর গর্তে জমা জল কী ভাবে সরানো যায়, তা নিয়ে চিঠিও দিয়েছিল। শুক্রবার রাতে তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী যুবরাজ মেহতার সেই জলাশয়ে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা সেচ দফতরের সতর্কবার্তা দিয়ে চিঠির প্রসঙ্গ উস্কে দিয়েছে। সেই সঙ্গে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে, সতর্ক করার পরেও কেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি তিন বছরেও?
তিন বছর আগের সেই চিঠি ফাইলের নীচে চাপা পড়ে গিয়েছে। কিন্তু তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীর মৃত্যু তিন বছর আগে সেচ দফতরের সেই চিঠির প্রসঙ্গ প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয়েছে সমালোচনার ঝড়। অভিযোগ, সেই সতর্কবার্তার পরেও ওই বিশালাকার গর্তে জল জমানোর কাজ থামেনি। সংবাদসংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, ২০২৩ সালে উত্তরপ্রদেশ সেচ দফতর নয়ডা প্রশাসনকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছিল যে, জলাশয় থেকে অতিরিক্ত জল সেচ করে হিন্দন নদীতে ফেলা হোক। সেই কাজের জন্য টাকাও বরাদ্দ করা হয়েছিল বলে ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে বলে পিটিআই জানিয়েছে। কিন্তু সেই প্রকল্প বাস্তবে রূপায়িত হয়নি। তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীর মৃত্যুর পর যখন সেই চিঠির প্রসঙ্গ আবার ঘুরে এসেছে, নয়ডা প্রশাসনের এক আধিকারিক পিটিআইয়ের কাছে দাবি করেছেন, এ রকম কোনও চিঠির কথা তিনি জানেনই না।
যে জলাশয়ে পড়ে তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী যুবরাজের মৃত্যু হয়েছে, আশপাশের সোসাইটির জল জমা হয় সেখানে। এ ছাড়াও বৃষ্টির জল জমে সেটি ভরাট হয়ে গিয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর। স্থানীয়দের অভিযোগ, যদি জমা জল সরানোর কাজে গাফিলতি না করা হত, তা হলে হয়তো যুবরাজকে এ ভাবে ডুবে মরতে হত না। যুবরাজের মৃত্যুর পর থেকে ক্ষোভ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে। যদিও বিষয়টি নিয়ে দায় ঠেলাঠেলি শুরু হয়ে গিয়েছে। কার গাফিলতিতে যুবরাজকে এ ভাবে বেঘোরে মরতে হল, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। যদিও নয়ডা প্রশাসনের দিকেই অভিযোগের পাল্লা ক্রমশ ভারী হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সরকার এই ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের সিট গঠন করেছে। শুধু তা-ই নয়, নয়ডা অথরিটির সিইও লোকেশ এমকে কম্পালসির ওয়েটিংয়ে পাঠিয়েছে সরকার।
শুক্রবার গভীর রাতে কাজ থেকে ফেরার সময় তাঁর আবাসন থেকে কয়েক মিটার দূরে রাস্তায় বাঁক নিতে গিয়ে গভীর জলাশয়ে গাড়িসমেত পড়ে যান তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী যুবরাজ। গাড়ি থেকে বেরিয়ে আসতে পারলেও, সাঁতার না জানার কারণে পাড়ে উঠতে পারেননি। বাবা রাজকুমার মেহতাকে ফোন করে তাড়াতাড়ি আসতে বলেন। কিন্তু গাড়ি তত ক্ষণে ভাসতে ভাসতে পাড় থেকে বেশ কিছুটা দূরে চলে গিয়েছিল। তার মধ্যে ঘন কুয়াশায় কিছু দেখা যাচ্ছিল না। ছেলের ফোন পেয়েই ঘটনাস্থলে আসেন রাজকুমার। পুলিশ, উদ্ধারকারী দল, জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীও আসে। ৯০ মিনিট ধরে জলের উপর ভেসে থাকার পর গাড়িসমেত ডুবে যান যুবরাজ। প্রশ্ন উঠছে, উদ্ধারকারী দল আসার পরেও কেন যুবরাজকে উদ্ধার করা গেল না? শনিবার ভোর সাড়ে ৪টেয় যুবরাজের দেহ উদ্ধার হয়।