বিহারে আশাতীত জয়ের দেড় মাসের মধ্যে শরিকি অস্বস্তির মুখে বিজেপি নেতৃত্ব। রাজ্যসভার আসন ভাগাভাগি নিয়ে এ বার বিজেপির উপরে চাপ বাড়ানোর কৌশল নিয়েছেন হিন্দুস্তান আওয়াম মোর্চা (হাম) নেতা জিতন রাম মাঝি ও রাষ্ট্রীয় লোক মোর্চা (আরএলএম) নেতা উপেন্দ্র কুশওয়াহা।
আগামী এপ্রিলে বিহারের পাঁচটি রাজ্যসভার আসনের মেয়াদ শেষ হতে চলেছে। মেয়াদ ফুরনোর তালিকায় রয়েছেন উপেন্দ্রও। সূত্রের মতে, উপেন্দ্র মেয়াদ বাড়ানোর জন্য তদ্বির করলেও তাঁকে কোনও আশার বার্তা শোনায়নি বিজেপি। উল্টে বিজেপির পক্ষ থেকে বলা হযেছে, উপেন্দ্র নিজে রাজ্যসভার সাংসদ। উপেন্দ্রের স্ত্রী স্নেহলতা সাসারামের বিধায়ক হওয়ার পরে যে ভাবে বিহার বিধানসভার কোনও কক্ষের সদস্য না হওয়া সত্ত্বেও ছেলে দীপক প্রকাশকে মন্ত্রী করার সিদ্ধান্ত নেন, তা দল ভাল ভাবে নেয়নি। পরিবারবাদের অভিযোগ ওঠায় উপেন্দ্রকে এনডিএ-র খাতা থেকে রাজ্যসভার আসন ছাড়া হবে না বলে জানানো হয়েছে। স্বাভাবিক ভাবেই ওই সিদ্ধান্ত ক্ষুব্ধ উপেন্দ্র।
এপ্রিলে খালি হওয়া পাঁচ আসনের মধ্যে একটি চিরাগ পাসোয়ানের এলজেপিকে ও বাকি দু’টি জেডিইউ ও বিজেপির ভাগ করে নেওয়ার কথা হয়ে রয়েছে। তা সত্ত্বেও একটি আসন চেয়ে সরব হয়েছেন হাম নেতা জিতন রাম। তিনি বর্তমানে গয়া লোকসভা থেকে সাংসদ, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। কিন্তু তাঁর যুক্তি, গত লোকসভা নির্বাচনের সময়ে লোকসভার পাশাপাশি একটি রাজ্যসভা আসন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল তাঁকে। সেই প্রতিশ্রুতি এ বারে রাখা হোক। তা না হলে তিনি এনডিএ ছাড়ার হুমকিও দিয়েছেন।
সম্প্রতি একটি ভিডিয়োয় ভোট চুরির বর্ণনা দিতে শোনা গিয়েছিল জিতনকে। এর পরে আরেকটি ভিডিয়োয় বিহার মন্ত্রিসভার সদস্য, ছেলে সন্তোষ সুমনকে সরকারি কাজের বরাতে ৪০ শতাংশ ঘুষ নেওয়ার পরামর্শ দিতে শোনা যায় জিতনকে। এ বার তৃতীয় বার রাজ্যসভা না পেলে এনডিএ ছাড়ার হুমকি দিয়ে বিজেপিকে অস্বস্তিতে রাখলেন জিতন রামও। বিজেপির অবশ্য বক্তব্য, এই মুহূর্তে বিহারের যা রাজনৈতিক সমীকরণ, তাতে জিতনের কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই। এহল দরদাম করে আসন ছিনিয়ে নেওয়ার কৌশল।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)