Advertisement
E-Paper

কূটনীতিক সেজে টানা ১৮ মাস পুলিশকে দিয়ে সেলাম ঠোকালেন এক মহিলা!

গ্রেটার নয়ডার গৌড় সিটি-২ এর প্রিস্টিন অ্যাভেনিউ সোসাইটি থেকে জোয়া খান ও হর্ষপ্রতাপকে গ্রেফতার করা হয়।

সংবাদ সংস্থা

শেষ আপডেট: ০৫ এপ্রিল ২০১৯ ২১:১২
জালিয়াতি মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে ওই মহিলাকে। —প্রতীকী ছবি।

জালিয়াতি মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে ওই মহিলাকে। —প্রতীকী ছবি।

সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় বিফল হয়ে পুলিশকে ‘ঘোল খাওয়ালেন’ এক মহিলা। কূটনীতিক সেজে পুলিশের গাড়িতে ঘুরলেন। সেলামও ঠোকালেন ইচ্ছামতো। সব কিছু বুঝে উঠতে ১৮ মাস সময় লেগে গেল পুলিশের! বৃহস্পতিবার গ্রেটার নয়ডা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে জোয়া খান নামের ওই মহিলাকে। গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁর স্বামী, প্রাক্তন ব্যাঙ্কার হর্ষপ্রতাপ সিংহকেও। পুলিশকে ঠকানোয় স্ত্রীকে তিনিও সাহায্য করেছিলেন বলে অভিযোগ।

এ দিন গ্রেটার নয়ডার গৌড় সিটি-২ এর প্রিস্টিন অ্যাভেনিউ সোসাইটি থেকে জোয়া খান ও হর্ষপ্রতাপকে গ্রেফতার করা হয়। নয়ডা পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর পাশ করেছিলেন জোয়া। ২০০৭-এ সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় বসেন। কিন্তু পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেননি তিনি। ছ’বছর আগে হর্ষপ্রতাপকে বিয়ে করেন তিনি। সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে দু’বছর আগে চাকরি ছেড়ে দেন হর্ষ।

পুলিশের দাবি, সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় সফল না হতে পারলেও, উচ্চপদস্থ আমলা হওয়ার বাসনা ছাড়তে পারেননি জোয়া। তাই ‘শর্টকাট’ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সেই মতো স্বামীর সঙ্গে পরিকল্পনা করে ‘প্রক্সি সার্ভার’-এর মাধ্যমে ভুয়ো ইমেল আইডি বানান। টাকা খরচ করে তৈরি করেন ভুয়ো ওয়েবসাইটও। সেখান থেকে উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদ, মেরঠ, আলিগড়, মোরাদাবাদ এবং হরিয়ানার গুরুগ্রামের পুলিশ প্রধানদের চিঠি লেখেন। চিঠিতে নিজেকে ইন্ডিয়ান ফরেন সার্ভিস অফিসার বলে দাবি করেন জোয়া খান। বিভিন্ন জেলা পরিদর্শনের জন্য তিনি পুলিশি নিরাপত্তা চেয়ে বসেন। সন্দেহ এড়াতে রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের পরমাণু নীতি নির্ধারণ অফিসার হিসাবে নিজের ভুয়ো পরিচয়পত্রও দেখান পুলিশকে। ওয়াশিংটন ডিসিতে থাকেন বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন: পাকিস্তানের ধ্বংস হওয়া যুদ্ধবিমান কি এফ-১৬ ছিল? প্রশ্ন তুলল মার্কিন প্রতিবেদন​

আরও পড়ুন: ফের ক্ষমতায় এলে করের হার কমানো হবে আরও, প্রতিশ্রুতি জেটলির

গত ১৮ মাস ধরে এ ভাবেই চলছিল। কিন্তু সম্প্রতি নিজেই বিপত্তি ডেকে আনেন জোয়া খান। নিরাপত্তারক্ষী আসতে দেরি হওয়ায় গত ২৩ মার্চ গৌতম বুদ্ধ নগরে এসএসপি বৈভব কৃষ্ণকে ফোন করে ধমকান তিনি। তার পরই জোয়ার প্রতি সন্দেহ তৈরি হয় ওই এসএসপি-র। গোপনে তদন্ত শুরু করেন তিনি। গৌড় সিটি-২ এলাকায় জোয়া ও হর্ষপ্রতাপ সিংহের বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালাতে পৌঁছন। তাতেই বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যায়। বৈভব কৃষ্ণ জানান, “ধৃতদের কাছ থেকে নীল বাতি বসানো একটি মার্সিডিজ এবং একটি এক্সইউভি গাড়ি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। দু’টি গাড়িতেই রাষ্ট্রপুঞ্জের প্রতীক লাগানো ছিল। এ ছাড়াও দু’টি ল্যাপটপ, একজোড়া ওয়াকিটকি এবং একটি নকল পিস্তল উদ্ধার হয়েছে। মিলেছে ‘মিশন আফগানিস্তান ইন ওয়াশিংটন’ লেখা রাষ্ট্রপুঞ্জের আরও একটি পরিচয়পত্র।”

জোয়া মেরঠের এক চিকিত্সকের মেয়ে এবং হর্ষ কানপুরের এক পুলিশ অফিসারের ছেলে, জিজ্ঞাসাবাদে এমন তথ্য উঠে এসেছে বলেও জানান বৈভব কৃষ্ণ। ওই দু’জনের বিরুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে প্রতারণা ও জালিয়াতির মামলা দায়ের হয়েছে।

(কী বললেন প্রধানমন্ত্রী, কী বলছে সংসদ- দেশের রাজধানীর খবর, রাজনীতির খবর জানতে আমাদের দেশ বিভাগে ক্লিক করুন।)

Crime Arrest Greater Noida Diplomat UNSC United Nations
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy