Advertisement
E-Paper

রাস্তায় গর্ত, ঝাঁকুনিতেই জেগে উঠলেন ‘ব্রেন ডেড’ মহিলা! ডাক্তার আশা ছেড়ে দিলেও প্রাণ ফেরাল বরেলীর জাতীয় সড়ক

বরেলীর হাসপাতাল ৫০ বছর বয়সি বিনীতা শুক্লের ‘ব্রেন ডেড’ ঘোষণা করেন। হৃদ্‌যন্ত্র সচল ছিল বটে, কিন্তু বেঁচে ফেরার আর কোনও আশা ছিল না। তাই হাসপাতাল থেকেও তাঁকে ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১১ মার্চ ২০২৬ ১৬:২৩
উত্তরপ্রদেশের রাস্তার ঝাঁকুনিতে প্রাণ ফিরে পাওয়ার পর পরিবারের সঙ্গে বিনীতা শুল্ক।

উত্তরপ্রদেশের রাস্তার ঝাঁকুনিতে প্রাণ ফিরে পাওয়ার পর পরিবারের সঙ্গে বিনীতা শুল্ক। ছবি: সংগৃহীত।

চিকিৎসকেরা আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন। ‘জবাব’ দিয়ে দিয়েছিল হাসপাতাল। তাই ‘নিথর’ স্ত্রীকে নিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি ফিরছিলেন কুলদীপ শুক্ল। বাড়িতে ফোন করে দুঃসংবাদ দিয়ে দিয়েছিলেন। এমনকি, শেষকৃত্যের আয়োজনও শুরু হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু বরেলী-হরিদ্বার ৭৪ নম্বর জাতীয় সড়কে গাড়ি উঠতেই হল অলৌকিক কাণ্ড! জেগে উঠলেন ‘মৃত’!

৫০ বছর বয়সি বিনীতা শুক্ল বরেলীর হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি চিকিৎসকেরা তাঁর ‘ব্রেন ডেড’ ঘোষণা করেন। হৃদ্‌যন্ত্র সচল ছিল বটে, কিন্তু সুস্থ হয়ে ফেরার আর কোনও আশা ছিল না। তাই হাসপাতাল থেকেও তাঁকে ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়। অ্যাম্বুল্যান্সে করে স্ত্রীকে নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন কুলদীপ। আচমকা জাতীয় সড়কের উপর একটি গর্ত পেরোতে গিয়ে লাফিয়ে ওঠে অ্যাম্বুল্যান্স। বেশ খানিকটা ঝাঁকুনির পর কুলদীপ লক্ষ্য করেন, তাঁর স্ত্রী ‘বেঁচে’ উঠেছেন। আবার স্বাভাবিক হয়েছে তাঁর শ্বাসপ্রশ্বাস!

দ্রুত হাসপাতালের দিকে অ্যাম্বুল্যান্স ঘোরান কুলদীপ। আরও কিছু দিন চিকিৎসা চলে। সোমবার মহিলাকে সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাঁর স্বামী বলেছেন, ‘‘ডাক্তার বলেছিলেন, কোনও আশা নেই। আমি বাড়িতে ফোন করে শেষকৃত্যের প্রস্তুতি শুরু করতে বলে দিয়েছিলাম। হাফিজ়গঞ্জের কাছে আমাদের অ্যাম্বুল্যান্স একটা গর্তে পড়ে খুব জোরে লাফিয়ে ওঠে।’’ তার পরেই স্ত্রীকে ফিরে পান কুলদীপ। তাঁর কথায়, ‘‘আমার স্ত্রীর শ্বাসপ্রশ্বাস আবার স্বাভাবিক হয়ে গিয়েছিল। দেখেই আমি পরিবারকে জানাই এবং আবার হাসপাতালে নিয়ে যাই। ও মৃত্যুকে জয় করল!’’ বাড়ি ফিরে ওই মহিলা স্বাভাবিক ভাবে কথাবার্তাও বলছেন বলে জানিয়েছে তাঁর পরিবার।

দ্বিতীয় বার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর যে চিকিৎসক মহিলাকে দেখেছিলেন, সেই রাকেশ সিংহ টাইম্‌স অফ ইন্ডিয়াকে জানান, বরেলীর হাসপাতালে মহিলার মস্তিষ্কের সাড় (ব্রেনস্টেম রিফ্লেক্স) পাওয়া যাচ্ছিল না। গ্লাস্‌গো কোমার মাত্রাও তিন পয়েন্টে নেমে গিয়েছিল। স্বাভাবিক অবস্থায় যা ১৫ পয়েন্টে থাকার কথা। ফলে মহিলার কোনও সাড় পাওয়া যায়নি। তাঁর চোখের পরীক্ষা থেকেও ‘মস্তিষ্কের মৃত্যু’র ইঙ্গিত মিলেছিল। তবে তার পর যা হয়েছে, তা অস্বাভাবিক, মেনে নিয়েছেন চিকিৎসকও।

Bareilly Potholes Road Conditions UP News
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy