অফিস যাওয়ার পথে রেলস্টেশনে খুন হন তরুণী ইঞ্জিনিয়ার। ঠিক এক সপ্তাহের মাথায় পুলিশের হাতে ধরা পড়ল সেই খুনি। তবে পুলিশ জানিয়েছে, ধরা পড়ার ভয়ে প্রথমে নিজেকে ছুরিবিদ্ধ করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিল সে। অভিযুক্তের নাম রামকুমার। বাড়ি তামিলনাড়ুর তিরুনেলভেলি জেলায়।
ঘটনা ২৪ জুনের। ভোর সাড়ে ছ’টা নাগাদ চেন্নাইয়ের নাঙ্গামবক্কম স্টেশনে দাঁড়িয়ে ছিলেন বছর চব্বিশের এস স্বাতী। রোজ ভোরেই ওখান থেকে ট্রেন ধরতেন তিনি। যেতেন চেঙ্গেলপেটের কাছে মহীন্দ্রা সিটিতে। সেখানেই তাঁর অফিস। ২৪ তারিখ নাঙ্গামবক্কম স্টেশনে স্বাতীকে কুপিয়ে খুন করে পালায় রামকুমার। স্টেশনে সিসিটিভি ক্যামেরা না থাকায় তাকে খুঁজে পেতে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়েছে পুলিশকে। প্রকাশ্যে এক তরুণী খুন হওয়ার কয়েক দিন পরেও খুনিকে ধরতে না পারায় কোর্টের ভর্ৎসনাও শুনেছে জয়ললিতা সরকার ও তার পুলিশ-প্রশাসনে। তার পরই নড়ে বসেছে পুলিশ। স্টেশন লাগোয়া একটি বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজ জোগাড় করে খুনির স্পষ্ট ছবি পাওয়ার চেষ্টা করে পুলিশ। দিন কয়েক আগে তা প্রকাশও করে তারা।
তদন্তে নেমে চেন্নাই পুলিশ জানতে পেরেছিল, চোলাইমেদু এলাকার একটি লজে ভাড়া থাকত তিরুনেলভেলির বাসিন্দা, বছর বাইশের রামকুমার। মাস তিনেক আগে টি মীনাক্ষীপুরম গ্রাম থেকে চেন্নাই এসেছিল সে। ওই লজের আশপাশের কোনও এলাকাতেই থাকতেন স্বাতী। সম্ভবত সেখানেই সে প্রথম স্বাতীকে দেখে। তার পর শুরু হয় ওই তরুণীকে অনুসরণের পর্ব। শেষমেশ কুপিয়ে খুন। পুলিশ জানিয়েছে, রামকুমার খুব ভাল করেই জানত রোজ সকালে নাঙ্গামবক্কম থেকে ট্রেন ধরেন স্বাতী। সেই সকালেও তাঁকে অনুসরণ করে স্টেশনে পৌঁছেছিল সে।
কী কারণে রামকুমার স্বাতীকে মেরেছে, তা স্পষ্ট করে বলতে নারাজ পুলিশও। তাদের বক্তব্য, তদন্তের স্বার্থেই এখন সব কিছু বলা যাচ্ছে না। পুলিশ জানায়, সিসিটিভি ফুটেজ হাতে আসার পর থেকেই গোটা চেন্নাইয়ে অভিযুক্তের ছবি দেখিয়ে তল্লাশি শুরু হয়। তার পরই তার পরিচয় জানা যায়। আজ সকালে রামকুমারের গ্রামের বাড়িতে হানা দেয় পুলিশ। চেন্নাই পুলিশের কমিশনার টি কে রাজেন্দ্রন জানিয়েছেন, বাড়ির পিছনের উঠোনে প্রথমে লুকোনোর চেষ্টা করেছিল সে। তার পরই ছুরি দিয়ে নিজের গলায়-ঘাড়ে কোপ বসায়। তবে শেষরক্ষা হয়নি। গ্রেফতার করে তাকে জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতা।