অসমের মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা হিমন্ত বিশ্বশর্মা মঙ্গলবার দাবি করেছেন, ২০১৪ সালে কংগ্রেসে থাকাকালীন ৫৮ জন দলীয় বিধায়ক তাঁকে সমর্থন করেছিলেন। তা দেখে তৎকালীন কংগ্রেস সভানেত্রী সনিয়া গান্ধী তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করতে বলেছিলেন। কিন্তু তৎকালীন কংগ্রেস সহ-সভাপতি রাহুল গান্ধীর আপত্তিতে তা সম্ভব হয়নি।
২০১১ সালের বিধানসভা ভোটে অসমের ১২৬টি আসনের মধ্যে ৭৮টিতে জিতে ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তন করেছিল কংগ্রেস। টানা তৃতীয় বার মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন তরুণ গগৈ। হিমন্ত সেই মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন। গগৈয়ের সঙ্গে মতবিরোধের কারণে ২০১৪ সালের লোকসভা ভোটের আগে দু’ডজন কংগ্রেস বিধায়ককে সঙ্গে নিয়ে দিল্লিতে সনিয়ার কাছে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বদলের দাবি তুলেছিলেন হিমন্ত। কিন্তু কংগ্রেস হাইকমান্ড সেই দাবি না মানায় ২০১৪ সালের লোকসভা ভোটের পরে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন তিনি।
আরও পড়ুন:
২০১৬ সালের বিধানসভা ভোটে অসম দখলের পরে হিমন্ত মুখ্যমন্ত্রিত্বের দাবিদার হলেও পুরনো নেতা সর্বানন্দ সোনোয়ালের উপর ভরসা রেখেছিলেন নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহেরা। তবে ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে সর্বানন্দের নেতৃত্বে বিজেপি ক্ষমতায় ফিরলেও তাঁকে সরিয়ে হিমন্তকে মুখ্যমন্ত্রী করা হয়। ১২ বছর আগে কংগ্রেসের অন্দরে বিদ্রোহের প্রসঙ্গ তুলে হিমন্ত মঙ্গলবার বলেন, ‘‘ম্যাডাম (সোনিয়া গান্ধী), যাঁকে আমি এখনও এই নামেই ডাকি, তিনি আমাকে শপথের তারিখ নির্ধারণ করতে বলেছিলেন। আমি তাঁকে বলেছিলাম যে জুন (২০১৪) মাসে কামাখ্যা মন্দিরে অম্বুবাচী মেলার পরের দিন আমি শপথ গ্রহণ করব।’’ এর পরেই অসমের মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য, ‘‘রাহুল গান্ধী তখন আমেরিকায় ছিলেন। তিনি দলের নেতাদের সঙ্গে ফোনে কথা বলার পরেই পরিস্থিতি বদলে যায়।’’
আরও পড়ুন:
হিমন্তের হাত ধরেই সদ্য অপসারিত অসম প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি ভূপেন বরা মঙ্গলবার বিজেপিতে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালে হিমন্তের উদ্যোগে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন অসমের আর এক প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি ভুবনেশ্বর কলিতা। সাম্প্রতিক পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক ভিডিয়ো বিতর্ক সম্পর্কে হিমন্ত মঙ্গলবার বলেন, ‘‘আমি সব সময় সাংবিধানিক গণ্ডির মধ্যেই থাকি। তাই আমার ভয় পাওয়ার কিছু নেই।’’ অসম বিজেপির সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডল থেকে পোস্ট হওয়া ওই ভিডিয়োকে কেন্দ্র করেই বিতর্কের সূত্রপাত। বিতর্ক শুরু হতেই সমাজমাধ্যম থেকে ওই ভিডিয়োটি সরিয়ে দেয় বিজেপি। তার পরেও বিতর্ক পিছু ছাড়েনি।