×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

১১ মে ২০২১ ই-পেপার

‘বাড়িতে থাকলেও মরতই’! আন্দোলনে মৃত কৃষকদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য বিজেপি মন্ত্রীর

সংবাদ সংস্থা
চণ্ডীগঢ় ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ১১:০০
আন্দোলন চলাকালীন মারা যাওয়া কৃষকদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য হরিয়ানার কৃষিমন্ত্রীর।

আন্দোলন চলাকালীন মারা যাওয়া কৃষকদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য হরিয়ানার কৃষিমন্ত্রীর।
—ফাইল চিত্র।

কৃষক আন্দোলন ঘিরে ঘরে বাইরে চাপের মুখে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার। সেই পরিস্থিতিতেও দলের অস্বস্তি বাড়িয়েই চলেছেন গেরুয়া শিবিরের একাধিক নেতা। এ বার সেই তালিকায় নয়া সংযোজন হরিয়ানার কৃষিমন্ত্রী জেপি দালাল। কৃষক আন্দোলন চলাকালীন প্রচণ্ড ঠান্ডায় যে সমস্ত কৃষক মারা গিয়েছেন এবং যাঁরা আত্মঘাতী হয়েছেন, তাঁদের সম্পর্কে অসংবেদনশীল মন্তব্য করেছেন তিনি। তাঁর যুক্তি, বাড়িতে থাকলেও মরতেনই ওই কৃষকরা!

শনিবার হরিয়ানার ভিওয়ানিতে দলীয় সমর্থকদের নিয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন দালাল। আন্দোলন চলাকালীন মারা যাওয়া কৃষকদের নিয়ে সেখানে তাঁর অনুভূতি জানতে চান এক সাংবাদিক। জবাবে তিনি বলেন, ‘‘বাড়িতেও মরতেই হত এঁদের। এখানে কি লোক মারা যাচ্ছে না? ২ লক্ষ লোকের মধ্যে ৬ মাসে ২০০ জনের মৃত্যু কি অস্বাভাবিক? ’’

দালালের সাক্ষাৎকারের ওই ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। তাতে সেই সময় উপস্থিত কাউকেই দালালের এই মন্তব্যের বিরোধিতা করতে দেখা যায়নি। বরং তাঁর এই মন্তব্যের পরই হাসির রোল ওঠে চারিদিকে। দালাল নিজেও হাসতে শুরু করেন। তবে সেখানেই থেমে যাওয়ার বদলে তিনি আরও যোগ করেন, ‘‘কেউ তো আর দুর্ঘটনায় মারা যাননি। স্বেচ্ছায় মরেছেন। তা ছাড়া ভারতে নাগরিকদের গড় আয়ু কত, আর বছরে কত জন মারা যান জানেন? মারা যাওয়া সকলের প্রতিই সমবেদনা রয়েছে। সমবেদনা রয়েছে দেশের ১৩৫ কোটি মানুষের জন্যই।’’

Advertisement

দালালের এই মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক দানা বাঁধতে সময় লাগেনি। তাতে ক্ষমা চেয়ে নিজের মন্তব্যের জন্য সাফাইও দেন দালাল। তিনি বলেন, ‘‘আমার কথায় কেউ আহত হয়ে থাকলে আমি ক্ষমাপ্রার্থী। মৃত্যু সত্যিই অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক। আগামী দিনেও কৃষকদের কল্যাণে কাজ করে যাব আমি।’’

তবে এই সাফাইয়েও বিতর্ক থামেনি। বরং দালালের বিরুদ্ধে আক্রমণে আরও শান দিয়েছেন বিরোধী শিবিরের রাজনীতিকরা। কংগ্রেস মুখপাত্র রণদীপ সুরজেওয়ালা বলেন, ‘‘এক জন অসংবেদনশীল মানুষই অন্নদাতাদের নিয়ে এমন মন্তব্য করতে পারেন।’’ হরিয়ানা প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি কুমারী শৈলজা বলেন, ‘‘কৃষকদের আত্মবলিদান নিয়ে কৃষিমন্ত্রীর মন্তব্য এবং তার প্রেক্ষিতে যে প্রতিক্রিয়া এবং হাসির রোল শুনলাম, তা অত্যন্ত দুঃখজনক।’’ পঞ্জাবের কংগ্রেস নেতা রাজকুমার হরিয়ানা মন্ত্রিসভা থেকে দালালেকে বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন। তবে বিজেপির তরফে এ নিয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

Advertisement