Advertisement
E-Paper

অপরিচ্ছন্ন ঘরে ‘বন্দি’ ৭ শিশু শ্রমিক

শহরের দোকান, রেঁস্তোরা থেকে উদ্ধার ৭ শিশু শ্রমিককে কার্যত ‘নরকের মুখে’ ঠেলে দিয়েছিল শিশুকল্যাণ বিভাগ। গত কাল শ্রম বিভাগের টাস্ক ফোর্স, হাইলাকান্দি জেলা প্রশাসন এবং একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা অভিযান চালিয়ে তাদের উদ্ধার করেছিল।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৯ জুলাই ২০১৫ ০৩:৩৬

শহরের দোকান, রেঁস্তোরা থেকে উদ্ধার ৭ শিশু শ্রমিককে কার্যত ‘নরকের মুখে’ ঠেলে দিয়েছিল শিশুকল্যাণ বিভাগ।

গত কাল শ্রম বিভাগের টাস্ক ফোর্স, হাইলাকান্দি জেলা প্রশাসন এবং একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা অভিযান চালিয়ে তাদের উদ্ধার করেছিল। শিশুকল্যাণ সমিতি ওই শিশু-কিশোরদের হাইলাকান্দির স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘উদীচি’র হাতে তুলে দেয়। অভিযোগ, সেখানে কোনও ‘চাইল্ড হোম’ ছিল না। আজ সকালে ওই শিশুদের কয়েক জন অভিভাভক সেখানে গিয়ে দেখেন, উদ্ধার হওয়া কয়েক জন শিশু কাঁদছে। উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা ওই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। তার পর তাঁরা দ্বারস্থ হন হাইলাকান্দির বিজেপি সভাপতি ক্ষীতীশরঞ্জন পালের সঙ্গে। দলের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে সেখানে পৌঁছন ক্ষীতীশবাবু। তিনি বলেন, ‘‘আমরা দেখি, ওই শিশুদের কার্যত নরকের মধ্যে রাখা হয়েছে। রাতে তাদের ঘুমোনোর ব্যবস্তা করা হয়নি। না মিলেছে মশারি, না বালিশ, তোষক। একটি ঘরে সবাইকে তালাবন্ধ করে রেখে দেওয়া হয়েছিল। ওই ঘরটাও ছিল অপরিষ্কার।’’

এ দিন ওই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার দফতরে গেলে উদ্ধার হওয়া কয়েকটি শিশু নালিশ জানায়। সুমিত রায় অভিযোগ করে, গত রাতে সেখানে পাহারারত নিরাপত্তাকর্মী তাকে মারধর করেছে। আব্দুল হাপিজ, রাজ দেবনাথ, জাকির হুসেনরা জানায়, রাতে মশারি ছাড়া বস্তা গায়ে জড়িয়ে তারা ঘুমোনোর চেষ্টা করেছিল। তাদের নোংরা জল খেতে দেওয়া হয়েছিল। সবিতা দেবনাথ নামে এক অভিভাবক জানান, ছেলেকে নিতে গেলে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কর্তৃপক্ষ তাঁর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। ওই সংস্থার কর্মী খাদিজা বেগমের বক্তব্য, উদ্ধার হওয়া শিশুদের থাকার জায়গা দেওয়া হয়েছে। সেটাই যথেষ্ট। অভিযোগ, বিজেপি জেলা সভাপতি-সহ অন্য কর্মকর্তাদের সঙ্গেও ওই সংস্থার লোকেরা দুর্ব্যবহার করেন। শিশুদের প্রত্যেককে অভিভাবকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

হাইলাকান্দির শিশুকল্যাণ দফতরের আধিকারিক পরিণীতা হাজরিকার এ সবের দোষ ওই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কর্তৃপক্ষের উপরই চাপিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘‘আমাদের কাছে শিশুদের হোম না থাকায় ওই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাকে উদ্ধার হওয়া শিশু শ্রমিকদের দায়িত্ব দিয়েছিলাম।’’ তিনি জানান, এ দিন সকালে জেলা শিশুকল্যাণ সমিতির সভাপতি প্রীতিকণা পালকে সঙ্গে নিয়ে ওই সংস্থায় গিয়ে দেখেছেন সব কিছু ঠিকঠাকই চলছে। তাঁর কথায়, ‘‘সেখান থেকে একটি শিশু পালানোর চেষ্টা করেছিল। তাকে ফিরিয়ে আনা হয়।’’ অভিভাবকদের অভিযোগ, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার হোমে থাকতে না পেরে ওই ছেলেটি পালানোর চেষ্টা করেছিল। জেলা বিজেপি সভাপতি ক্ষীতীশরঞ্জন বলেন, ‘‘হাইলাকান্দিতে জাপানি এনসেফ্যালাইটিস জ্বরে অনেকে মারা গিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে উদ্ধার হওয়া ওই শিশুগুলিতে বিনা মশারিতে অপরিচ্ছন্ন ঘরে রেখে দেওয়া হয়েছিল। এটা অত্যন্তই অমানবিক।’’ তিনি ওই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

স্বেচ্ছাসেবী ওই সংস্থার সভাপতি কবির আহমেদ চৌধুরীর অবশ্য সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে বলেন, ‘‘এ সবই সাজানো গল্প।’’

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy