Advertisement
E-Paper

উন্নয়নের দাবিতে ভোট বয়কটের চিন্তা

কথা রাখেননি কেউ। পঞ্চায়েতের নেতা থেকে বিধায়ক, সাংসদ এমনকী মন্ত্রীও। হাইলাকান্দি বিধানসভা কেন্দ্রের হাজার পঞ্চাশেক মানুষের বাস বড়ইলাকান্দি বাশডহর (পূর্ব হাইলাকান্দি) তাই যে তিমিরে ছিল সেখানে রয়েছে।

অমিত রঞ্জন দাস

শেষ আপডেট: ০৭ অক্টোবর ২০১৫ ০২:৫৩

কথা রাখেননি কেউ। পঞ্চায়েতের নেতা থেকে বিধায়ক, সাংসদ এমনকী মন্ত্রীও। হাইলাকান্দি বিধানসভা কেন্দ্রের হাজার পঞ্চাশেক মানুষের বাস বড়ইলাকান্দি বাশডহর (পূর্ব হাইলাকান্দি) তাই যে তিমিরে ছিল সেখানে রয়েছে। এই অবস্থায় তাঁরা ভোট বয়কটের কথা ভাবছেন।

প্রতি নির্বাচনের আগে গ্রামে এসে প্রতিশ্রুতির বন্যা বইয়ে যান নেতারা। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় না—এ অভিযোগ এলাকার মানুষের। তাঁদের দাবি, ফের ভোট আসছে। তাই ফের নেতারা গ্রামে এসে প্রতিশ্রুতি দেবেন, কিন্তু কথা রাখবেন না।

এমন অভিযোগ আরও অনেকের মতো মানিকউদ্দিন বড়ভুঁইয়ারও। পেশায় শিক্ষক মানিকউদ্দিন তাই এ বার ভোটের আগেই গ্রামের উন্নয়নের দাবিতে আওয়াজ তুলেছেন। গ্রামে গ্রামে চলছে সভা। তাঁদের দাবি, বিধানসভা ভোটের আগে রাস্তা, জল, বিদ্যুৎ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ব্যবস্থা করতেই হবে। মঙ্গলবার হাইলাকান্দির এই প্রাচীন গ্রামে গেলে বাসিন্দারা শোনালেন তাদের দুঃখের সাতকাহন। স্বাধীনতার ছয় দশক পরেও এলাকায় উন্নয়নের ছোয়া লাগেনি বলে জানান সড়ক সংস্কার সংগ্রাম সমিতির সম্পাদক সামসুক ইসলাম চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘‘স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে মন্ত্রী আব্দুল মতলিব মজুমদার থেকে শুরু করে বর্তমান বিধায়ক তথা তার পুত্র আব্দুল মুহিব মজুমদার কেউই কথা রাখেননি। এলাকার মানুষকে এত দিন ধরে কেবল ভোটার হিসাবে ব্যাবহার করা হয়েছে। তাঁদের বা এলাকার উন্নয়নের কথা একবারের জন্যও ভাবেননি কেউই।’’

গ্রামবাসীরা জানান, এই বিধানসভা কেন্দ্র থেকে আব্দুর রহমান চৌধুরী, দীপক ভট্টাচার্য, রামপিরিত রুদ্রপাল, চিত্তেন্দ্রনাথ মজুমদার, সাহাবউদ্দিন চৌধুরী, হাজি সেলিমউদ্দিন বড়ভুইয়া বিধায়ক হয়েছেন। প্রত্যেকেই স্থানীয় মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে গিয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, এখনও এলাকার মানুষকে বাঁশের মাচায় করে রোগীকে বয়ে নিয়ে যেতে হয় শহরের হাসপাতালে। এলাকাবাসীকে বর্ষাকালে হাতে চপ্পল, কাঁধে সাইকেল নিয়ে যাতায়াত করতে হয়। সরকারি উন্নয়ন থেকে এলাকার মানুষ বঞ্চিত। তাই তাঁরা হুমকি দিয়েছেন, বিধানসভা ভোটের আগে এলাকার উন্নয়নে হাত দেওয়া না হলে তারা গণ আন্দোলন গড়ে তুলবেন। গ্রামের মানুষ জেলার মন্ত্রী গৌতম রায় ও সাংসদ রাধেশ্যাম বিশ্বাসের সমালোচনা করেছেন। তাঁরা জানান, গ্রামে সভা ডেকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, বিধানসভা ভোটের আগে এলাকার উন্নয়ন না হলে ভোট বয়কটের ডাক দেওয়া হবে। এ জন্য পূর্ব হাইলাকান্দি গণ সংগ্রাম সমিতি নামে তাঁরা একটি সংস্থা গড়েছেন। অরাজনৈতিক এই সংস্থা এলাকার উন্নয়নে গণতান্ত্রিক ভাবে আন্দোলন চালাবে। তাঁদের ঘোষণা, বৃহত্তর পূর্ব হাইলাকান্দির মানুষ উন্নয়নহীনতার প্রতিবাদে ভোট বয়কটের পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিতে চলেছেন।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy