মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পওয়ারের মৃত্যু কি দুর্ঘটনার কারণে? এই নিয়ে যখন প্রশ্ন উঠেছে, তখন শরদ পওয়ারের সম্পর্কে নাতি তথা এনসিপি (এসপি) বিধায়ক রোহিত পওয়ার দাবি করলেন, দুর্ঘটনার তদন্ত শেষ না-হওয়া পর্যন্ত কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমানমন্ত্রীর পদ থেকে অপসারিত করা হোক কে রামমোহন নাইডুকে। অজিতের বিমানে কেন জ্বালানির অতিরিক্ত ট্যাঙ্ক ছিল, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি। অজিতের স্ত্রী সুনেত্রা পওয়ার স্বামীর মৃত্যু নিয়ে সংশয় দূর করতে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডণবীসের কাছে সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। ঘটনাচক্রে স্বামীর মৃত্যুর পরে রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন তিনি।
অজিতের মৃত্যু নিয়ে আগেও সরব হয়েছিলেন রোহিত। এ বার তিনি একটি রিপোর্টের কথা উল্লেখ করে জানান, ওই বিমানের ট্যাঙ্কে জ্বালানি পূর্ণ ছিল। অতিরিক্ত জ্বালানি বহন করার কোনও প্রয়োজনই ছিল না। হায়দরাবাদে গিয়ে জ্বালানি ভরলেই চলত। রোহিতের অভিযোগ, জ্বালানি পুনরায় ভরার খরচ বাঁচাতেই বিমানে অতিরিক্ত ট্যাঙ্ক রাখা হয়েছিল। সেই ট্যাঙ্ক ‘বোমার’ কাজ করেছিল বলে দাবি বিধায়কের। দৃশ্যমানতা খারাপ থাকা সত্ত্বেও কেন উড়েছিল বিমান, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। তাঁর আরও প্রশ্ন, বিপদ বুঝে কেন বিমানটি মুম্বইয়ে ফিরে গেল না?
অসামরিক বিমানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে সরাসরি কোনও অভিযোগ করেননি রোহিত। তবে তিনি জানিয়েছেন, ওই বিমানের অপারেটর সংস্থা ভিএসআরের সঙ্গে ‘ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক’ রয়েছে রামমোহনের। গত বছর সংস্থার এক কর্তা রোহিত সিংহের বিয়েতে জয়পুরে গিয়েছিলেন তিনি। সেই প্রসঙ্গ তুলে ধরে চলতি তদন্তের স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শরদের নাতি। তাঁর কথায়, ‘‘যাঁরা প্রশ্নের মুখে, তাঁদের সঙ্গে তদন্তকারীদের ঘনিষ্ঠতা থাকলে আমরা স্বচ্ছ তদন্ত কী ভাবে আশা করব?’’ তিনি তদন্ত পর্যবেক্ষণের জন্য উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করার দাবি করেছেন। সেই কমিটিতে প্রাক্তন আমলা, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি, লোকসভার বিরোধী দলনেতা এবং পওয়ার পরিবারের সদস্যদের রাখারও দাবি করেছেন। সেই সঙ্গে সুনেত্রার মতো তিনিও সিবিআই তদন্তের দাবি করেছেন।
ভিএসআর সংস্থার দিকেও আঙুল তুলেছেন রোহিত। তিনি জানান, ওই সংস্থার বিরুদ্ধে আগেও অভিযোগ উঠেছে। ২০২৩ সালে একটি দুর্ঘটনার সঙ্গেও নাম জড়িয়েছিল এই সংস্থার। তাই দেশে যে সব বিমান তারা পরিচালনা করছে, সেগুলির ওঠানামা এখনই বন্ধ করে দেওয়া উচিত। বিমানের ব্ল্যাক বক্স কী ভাবে জ্বলে গেল, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি। রোহিতের দাবি, এটি আসলে ‘সাজানো অজুহাত’। দুর্ঘটনার আগে ঠিক কী ঘটেছিল, সেই প্রমাণ নষ্ট করার জন্যই এই ‘অজুহাত’ দেওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়, ‘‘ব্ল্যাকবক্স গ্রীষ্ম, বর্ষা, শীত, বিস্ফোরণ থেকে বাঁচতে পারে, কিন্তু রাজনীতি থেকে নয়।’’ তদন্তে দেরি হচ্ছে বলে সংস্থা অনেক প্রমাণ নষ্ট করতে পারে বলেও অভিযোগ রোহিতের।
এই একই প্রশ্ন তুলেছেন শিবসেনার উদ্ধব গোষ্ঠীর নেতা সঞ্জয় রাউত। তাঁর কথায়, ‘‘দুর্ঘটনার কুড়ি বছর পরেও অক্ষত ভাবে ব্ল্যাক বক্স উদ্ধার হয়েছে। ওই বক্স এমন পদার্থ দিয়ে তৈরি হয় যে, আগুন বা জলে কোনও ক্ষতি হয় না।’’ রাউতের প্রশ্ন, ‘‘তা হলে এ ক্ষেত্রে কী ভাবে আগুনে জ্বলে গেল ওই ব্ল্যাক বক্স? তা হলে পওয়ার পরিবারের সদস্য রোহিত পওয়ার যে ষড়যন্ত্রের কথা বলেছেন, তা কি ঠিক?’’
এর আগে রোহিত দাবি করেছিলেন, সে দিন পুণায় এক বড় মাপের নেতার সঙ্গে দেখা করার কথা ছিল অজিতের। মনে করা হচ্ছিল, কাকা শরদ পওয়ারের সঙ্গে হাত মিলিয়ে পওয়ার-পরিবারকে এক জোট করার পরিকল্পনা ছিল অজিতের। এই আবহে দুর্ঘটনার দিনে মুম্বই থেকে পুণে অজিতের সড়কপথে আসা চূড়ান্ত হলেও শেষ মুহূর্তে তা বাতিল করে বিমানে করে আসার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
কার পরামর্শে, কেন শেষ মুহূর্তে ওই পরিবর্তন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রোহিত। এর আগে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও দুর্ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘‘আমি শুনেছিলাম কোনও এক দলের নেতা দাবি করেছিলেন অজিত বিজেপির সঙ্গে ছাড়তে চলেছেন। তার পরে আজ এই ঘটনা ঘটল। আমি চাই, সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে গোটা ঘটনার তদন্ত হোক।’’