শেষ পর্যন্ত ক্ষমাই চাইতে হল গ্রেটার নয়ডার বিশ্ববিদ্যালয়কে। নয়াদিল্লির এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) সম্মেলনে চিনা রোবট-কুকুরকে নিজেদের নামে চালানোর অভিযোগ উঠেছিল গ্যালগটিয়াস বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে। বিতর্কের মাঝে সম্মেলনের আয়োজকেরা ওই বিশ্ববিদ্যালয়কে তাদের ‘প্রজেক্ট’ সরিয়ে নিয়ে যেতে বলেন। তার পর বুধবার ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চাইলেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এই নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলনকে কেন্দ্র করে তিন দিনের মধ্যে দু’টি বড়সড় লজ্জার মুখে পড়তে হল ভারতকে।
নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে পাঁচ দিনের এআই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। এসেছেন দেশি-বিদেশি বহু অতিথি। বুধবার ছিল তার তৃতীয় দিন। কিন্তু প্রথম দিনেই আয়োজকদের মুখ পুড়েছে। আয়োজনের একাধিক ‘ত্রুটি’র জন্য ক্ষমা চাইতে হয়েছে খোদ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবকে। বুধবার গ্রেটার নয়ডার বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনার পর বিতর্ক আরও বাড়ছিল। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই বিতর্কের দায় চাপিয়েছেন অধ্যাপক নেহা সিংহের উপরেই। দাবি, নেহা না-জেনে সংবাদমাধ্যমে মুখ খুলেছেন। প্রতিষ্ঠানের তরফে চিনা পণ্যকে নিজেদের বলে চালানোর অভিপ্রায় ছিল না বলেও দাবি করা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে এআই সম্মেলনে যে রোবট-কুকুর প্রদর্শন করা হয়, তার পোশাকি নাম ‘ওরিয়ন’। অধ্যাপক নেহা মঙ্গলবার ডিডি নিউজ়কে জানান, বিশ্ববিদ্যালয় সাড়ে ৩০০ কোটি টাকার প্রকল্পের অধীনে ওই রোবট তৈরি করেছে! এর পরেই সমাজমাধ্যমে বিতর্ক শুরু হয়। অনেকেই চিনে তৈরি রোবট ‘ইউনিট্রি গো-২’-এর সঙ্গে ‘ওরিয়ন’-এর মিল পান। বাণিজ্যিক কারণে ওই রোবট ব্যবহার করে চিন। অনলাইনেও কিনতে পাওয়া যায়। ভারতীয় মুদ্রায় দাম প্রায় ২ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা।
কর্তৃপক্ষ বিবৃতিতে স্বীকার করে নিয়েছে, পণ্যটি তাদের নিজস্ব নয়। তারা বলেছে, ‘‘আমাদের যে প্রতিনিধি প্যাভিলিয়নের দায়িত্বে ছিলেন, তিনি ভাল করে বিষয়টি জানতেন না। সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার অনুমতিও তাঁকে দেওয়া হয়নি। তা সত্ত্বেও তিনি বলেছেন। পণ্যটির উৎস সম্পর্কে ওঁর কোনও ধারণা ছিল না। ক্যামেরার সামনে কথা বলার উত্তেজনায় তিনি ভুল তথ্য উপস্থাপন করেছেন। এর নেপথ্যে প্রাতিষ্ঠানিক কোনও অভিপ্রায় ছিল না।’’ আয়োজকদের নির্দেশে সম্মেলন ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছে গ্যালগটিয়াস।
নিজের বক্তব্যের ‘ব্যাখ্যা’ দিয়েছেন নেহাও। সংবাদসংস্থা পিটিআইকে তিনি বলেছেন, ‘‘কিছু বিষয় স্পষ্ট ভাবে প্রকাশ করা হয়নি এবং উদ্দেশ্যগুলি বুঝতে ভুল হয়েছে। তাই বিতর্ক হয়েছে।’’
নয়াদিল্লির এআই সম্মেলন প্রথম দিন থেকেই বিতর্কে। একে ‘বিশ্বের বৃহত্তম এআই সম্মেলনে’ বলে দাবি করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। কিন্তু অভিযোগ, প্রথম দিন সম্মেলনে ইন্টারনেট সংযোগই ঠিক ছিল না! ঠিকমতো কাজ করছিল না ওয়াই-ফাই। এমনকি, ডিজিটাল মাধ্যমে আর্থিক লেনদেন, দোকানের বিল মেটাতেও সমস্যায় পড়তে হয়েছে অতিথিদের। তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ স্তরের এমন একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে কেন ডিজিটাল মাধ্যমে ‘হোঁচট’ খেতে হচ্ছে, প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকে। সমাজমাধ্যমেও তা নিয়ে কেউ কেউ ক্ষোভ উগরে দেন। সংবাদসংস্থায় দাবি, ভারত মণ্ডপমে ইন্টারনেট পরিষেবা মঙ্গলবারও স্বাভাবিক হয়নি।
অশ্বিনী জানিয়েছিলেন, সোমবার এআই সম্মেলনে যোগ দেন ৭০ হাজারের বেশি মানুষ। প্রথম দিনের আয়োজনের ত্রুটি শুধরে নেওয়ার বার্তাও দেন তিনি। বলেন, ‘‘এটা বিশ্বের সবচেয়ে বড় এআই সম্মেলন। বহু মানুষ এসেছেন। এখন আয়োজন মসৃণ। যদি সোমবার কেউ কোনও সমস্যায় পড়ে থাকেন, আমরা তার জন্য ক্ষমা চাইছি।’’ এ বার নয়ডার বিশ্ববিদ্যালয়ের কারণেও আন্তর্জাতিক মানের সম্মেলনে লজ্জার মুখে প়ড়তে হল সরকারকে।