দিন পনেরো আগে হঠাই অসুস্থ। তড়িঘড়ি হাসপাতালে ভর্তি হন। এখন কেমন আছেন নবনীতা দাস? নিছক খোঁজ নিতেই যোগাযোগ করেছিল আনন্দবাজার ডট কম। অভিনয়ে অনেক দিন নেই। কেবল জীতু কমলের প্রসঙ্গ উঠলেই তাঁর নাম আলোচনায় উঠে আসে।
টেলিপাড়া কি একেবারেই ভুলে গেল নবনীতা দাসকে? অনেকটা সময় তিনিও অভিনয় থেকে দূরে! লাইট-সাউন্ড-ক্যামেরা-অ্যাকশন শব্দগুলোও কি তাঁকে আর টানে না?
ঝুলিতে একাধিক ধারাবাহিক থাকলেও নবনীতা বেশি জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘সাধক বামাক্ষ্যাপা’য় ‘মা তারা’র চরিত্রে অভিনয় করে। আবার ধারাবাহিক ‘অর্ধাঙ্গিনী’ বাস্তবে তাঁকে অভিনেতা জীতু কমলের ‘অর্ধাঙ্গিনী’তে পরিণত করেছিল। যাঁর জীবনে ছোটপর্দা ওতপ্রোত ভাবে জড়িত, তিনি কবে অভিনয়ে ফিরবেন? প্রশ্ন ছিল নবনীতার কাছে। কথার শুরুতে অভিনেত্রী জানান, এখন ভাল আছেন তিনি। আগের মতোই সুস্থ। অভিনয়প্রসঙ্গে তিনি অকপট, “বিশ্বাস করুন, এখনই অভিনয়ে ফেরার তাগিদটাই আর অনুভব করি না! এখন যে ভাবে দিন কাটছে, কী যে ভাল লাগছে!”
নবনীতাকে আগের মতো ১৮ বা ১৪ ঘণ্টা ধরে শুটিং করতে হয় না। কোনও কালেই তিনি শুটিং শেষে ‘গসিপিং’ করতেন না। “বরাবর শুট শেষে বাড়ি ফিরেছি। ইন্ডাস্ট্রিতে আমার তেমন বন্ধু নেই। তার জন্য আক্ষেপও নেই। ফলে, তাঁদের সঙ্গে আড্ডা দিতে না পারার খারাপ লাগাটাও নেই।” একা একা নিজের মতো করে জীবনযাপনই তাঁর কাছে শান্তির। তাঁর কাছে বেশি উপভোগ্য। কেবল জীতু কমলের প্রসঙ্গ এলে, নবনীতাকে সকলের মনে পড়ে, এখনও! খারাপ লাগে? “না লাগে না”, সাফ জবাব তাঁর। যুক্তিও দিয়েছেন নবনীতা। বলেছেন, “দেড় বছর হয়ে গিয়েছে বিচ্ছেদ হয়েছে। জীতু কমল নামটাই আর ছোঁয় না! ওর ‘প্রাক্তন’, ওর জীবনে ছিলাম, অতীত হয়ে গিয়েছি— এসব আমার কাছে মূল্যহীন।”
সাঁতারের পোশাকে নবনীতা দাস। ছবি: ফেসবুক।
নবনীতা বেঙ্গালুরুতে বন্ধুদের নিয়ে আইটি অফিস খুলেছেন। “মাঝেমধ্যে যাই সেখানে। বাকি কাজ কলকাতা থেকেই করি।” তার মানে তিনি অভিনয়ে ফিরবেন না, এমনও নয়। ভাল চরিত্র, ভাল গল্প পেলে রাজি অভিনেত্রী। জানিয়েছেন, আগে তাঁর উপার্জন বলতে শুধুই অভিনয় ছিল। এখন সেটা নয়। ফলে, এখন তাঁর ভাল চরিত্র, পছন্দসই গল্পের খিদে বেড়েছে। কাজ থেকে ফুরসত মিললেই তাই অভিনেত্রী ইদানীং বেরিয়ে পড়েন। নিজেকে নতুন করে খুঁজে পেতে। তাঁর কথায়, “অনেক ছোট থেকে অভিনয় করছি। নিজের জন্য কখনও বাঁচিনি। এখন সেটাই বাঁচছি। এতেই ভাল আছি আমি।”