জাতীয় নাগরিক পঞ্জিতে (এনআরসি) নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য খুঁজতে গিয়ে হঠাত্ তাঁর হাতে উঠে এল ব্রিটিশ সরকারের দেওয়া একটি রূপোর পদক। এই পদককেই তাঁদের ভারতীয়ত্বের শ্রেষ্ঠ নিদর্শন বলে মনে করছেন হাইলাকান্দি জেলার নারায়ণপুরের সরাফত আলি ও তাঁর পরিবার। তবে এনআরসি-র আবেদনে তা যে গণ্য করা হবে না তাও জানেন তাঁরা।
সরাফত আলি আরও বহু পরিবারের মতোই এনআরসি সংক্রান্ত নথিপত্র খুঁজছিলেন। হঠাৎ পোঁটলার ভিতর থেকে পান রৌপ পদকটি। রাজা জর্জের মাথার ছবি অঙ্কিত রয়েছে পদকে। সময় কাল উল্লেখ করা আছে ‘১৯৩৯ থেকে ১৯৪৫’। পদকের কিনারায় লেখা ছিল সুরমান আলি-র নাম। সুরমান আলি হচ্ছেন সরাফত আলির পিতা। তিনি ব্রিটিশ ভারতে সেনাবাহিনীতে কাজ করতেন। পুরস্কার স্বরূপ প্রদান করা হয়েছিল। কথাটা জানতেন সরাফত ও তাঁর পরিবার। পিতার কাছে যুদ্ধের অনেক গল্পও শুনেছিলেন তাঁরা। শুনেছিলেন ব্রিটিশ ভারতের বহু কথা ও কাহিনী। ব্রিটিশ সরকারের দেওয়া পুরস্কারের গল্পও শুনেছিলেন সরাফতরা। কিন্তু পদকটি কখনও চোখে দেখেননি। গল্প কথাও প্রায় ভুলতেই বসেছিলেন তাঁরা। হঠাৎ পদক পেতেই উত্ফুল্ল পরিবারের সদস্যরা।
এনআরসি প্রক্রিয়া অসমের বিভিন্ন পরিবারে হারিয়ে যাওয়া অসংখ্য সম্পর্কের জোড়া যেমন লাগাচ্ছে, তেমনই ফিরিয়ে দিচ্ছে বহু হারিয়ে যাওয়া নথি। উস্কে দিচ্ছে স্মৃতি। এই পদকে সরাফতদের ভারতীয় নাগরিকত্বকে ষোলআনা সিদ্ধ করলেও এরআরসি-র ক্ষেত্রে তা প্রামান্য হবে না। তার জন্য অবশ্য অন্য নথি তাদের জমা দিতে হচ্ছে। তবে এই পদক প্রাপ্তি তাদের পরিবারকে সামাজিক সম্মান এনে দিয়েছে।
সরাফতরা ছয় ভাই। বৃহস্পতিবার এই পদকটি নিয়ে সরাফত হাইলাকান্দি শহরের একটি ফটোকপির দোকানে এসেছিলেন তার ফটোকপি করাতে। দোকানি বাপ্পি দেব পদকটি হাতে নিয়ে হতভম্ব হয়ে যান। কী করে এটির ফটোকপি করবেন? তিনি সরাফত আলিকে বুঝিয়ে বলেন, পদকটির ফটোকপি হবে না, ফটো তোলানো যায়। তাকে এনআরসি-র জন্য অন্য কোনও নথি জমা করতে হবে। এখানে দাঁড়িয়েই সরাফত তার পদক প্রাপ্তির গল্প শোনালেন। বৃহস্পতিবার তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, এনআরসি-র জন্য প্রয়োজনীয় নথি যোগাড় করতে পেরেছেন। তবে এই নথি খুঁজতে গিয়ে তাদের পরিবারের অমূল্য সম্পদটি পদক হাতে পাওয়ায় তারা যে বেজায় খুশি এ কথা জানাতে ভোলেননি সরাফত।