বিজেপির বিরুদ্ধে ধার বাড়ছে শিবসেনার। নরেন্দ্র মোদী কিন্তু প্রাক্তন শরিকের বিরুদ্ধে পাল্টা আক্রমণে যেতে নারাজ। প্রয়াত বালাসাহেব ঠাকরের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শিবসেনাকে আক্রমণ করা থেকে বিরত থাকার কৌশল নিয়েছেন তিনি। শিবসেনার মতো বিজেপিরও লক্ষ্য মহারাষ্ট্রে যতটা সম্ভব বেশি আসনে জেতা। কিন্তু একই সঙ্গে ভোট-পরবর্তী সময়ে শিবসেনার সঙ্গে জোটের রাস্তা খোলা রাখতেই মোদী এই কৌশল নিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে। একই উদ্দেশ্যে মোদীকে সরাসরি আক্রমণ করছেন না শিবসেনা-প্রধান উদ্ধব ঠাকরেও।
ভোটের দশ দিন আগে মহারাষ্ট্রের তাসগাঁওয়ে আজ জনসভা করেন প্রধানমন্ত্রী। ওই সভায় শিবসেনা-সহ প্রতিপক্ষের সব আক্রমণের জবাব দেবেন বলেই মনে করা হচ্ছিল। কিন্তু এনসিপি-প্রধান শরদ পওয়ারকে তীব্র আক্রমণ করলেও মোদী এ দিন স্পষ্ট জানিয়ে দেন, শিবসেনাকে জবাব দেবেন না তিনি। তাঁর কথায়, “বালাসাহেবের অবর্তমানে এই প্রথম ভোট হচ্ছে। তাই শিবসেনার বিরুদ্ধে কোনও কথা বলব না। কিছু কিছু আবেগ রাজনীতির ঊর্ধ্বে।”
সন্দেহ নেই বালাসাহেবের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মরাঠা আবেগকে বিজেপির ভোটব্যাঙ্ক বাড়ানোর কাজে লাগাতে চাইছেন মোদী। সিকি শতকের জোটসঙ্গীর বিরুদ্ধে প্রথম বার ভোট-প্রচারে নেমে বিশেষ কৌশল নিতে হচ্ছে উদ্ধবকেও। লোকসভা ভোটে তুমুল মোদী-ঝড় দেখেছে মহারাষ্ট্র। সে কথা স্মরণ রাখতে হচ্ছে তাঁকে। উদ্ধব তাই বিজেপির বিরুদ্ধে আক্রমণ শানালেও, লক্ষ্যণীয় ভাবে মোদীকে নিশানা করছেন না। বরং এক সভায় তিনি এমনও বলেছেন, “মোদীর প্রধানমন্ত্রী হওয়া নিয়ে আমার কোনও সমস্যা নেই। জোট ভেঙেছেন রাজ্য বিজেপি নেতারা।”
কংগ্রেস-এনসিপি ও বিজেপি-শিবসেনা জোট ভাঙার পরে আপাত ভাবে রাজ্যে লড়াই হচ্ছে পাঁচমুখী। কিন্তু ভোটের পরে বিজেপির সঙ্গে জোটের রাস্তা খোলা রেখে চলতে চাইছে শিবসেনাও। তাদেরও লক্ষ্য, বেশি আসনে জিতে দর কষাকষিতে এগিয়ে থাকা। আদর্শ আচরণবিধি চালু থাকায় এ বার দশেরার সময়ে শিবাজি পার্কে তাদের বাৎসরিক পুজোয় কোনও প্রচার করতে পারেনি শিবসেনা। তাই বোরিভলীর কোড়া কেন্দ্রে দশেরা সভার আয়োজন করা হয়। সেখানে বিজেপি-সহ প্রতিপক্ষকে তোপ দাগেন উদ্ধব।
ওই সভায় মুম্বইয়ের গুজরাতি সম্প্রদায়ের কথা উল্লেখ করে উদ্ধব বলেন, “১৯৯২ সালে শিবসেনা না থাকলে গুজরাতিরা মুম্বই ছেড়ে পালাতে বাধ্য হতেন।” এটা ঘটনা, শিবসেনা বরাবরই মরাঠি আবেগের রাজনীতি করে। এখন মোদীর প্রতি গুজরাতিদের সমর্থনেও ভাগ বসাতে তৎপর উদ্ধব। সে কারণেই ১৯৯২-এর প্রসঙ্গ টেনে উদ্ধব বোঝাতে চাইছেন শিবসেনা শুধু মরাঠিদের নয়, গুজরাতি-সহ সব হিন্দুর রক্ষাকর্তা।
বিজেপিকে আক্রমণের ব্যাপারে আজ উদ্ধবের চেয়েও এক ধাপ এগিয়ে যান তাঁর ছেলে আদিত্য। তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন, শিবসেনাকে ছুরি মেরেছে বিজেপি। মহারাষ্ট্রে শক্তি বাড়াতে শিবসেনাকে ব্যবহার করেছে তারা। তার পরে কেন্দ্রে ক্ষমতায় এসে শিবসেনাকে অবহেলা করেছে। আদিত্যর মতে, বিজেপি বালাসাহেব ঠাকরের স্মৃতিকেও অপমান করেছে।
কার্যত শিবসেনার তরফে এমন অভিযোগ আসবে বুঝেই মোক্ষম চাল দিয়েছেন মোদী। তাসগাঁওয়ের সভায় বালসাহেবের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শিবসেনা সম্পর্কে নীরব থাকেন তিনি। আক্রমণ শানান এনসিপি-র বিরুদ্ধে। তাসগাঁওয়ে এনসিপি-র প্রার্থী, রাজ্যের প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আর আর পাটিল। বিজেপির প্রার্থী প্রাক্তন কংগ্রেস বিধায়ক অজিত ঘোরপাড়ে।
অনেকেই মনে করছেন, মহারাষ্ট্রে এ বার একক শক্তিতে কোনও দলই ক্ষমতা দখল করতে পারবে না। ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠছে, সেই অঙ্ক মাথায় রেখেই জোটপথে কাঁটা বিছিয়ে রাখতে চাইছেন না মোদী-উদ্ধবরা।