যখন-তখন জট পড়ে চুলে? তাই দিনের বেলায় মাথায় অল্প তেল মাখার অভ্যাস? মাথা ধোয়ার আগেও তেল মালিশ করেন? কিন্তু গরম বাড়লে তেলের প্রতি অভক্তি তৈরি হয়। তেল চিটচিটে মাথায় বাড়তে থাকে অস্বস্তি। মাথার ত্বক ঘামতেও শুরু করে। সে সময়ে এমন কিছু মাখলে ভাল হয়, যাতে জটের সমস্যাও কমবে আবার গরমও লাগবে না। আর সেই মিশ্রণ মাখার পর শ্যাম্পু করাও বাধ্যতামূলক নয়।
সব দিক দিয়ে সুবিধাজনক বিকল্প প্রয়োজন হাতের নাগালে। আর তার জন্য পরিশ্রম করারও দরকার নেই। ঘরেই খুব সহজে এমন স্প্রে বানিয়ে নিতে পারেন। এটি গরমের সময়ে আরামদায়ক, কারণ মাথার ত্বকে তাৎক্ষণিক ঠান্ডা ভাব অনুভব করবেন। দেখে নিন, কোন কোন সিরাম বা জেল স্প্রে হিসেবে বানাবেন।
জট থেকে রেহাই মিলবে তেল ছাড়াই। ছবি: সংগৃহীত
প্রথম স্প্রে
অ্যালো ভেরা মাথার ত্বককে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে। আবার গ্রিন টি চুলের গোড়া মজবুত করতে পারে। এক কাপ ঠান্ডা গ্রিন টি-র সঙ্গে দু’চামচ অ্যালো ভেরার রস মিশিয়ে স্প্রে বোতলে রেখে দেওয়া যায়। ভাল করে ঝাঁকিয়ে নিতে হবে দু’টিকে মেশানোর জন্য। সপ্তাহে কয়েক বার এই স্প্রে ব্যবহার করলে মাথার ত্বক সতেজ থাকবে এবং চুলও তুলনামূলক মসৃণ থাকবে। স্নানের পর সিক্ত চুলে স্প্রে মেখে নিলে উপকার মিলবে।
দ্বিতীয় স্প্রে
শসা ও পুদিনা দিয়ে ঠান্ডা হেয়ার স্প্রে বানিয়ে নিন ঘরে। গরমে মাথা দ্রুত গরম হয়ে যায় এবং ঘাম জমে। এই সমস্যা থেকে রেহাই পেতে শসা ও পুদিনা দিয়ে তৈরি হেয়ার স্প্রে খুব উপকারী হতে পারে। অর্ধেক শসা ব্লেন্ড করে তার রস ছেঁকে নিন। এর সঙ্গে আধ কাপ জল ও কয়েকটি পুদিনা পাতা (অথবা পুদিনা পাউডার) মিশিয়ে কিছু ক্ষণ রেখে দিন। তার পর ছেঁকে স্প্রে বোতলে ভরে নিন। বাইরে থেকে ফিরে অথবা স্নানের পর ভেজা মাথায় এই স্প্রে ব্যবহার করা যায়। শসা মাথার ত্বককে আর্দ্র রাখে এবং পুদিনা ঠান্ডা অনুভূতি দেয়। এতে মাথার ত্বক সতেজ থাকে এবং চুলও কম চিটচিটে লাগে।
তৃতীয় স্প্রে
মেথি ও রোজ়মেরি দিয়ে তৈরি জলও গরমের দিনে ভাল হেয়ার স্প্রে হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এক চামচ মেথি ও সামান্য রোজ়মেরি জলে ফুটিয়ে ঠান্ডা করে নিন। তার পর ছেঁকে স্প্রে বোতলে ভরে রাখুন। এই স্প্রে মাথার ত্বকে লাগালে রক্তসঞ্চালন বাড়ে, ফলে চুলের গোড়া শক্ত হতে পারে এবং চুল পড়াও কমতে পারে।