Advertisement
E-Paper

গ্যাস বাঁচান ১০টি সহজ উপায়ে! রান্নার সময়ে মেনে চলুন কয়েকটি নিয়ম, কমবে অপচয়

রান্নার পদ্ধতিতে সামান্য কিছু বদল আনলেই এলপিজি ব্যবহার অনেকটাই কমানো সম্ভব। কয়েকটি সহজ অভ্যাস মেনে চললে প্রায় অর্ধেক জ্বালানি বাঁচানো যেতে পারে। কী সেগুলি?

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৬ মার্চ ২০২৬ ১১:০৯

ছবি: সংগৃহীত।

রান্নার গ্যাসে টান পড়েছে। এক দিকে, সরবরাহ কমেছে। অন্য দিকে, অতিরিক্ত দামে এলপিজি বিক্রি হচ্ছে বলেও অভিযোগ। সম্প্রতি এক পুষ্টিবিদ সমাজমাধ্যমে নিজের পাতায় একটি পোস্ট করেছেন। ইতিমধ্যেই সেই পোস্ট ভাইরাল। সেখানে তিনি দেখিয়েছেন, রান্নার পদ্ধতিতে সামান্য কিছু বদল আনলেই এলপিজি ব্যবহার অনেকটাই কমানো সম্ভব। তাঁর সঙ্গে সহমত হয়েছেন অনেক নেটাগরিক। এই ধরনের সহজ অভ্যাস মেনে চললে প্রায় অর্ধেক জ্বালানি বাঁচানো যেতে পারে।

রান্নার সময়ে ১০টি টিপ্‌স মেনে চললে এলপিজি খরচ কমবে অনেকটাই, জেনে নিন কী কী বলেছেন সেই পুষ্টিবিদ—

১. প্রেশার কুকারের ব্যবহার বাড়ান

প্রেশার কুকার ব্যবহার করলে রান্না করার সময় প্রায় ৩০-৭০ শতাংশ কমে যেতে পারে। বিশেষ করে, বিন্‌স, ডাল, আলুর তরকারি ইত্যাদি বানানোর জন্য সর্বদা প্রেশার কুকার ব্যবহার করা উচিত বলে মত তাঁর। কারণ প্রেশার কুকারে উচ্চচাপে রান্না হয় এবং জলের স্ফুটনাঙ্ক অনেকটাই বেড়ে যায়। তাই দ্রুত রান্না হয় এই বাসনে।

২. রান্নার আগে ভিজিয়ে রাখুন

ডাল, ছোলা বা চাল আগে থেকে কিছু ক্ষণ জলে ভিজিয়ে রাখলে সেগুলি দ্রুত সিদ্ধ হয়। ফলে রান্নার সময় কম লাগে এবং এলপিজির ব্যবহারও অনেকটাই কমে যায়।

৩. ঢাকা দিয়ে রান্না করুন

অনেকেই হাঁড়ি বা কড়াই খোলা রেখে রান্না করেন। এতে তাপ দ্রুত বেরিয়ে যায়। ঢাকনা দিয়ে রান্না করলে তাপ আটকে থাকে, খাবার দ্রুত সেদ্ধ হয় এবং জ্বালানিও কম লাগে। এতে প্রায় ২০-২৫ শতাংশ পর্যন্ত জ্বালানি সাশ্রয় হতে পারে।

৪. সব্জি কাটুন ছোট করে

যত ছোট আকারে আনাজ কাটবেন, তত দ্রুত তাতে তাপ প্রবেশ করবে এবং তাড়াতাড়ি সেদ্ধ হবে। গ্যাসের খরচও কমানো যাবে এই পদ্ধতিতে। বড় টুকরোর বদলে সব্জি বা মাছ-মাংস ছোট করে কাটার অভ্যাস শুরু করুন।

৫. এক সঙ্গে একাধিক রান্না করুন

একই সময়ে একাধিক খাবার রান্না করলে জ্বালানি বাঁচে। যেমন প্রেশার কুকারের একেবারে নীচের স্তরে ডাল, তার উপরে চাল বা অন্য সব্জি রাখা যেতে পারে বাটি করে। এতে এক বার জ্বালানি ব্যবহার করেই একাধিক পদ রান্না হয়ে যায়।

৬. বার্নার পরিষ্কার রাখুন

বার্নারের ছিদ্র বন্ধ হয়ে গেলে আগুন ঠিক ভাবে জ্বলে না। তখন রান্না করতে বেশি সময় লাগে এবং গ্যাস অপচয় হয়। তাই নিয়মিত বার্নার পরিষ্কার রাখা জরুরি। গ্যাস যেন নীল হয়ে জ্বলে, তা হলেই বুঝবেন, অপচয় কম হচ্ছে। কিন্তু যদি আগুনের আঁচ হলুদ বা লালচে হয়ে আসে, তা হলে বুঝবেন, গ্যাস অপচয় হচ্ছে এবং তা ভাল মতো জ্বলছে না।

৭. মোটা তলার বাসন ব্যবহার করুন

মোটা তলার হাঁড়ি বা কড়াই তাপ সমান ভাবে ছড়িয়ে দেয়। ফলে খাবার দ্রুত সেদ্ধ হয়। পাতলা পাত্রে তাপ অপচয় বেশি হয় এবং খাবার পুড়ে যাওয়ার ঝুঁকিও থাকে।

৮. সঠিক বার্নার বেছে নিন

স্টোভে ছোট-বড়, নানা আকারের বার্নার হয়। কোন পাত্রের জন্য কোন বার্নার ব্যবহার করবেন, সেটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। চা-কফি বানানোর জন্য ছোট বার্নার ভাল। অন্যান্য ক্ষেত্রে বড় বার্নার ব্যবহার করতে পারেন। এতে গ্যাসের অপচয় কমবে।

৯. আগেই গ্যাস বন্ধ করুন

অনেক খাবার আগুন বন্ধ করার পরও ভিতরের তাপে কিছুটা সময় ধরে সেদ্ধ হতে থাকে। তাই রান্না শেষ হওয়ার কয়েক মিনিট আগেই গ্যাস বন্ধ করে দিন। তাতে তাপের অপচয় কম হবে। ঢাকনা চাপা দিয়ে দিলে ভিতরের বাষ্পেই বাকিটুকু রান্না হয়ে যাবে।

১০. স্মার্ট পদ্ধতিতে রান্না করুন

গ্যাসের পাশাপাশি বৈদ্যুতিক যন্ত্র ব্যবহার বাড়াতে হবে। যেমন চা বা যে কোনও পানীয়ের ক্ষেত্রে জল ফোটানো দরকার। সে ক্ষেত্রে গ্যাস ব্যবহার না করে ইলেকট্রিক কেট্‌ল ব্যবহার করুন। তরকারি বা কোনও ঝোলজাতীয় রান্নায় ঝোলের জন্য যখন গরম জল দরকার, তখন কাপে কাপে মাইক্রোঅয়েভ অভেনে জল গরম করে নিতে পারেন। তাতে রান্নাও দ্রুত হয়ে যায়, গ্যাসও খরচ হয় না।

LPG Consumption LPG Crisis cooking tips
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy