তাঁর গাড়ির চাকায় প্রাণ গিয়েছিল ফুটপাথবাসীর। টানা ১৪ বছর বিচারের পর ৫ বছরের সাজাও হয়। কিন্তু বম্বে হাইকোর্টে আপিল করতেই পাঁচ মিনিটে জামিন পেয়ে যান সলমন খান। অথচ কারাদণ্ড হয়নি, বিচারাধীন এমন অনেক মানুষ দীর্ঘদিন আটকে আছেন জেলে। জামিন দেওয়ার ক্ষেত্রে এই তারতম্যকেই এ বার দূর করতে চাইছে কেন্দ্র। তারা এমন আইন চাইছে, যাতে জামিন দেওয়ায় আদালতের বিশেষ ক্ষমতা আরও কমে যায়। আইনটি তৈরির ব্যাপারে চিন্তাভাবনা করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জাতীয় আইন কমিশনকে।
কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী সদানন্দ গৌড়া কেন্দ্রীয় আইনসচিবকে লেখা একটি অভ্যন্তরীণ নোটে জামিন দেওয়ার ক্ষেত্রে অনেক সময়েই বৈষম্য হচ্ছে মন্তব্য করে এই প্রক্রিয়ায় কোনও সংস্কার আনা যায় কিনা, তা খতিয়ে দেখতে বলেন। আইনসচিব পি কে মলহোত্র এর পরেই আইন কমিশনের কাছে বিষয়টি পাঠিয়ে দেন। ছয় মাসের মধ্যে তাদের রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। সরকার এমন আইন চায় , যাতে জামিনের শর্তগুলি নির্দিষ্ট করা থাকবে। আদালতের বিবেচনার উপর তা নির্ভর করবে না।
আইনমন্ত্রী বলেছেন, জামিন দেওয়ার ক্ষেত্রে আদালতগুলি প্রচলিত রীতি মেনে এগোয় ঠিকই, কিন্তু কোন ক্ষেত্রে জামিন পাওয়া যাবে, আর কোন ক্ষেত্রে যাবে না, সে ব্যাপারে সাধারণ মানুষের কোনও ধারনাই নেই।
সলমনের মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিরা কী ভাবে জামিন পেয়ে যাচ্ছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। সেই বিতর্কের মধ্যেই কেন্দ্রের এই নতুন পদক্ষেপ। আইনমন্ত্রীর মতে, জামিনকে অধিকার হিসেবে দেখা হোক। তবে অভিযুক্ত জামিন পেলে তথ্য লোপাট করতে পারে বা আরও অপরাধ করতে পারে কিংবা সাক্ষীদের উপর প্রভাব বিস্তার করতে পারে—এমন মনে হলে তার জামিন খারিজ করা যেতে পারে। মন্ত্রীর মতে আদালতে কাজের চাপ, জামিন পাওয়ার পদ্ধতিতে জটিলতা, সমাজের পিছিয়ে পড়া শ্রেণির অজ্ঞতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।