Advertisement
E-Paper

জমি বিল ঠান্ডা ঘরে পাঠাতে মরিয়া বিরোধীরা

জমি অধ্যাদেশ নিয়ে কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদী সরকারকে এ বার নতুন প্যাঁচে ফেলে দিলেন বিরোধীরা। পারলে সংসদের চলতি অধিবেশনেই বিলটি পাশ করাতে চায় সরকার। তারই মধ্যে কংগ্রেস-সহ তামাম বিরোধী দল দাবি তুলল, জমি অধ্যাদেশ সংক্রান্ত বিলটিকে সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হোক। বিজু জনতা দল এবং এডিএমকে-র মতো এনডিএ-র বন্ধু দলও সামিল হয়েছে ওই দাবিতে। এমনকী, এনএডি-শরিক শিবসেনার দোটানাও দূর করতে পারেননি বিজেপি নেতারা। এমন একটা পরিস্থিতিতে কাল জমি বিল নিয়ে লোকসভায় ভোটাভুটিতে যেতে চাইছে সরকার। সেখানে সংখ্যা নিয়ে কোনও সমস্যা নেই তাদের।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১০ মার্চ ২০১৫ ০৩:৫২

জমি অধ্যাদেশ নিয়ে কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদী সরকারকে এ বার নতুন প্যাঁচে ফেলে দিলেন বিরোধীরা। পারলে সংসদের চলতি অধিবেশনেই বিলটি পাশ করাতে চায় সরকার। তারই মধ্যে কংগ্রেস-সহ তামাম বিরোধী দল দাবি তুলল, জমি অধ্যাদেশ সংক্রান্ত বিলটিকে সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হোক। বিজু জনতা দল এবং এডিএমকে-র মতো এনডিএ-র বন্ধু দলও সামিল হয়েছে ওই দাবিতে। এমনকী, এনএডি-শরিক শিবসেনার দোটানাও দূর করতে পারেননি বিজেপি নেতারা।

এমন একটা পরিস্থিতিতে কাল জমি বিল নিয়ে লোকসভায় ভোটাভুটিতে যেতে চাইছে সরকার। সেখানে সংখ্যা নিয়ে কোনও সমস্যা নেই তাদের। বিলটি রাজ্যসভার ‘সিলেক্ট কমিটি’ বা লোকসভার ‘স্ট্যান্ডিং কমিটি’তে গেলে বিষয়টি অনির্দিষ্ট কালের জন্য ঝুলে থাকবে। ফলে সরকার যে এক কথায় বিরোধীদের দাবি মানতে চাইবে না তা স্বাভাবিক। এর জন্য পাল্টা কৌশলও ভেঁজে রেখেছেন বিরোধীরা। সূত্রের খবর, জমি আইন সংশোধন বিলটিকে সংসদীয় কমিটিতে পাঠানোর জন্য রাজ্যসভায় প্রস্তাব আনতে চলেছে কংগ্রেস ও বামেরা। সেখানে বিরোধীরা সংখ্যাগরিষ্ঠ। ভোটাভুটিতে প্রস্তাবটি পাশ হয়ে গেলে বিরোধীদের রাজনৈতিক জয় হবে। বেকায়দায় পড়ে যাবে সরকার। কারণ, যথা পূর্বং অবস্থা হবে কেন্দ্রের জমি আইনের। অর্থাৎ শিল্প ও বিনিয়োগ সহায়ক জমি অধিগ্রহণ নীতি কার্যকর হওয়া আপাতত অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।

তবে অন্য একটি সম্ভাবনার কথাও ভাবনায় রাখছেন কংগ্রেসের কিছু নেতা। বিরোধীদের দাবি মেনে বিমা বিলও সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়েছিল। সরকার সেই কমিটির সুপারিশ মেনেও নিয়েছে। এখন তবে কোন যুক্তিতে কংগ্রেস বিমা বিল পাশ হওয়া ঠেকিয়ে যাচ্ছে? বিরোধীদের চাপে সরকার ইতিমধ্যেই জমি বিলে সংশোধন করছে। এর পরে জমি বিলও সংসদীয় কমিটির পথ পেরিয়ে এলে, তা সে যখনই হোক, তখনও কি কংগ্রেস জমি আধিগ্রহণ আইন সংশোধনী বিলের বিরোধিতা করে যাবে? দলের শীর্ষ নেতৃত্ব মোদী সরকারের সার্বিক বিরোধিতা করে যেতে বদ্ধ পরিকর হলেও দলে ঘরোয়া আলোচনায় ওই প্রশ্নগুলি তুলে আনছেন কংগ্রেসের কিছু নেতা। দিগ্বিজয় সিংহ তো তো আজ সন্ধেয় দলের সংসদ বিষয়ক কমিটির বৈঠকে সভানেত্রী সনিয়া গাঁধীর সামনেই প্রশ্ন তোলেন, সরকার যদি বিলটি সংসদীয় কমিটিতে পাঠানোর দাবি মেনে নেয়, সে ক্ষেত্রে দল কী অবস্থান নেবে? এই প্রশ্নের কোনও জবাব দেননি সনিয়া। জমি বিলের বিরোধিতা করে ও মোদীকে কৃষক-বিরোধী তকমা দিয়েই দল বেশ কিছুটা চাপে ফেলতে পেরেছে সরকারকে। পাশে পেয়েছে বাকি বিরোধীদের। এই অবস্থায় পিছু হটাও রাজনৈতিক ভাবে শক্ত। তা ছাড়া মোদী সরকারকে কোনও রকম ছাড় দিতে রাজি নয় দশ জনপথ।

Advertisement

উন্নয়নের প্রশ্নে পিছু হটতে রাজি নন মোদীও। তিনি জানিয়ে রেখেছেন জমি বিলে সামান্য কিছু সংশোধন হলেও মূল সুরে কোনও পরিবর্তন হবে না। এবং সেই মোতাবেক আজ লোকসভায় জমি বিলটি পেশ করে সরকার। তার আগে আজ সকালে বিরোধী দলগুলির নেতাদের ঘরোয়া বৈঠকে ডেকে মৌখিক ভাবে কিছু সংশোধন প্রস্তাবও শোনানো হয়। যেমন,
• শিল্প করিডর নির্মাণের ক্ষেত্রে জাতীয় সড়কের উভয় দিকে কতটা জমি অধিগ্রহণ করা হবে তা সুনিশ্চিত থাকবে।
• জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে কোন কোন শর্তে জমি অধিগ্রহণ করা হবে তা-ও সুনির্দিষ্ট করা হবে।
• পারতপক্ষে বহুফসলি জমি অধিগ্রহণ করা হবে না, ইত্যাদি। অরুণ জেটলি, বেঙ্কাইয়া নায়ডুরা বিরোধীদের এ-ও জানান, সম্মতি নেওয়ার শর্ত ফিরিয়ে আনার কথা আদৌ ভাবছে না সরকার। কারণ, ওই শর্তের কারণেই দেশে বিনিয়োগের বাতাবরণ বিগড়ে গিয়েছে।

সকালের ওই বৈঠকের পর সন্ধেতেও বিরোধী নেতাদের ফের এক প্রস্ত বৈঠকে ডেকেছিলেন জেটলি-বেঙ্কাইয়ারা। কংগ্রেস যায়নি। বরং লোকসভায় কংগ্রেস নেতা মল্লিকার্জুন খড়্গে বলেন, “সংশোধন বিলটি সরকার সংসদীয় কমিটির কাছে পাঠাক। ওখানেই সব বিবেচনা হবে।” পরে সনিয়ার নেতৃত্বে কংগ্রেসের সংসদ বিষয়ক কমিটির বৈঠকেও স্থির হয়, জমি বিলটি সিলেক্ট কমিটির কাছে পাঠানোর জন্য রাজ্যসভায় প্রস্তাব আনবে দল। বিরোধীদের এই কৌশল চাপে ফেলে দিয়েছে মোদী সরকারকে।

রাজ্যসভায় খনি ও খনিজ পদার্থ নিয়ে অধ্যাদেশের বিলটি আজ পেশ করেছে সরকার। কিন্তু সেই বিল নিয়ে কিছু প্রশ্ন তুলে সভা অচল করে রাখেন কংগ্রেস সদস্যরা। ফলে বিলটি নিয়ে আলোচনাই সম্ভব হয়নি। রাজ্যসভায় জমি বিল পেশ হলে বিরোধীদের ভূমিকা কী হতে পারে, এটাই তার যথেষ্ট ইঙ্গিত। কংগ্রেস সূত্রে বলা হচ্ছে, শুধু জমি বিল নয়, বিমা বিলও রাজ্যসভার সিলেক্ট কমিটিতে পাঠানোর দাবি তোলা হবে। চেষ্টা করা হবে, যাতে ভোটাভুটি হয়। এর মধ্যেও বিরোধী ঐক্যে চিড় ধরানোর চেষ্টা চালাচ্ছে বিজেপি। জেটলি আজ সংযুক্ত জনতা দলের নেতা শরদ যাদবের সঙ্গে এক প্রস্ত বৈঠক করেছেন।

কংগ্রেস নেতারা মনে করছেন, বিমা বিল বা অন্য অধ্যাদেশগুলি পাশ করাতে কোনও কোনও বিরোধী দল সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা করলেও জমি বিল নিয়ে কেউ আপস করবে না। কংগ্রেসও এই বিলটিকেই মোদীর বিরুদ্ধে মূল অস্ত্র করতে চাইছে। ওই বিলের বিরোধিতায় ১৩ তারিখ উত্তরপ্রদেশের ভাট্টা পারসল থেকে কৃষক সত্যাগ্রহ শুরু করবে যুব কংগ্রেস। ১৬ মার্চ হবে সংসদ ঘেরাও। হয়তো তার নেতৃত্ব দেবেন রাহুল গাঁধী। জমি বিল রুখতে পারলে সেটাই দলকে রাজনৈতিক ভাবে অক্সিজেন জোগাবে, আশায় রয়েছেন কংগ্রেস শীর্ষ নেতৃত্ব।

land aquisiton bill narendra modi bjp
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy