Advertisement
E-Paper

জয়ের হ্যাটট্রিক করে বেঙ্গালুরু পুরভোটেও জিতল বিজেপি

বেঙ্গালুরুর পুরভোটে জিতে জয়ের হ্যাটট্রিক করে সাম্প্রতিক কালে সবথেকে বড় সাফল্য পেল বিজেপি। সংসদে সংস্কারের বিল পাশ ও বিহারের নির্বাচনে বিরোধীদের পাল্টা আক্রমণ শানাতে এখন এই হ্যাটট্রিকই পুঁজি করছেন নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহ।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৫ অগস্ট ২০১৫ ২১:২৭
জয়ের উল্লাস বিজেপি কর্মীদের। ছবি: পিটিআই।

জয়ের উল্লাস বিজেপি কর্মীদের। ছবি: পিটিআই।

বেঙ্গালুরুর পুরভোটে জিতে জয়ের হ্যাটট্রিক করে সাম্প্রতিক কালে সবথেকে বড় সাফল্য পেল বিজেপি। সংসদে সংস্কারের বিল পাশ ও বিহারের নির্বাচনে বিরোধীদের পাল্টা আক্রমণ শানাতে এখন এই হ্যাটট্রিকই পুঁজি করছেন নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহ।

পুরভোটের ফল নিয়ে আগে এত হইচই হত না। কিন্তু এখন এই নির্বাচনও হঠাৎ করে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে সংসদের গোটা অধিবেশনটি স্তব্ধ হওয়ার পর। সুষমা স্বরাজ, শিবরাজ সিংহ চৌহান, বসুন্ধরা রাজে সিন্ধিয়ার ইস্তফার দাবিতে যে ভাবে সংসদ ভন্ডুল হয়ে গেল, তারপর এই তিন রাজ্যের ফলই মোদী-শাহ জুটির কাছে অনেক প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। আর তাই আজ বেঙ্গালুরুর পুরভোটে ফল ঘোষণার পর এই হ্যাট-ট্রিককে স্বাগত জানিয়ে এটিকে ‘উন্নয়ন ও সুশসানের জয়’ বলে টুইট করতে বেশি সময় নেননি নরেন্দ্র মোদী। সনিয়া ও রাহুল গাঁধীকে একহাত নিয়ে তাঁদের উন্নয়ন-বিরোধী অ্যাখ্যা দিয়েও এক সুদীর্ঘ বিবৃতিও পুডুচেরীতে বসে লিখে ফেলেছেন অমিত শাহ।

বিজেপি নেতারা বলছেন, মধ্যপ্রদেশ ও রাজস্থানের থেকেও বেঙ্গালুরুর জয় আরও বড়। কারণ, সাধারণত রাজ্যে যে দল ক্ষমতায় থাকে, স্থানীয় নির্বাচনে সে দলেরই দাপট দেখা যায়। মধ্যপ্রদেশেও তাই হয়েছে। আর রাজস্থানেও নির্বাচনে দেখা গিয়েছে, গোটা রাজ্যে জিতলেও বসুন্ধরা ধাক্কা খেয়েছেন নিজের কেন্দ্রেই। কিন্তু দক্ষিণের এই রাজ্যে কংগ্রেস ক্ষমতায় থাকা সত্ত্বেও বিজেপি ক্ষমতা ধরে রাখল। ইয়াদুরাপ্পার হাত ধরে দক্ষিণের এই রাজ্যে প্রথম ক্ষমতায় এসেছিল বিজেপি। পরে ইয়েদুরাপ্পা দল ছাড়ার পর ক্ষমতায় আসে কংগ্রেস। পুরসভাটি ছিল বিজেপির দখলে। আজকের ফলে দেখা যাচ্ছে, ১৯৮টির মধ্যে ১০০টি আসনই বিজেপির ঝুলিতে গিয়েছে। গত বারের তুলনায় মাত্র ১১টি কম। কংগ্রেস গত বারের চেয়ে আসন বাড়াতে পেরেছে বটে, কিন্তু সেটি দশটির বেশি নয়।

বসুন্ধরার রাজ্যের ফল প্রকাশের পর কংগ্রেসের সচিন পায়লটরা বিজেপির মুণ্ডপাত করেন। তাঁদের দাবি ছিল, বসুন্ধরার হার-ই প্রমাণ করল, ললিত মোদীর সঙ্গে মহারানির আঁতাঁত মানুষ মেনে নেয়নি। কিন্তু মধ্যপ্রদেশের বিজেপির জয়ের পর কংগ্রেস যেমন নীরব ছিল, তেমনই আজও ফের শীতঘুমে চলে গিয়েছে তারা। ঘরোয়া আলোচনায় বলছেন, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়ার সঙ্গে রাজ্য কংগ্রেস নেতাদের কোন্দলের খেসারত দিতে হল শাসক দলকে। মুখ্যমন্ত্রী বহিরাগত বলে এখনও পুরনো কংগ্রেসীদের সঙ্গে সমন্বয় গড়ে তুলতে পারেননি। তাই বেঙ্গালুরুতে হাজারো নাগরিক সমস্যা, এক ঝাঁক তরুণ পেশাদার ময়দানে নামলেও ভাগ্য বদলাতে পারল না।

কিন্তু বিজেপি সূত্র বলছে, তাদের দলেও কোন্দল নেহাৎ কম নয়। এই নির্বাচনের ভার দেওয়া হয়েছিল ইয়েদুরাপ্পার উপরে। অথচ আজকের ফলের পর কোথাও তাঁকে দেখা যাচ্ছে না। বিজেপিতেই ইয়েদুরাপ্পার প্রতিদ্বন্দ্বী অনন্ত কুমাররা গোটা জয়ের কৃতিত্ব নিচ্ছেন। দিল্লিতে বেঙ্কাইয়া নায়ডুও এই জয়ের কৃতিত্ব যাঁদের উপরে দিচ্ছেন, সেই তালিকায় বাদ যাচ্ছে ইয়েদুরাপ্পার নাম। বিজেপির এক নেতার কথায়, আসলে কোন্দল সব দলেই রয়েছে। আসল বিষয় হল, কংগ্রেস এত দিন ধরে সংসদ অচল রেখে বিজেপির বিরুদ্ধে একটি হাওয়া তৈরি করতে চাইছিল। বাস্তবে কংগ্রেসের সেই নেতিবাচক রাজনীতির মোক্ষম জবাব দিয়েছে জনতা। তিনটি রাজ্যের ফলই তা প্রমাণ করছে। এর প্রভাব বিহারে তো পড়বেই। কংগ্রেসকেও আত্মসমীক্ষা করা উচিত, তারা এই নেতিবাচক রাজনীতিতে ভর করেই এগোবে না কি মোদী সরকারের উন্নয়নে সামিল হয়ে দেশের ভাল করবে।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy