Advertisement
E-Paper

তৃণমূল কি সুর নামাচ্ছে, দেখতে চান বিরোধীরা

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কাল নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে মুখোমুখি বসার পরে তৃণমূল কংগ্রেস কি বিজেপি-বিরোধিতার পথ থেকে সরে আসবে? হাতে হাত মিলিয়ে রাজ্যসভায় সরকারকে নাজেহাল করে চলা বিজেপি-বিরোধী দলগুলির কাছে এখন এটাই সব চেয়ে বড় প্রশ্ন। কাল লোকসভায় জমি অর্ডিন্যান্স সংশোধন বিল পেশ করবে কেন্দ্র। কিন্তু তার আগেই জমি অধ্যাদেশের বিরোধিতায় লোকসভায় একটি প্রস্তাব পেশ করার কথা বিরোধী দলগুলির।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৯ মার্চ ২০১৫ ০৩:৫৯

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কাল নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে মুখোমুখি বসার পরে তৃণমূল কংগ্রেস কি বিজেপি-বিরোধিতার পথ থেকে সরে আসবে? হাতে হাত মিলিয়ে রাজ্যসভায় সরকারকে নাজেহাল করে চলা বিজেপি-বিরোধী দলগুলির কাছে এখন এটাই সব চেয়ে বড় প্রশ্ন।

কাল লোকসভায় জমি অর্ডিন্যান্স সংশোধন বিল পেশ করবে কেন্দ্র। কিন্তু তার আগেই জমি অধ্যাদেশের বিরোধিতায় লোকসভায় একটি প্রস্তাব পেশ করার কথা বিরোধী দলগুলির। তাতে কংগ্রেস ও বামেরা যেমন রয়েছে, তেমনই রয়েছে তৃণমূল ও বিজু জনতা দলও। প্রস্তাবকের তালিকায় নাম রয়েছে তৃণমূলের দুই সিনিয়র সাংসদ সৌগত রায় এবং সুলতান আহমেদের।

কাল মোদী-মমতা বৈঠকের আগে কংগ্রেস ও বামেদের উদ্বেগ সংসদে সরকার-বিরোধিতার এই অবস্থান ধরে রাখবে তো তৃণমূল! উদ্বেগের কারণ পরিষ্কার। লোকসভায় বিরোধীদের তেমন শক্তি না-থাকলেও রাজ্যসভায় কংগ্রেস, তৃণমূল, বাম, সপা, বসপা-র মিলিত বিরোধিতা গত ন’মাসে বেশ কয়েক বার ঘোল খাইয়েছে সরকারকে। এই ঐক্য অটুট রাখতে পারলে এ যাত্রাতেও সরকার প্রস্তাবিত অনেক বিলের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। কিন্তু তৃণমূল ভোল পাল্টে অবস্থান নরম করলে সেই জোট দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সংসদে সরকার বিরোধিতার জন্য তৃণমূলকে পাশে পেতে গত কয়েক মাস ধরেই সক্রিয় সনিয়া গাঁধীর ঘনিষ্ঠ নেতারা। এমনকী গত অধিবেশনে কংগ্রেসের এক সংসদীয় কৌশল নির্ধারণ বৈঠকে এক তৃণমূল সাংসদকেও ডেকে আনা হয়েছিল। কিন্তু হঠাৎই মমতা মোদীর সঙ্গে বৈঠকে বসতে যাওয়ায় কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতারা কিছুটা চিন্তায়। দলের এক প্রবীণ নেতার কথায়, অধিবেশন চলাকালীন কোনও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক করতে রাজি হওয়াটাও তাৎপর্যপূর্ণ। মমতা ইতিমধ্যেই তিস্তা চুক্তি নিয়ে নরম হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। আবার সাধারণ বাজেটে পশ্চিমবঙ্গে শিল্পায়নের জন্য বিশেষ সহযোগিতার কথা ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি। তাঁরা মনে করছেন, পশ্চিমবঙ্গকে আরও আর্থিক সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সংসদে তৃণমূলের সহযোগিতা পাওয়ার একটা চেষ্টা হয়তো কাল করবেন প্রধানমন্ত্রী। তবে সনিয়া-ঘনিষ্ঠ সূত্রে খবর, মমতার দিল্লি সফরে কংগ্রেসের তরফেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রাখার চেষ্টা হবে।

যদিও রাজ্যসভায় তৃণমূলের দলনেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন আজ বলেন, “প্রধানমন্ত্রী-মুখ্যমন্ত্রী বৈঠক প্রশাসনিক ব্যাপার। এর কোনও প্রভাব সংসদে কক্ষ সমন্বয়ের ওপর পড়বে না। সংসদে বিরোধী দলের নেতারা প্রতিদিন নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেন। যে বিষয়গুলি আমরা

উত্থাপন করেছি, তা সরকার পুনর্বিবেচনা না করলে অবস্থান নরম করার প্রশ্ন নেই।” আবার তৃণমূলের এক সাংসদের কথায় কাল মমতা-মোদী বৈঠকের পর পরশু থেকেই সিদ্ধার্থনাথ সিংহ বা অমিত শাহরা কি তৃণমুলের বিরুদ্ধে প্রচারে রাশ টানবেন? তা তো নয়! মমতা নিজেও বলেছেন, এই বৈঠকে তিনি রাজনীতি আনতে চান না বলেই রাজ্যের সব দলের সাংসদদের সঙ্গে নিয়ে মোদীর কাছে যেতে চেয়েছিলেন। রাজ্যের উন্নয়নই মোদীর সঙ্গে তাঁর বৈঠকের একমাত্র উদ্দেশ্য।

মজার বিষয় হল, কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এ ভাবে তৃণমূলের সঙ্গে সমন্বয় ধরে রাখার ব্যাপারে আগ্রহী হলেও, রাজ্য কংগ্রেস নেতারা মমতা-বিরোধিতা লঘু করার পথে হাঁটতে রাজি নন। মোদী-মমতা বৈঠক প্রসঙ্গে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী আজ বলেন, “অনেক আগেই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করা উচিত ছিল মুখ্যমন্ত্রীর। সাধারণ বাজেট ও রেল বাজেটের আগে তাঁর এই বৈঠক করা উচিত ছিল। মোদীর ডাকা নীতি আয়োগের বৈঠকেও যাওয়া উচিত ছিল। কিন্তু তা তো তিনি করেননি, বরং রাজ্যের উন্নয়নের কথা ভুলে গিয়ে বরাবর নিজের অহং ধরে রাখতে চেয়েছেন।”

tmc stand in rajyasabha narendra modi mamata bandyopadhyay meeting
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy