Advertisement
E-Paper

তিন বছরেই ভগ্নদশা স্বাস্থ্য ভবনের

পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত করিমগঞ্জ ‘স্বাস্থ্য ভবন’ এখন খোদ স্বাস্থ্য বিভাগের মাথাব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ ভবনটির চারদিকে এর মধ্যেই বিরাট বিরাট ফাটল ধরেছে। ভূমিকম্প প্রবণ অসম। বিভিন্ন জায়গায় চিড় ধরা ভবনটি পরে যেতে পারে বলে আশঙ্কা অনেকেরই।

শীর্ষেন্দু সী

শেষ আপডেট: ০৭ ডিসেম্বর ২০১৫ ০৩:২৪
করিমগঞ্জের স্বাস্থ্য ভবন। (ইনসেটে) ফাটলের নমুনা। ছবি: শীর্ষেন্দু সী

করিমগঞ্জের স্বাস্থ্য ভবন। (ইনসেটে) ফাটলের নমুনা। ছবি: শীর্ষেন্দু সী

পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত করিমগঞ্জ ‘স্বাস্থ্য ভবন’ এখন খোদ স্বাস্থ্য বিভাগের মাথাব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ ভবনটির চারদিকে এর মধ্যেই বিরাট বিরাট ফাটল ধরেছে। ভূমিকম্প প্রবণ অসম। বিভিন্ন জায়গায় চিড় ধরা ভবনটি পরে যেতে পারে বলে আশঙ্কা অনেকেরই।

২০১২ সালের ১৫ এপ্রিল করিমগঞ্জ স্বাস্থ্য বিভাগের অধীনে এএনএম, জিএনএম ভবনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তত্কালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা। উদ্বোধনের দিনই ভবনের বিভিন্ন জায়গায় ফাটল ছিল। কিন্তু সেই ফাটলে রঙ লাগিয়ে দেওয়ায় তা তেমন ভাবে চোখে পরেনি। এমনকী স্বাস্থ্যমন্ত্রীরও চোখের আড়ালে থেকে যায় বিষয়টি। ‘স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিভাগের আমূল পরিবর্তন করার পাশাপাশি স্বাস্থ্য বিভাগের হাল ফিরিয়ে দিয়েছেন’ বলে বক্তারা সভায় উল্লেখ করেছিলেন। বর্তমানে হিমন্তবিশ্ব শর্মা আর স্বাস্থ্যমন্ত্রী নন। এমনকী তিনি শাসক কংগ্রেসেও নেই। কিন্তু তাঁর আমলে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ভবনটির অবস্থা তিন বছরের মধ্যেই এমন করুণ হালে বিভিন্ন মহলের ভ্রূকুঞ্চন স্পষ্ট।

শুধু তাই নয়, প্রশিক্ষণরত নার্সদের ক্লাসে বসার জন্য যে সব চেয়ার দেওয়া হয়েছিল সেগুলিও ভেঙে পড়ছে। সেই সব চেয়ার এখন মশা-মাকড়ের আশ্রয়স্থল। করিমগঞ্জের নার্স প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষা বন্দনা সেনগুপ্ত জানান, ভবনটিতে যে বিশাল আকারের ফাটল ধরেছে তা যুগ্ম স্বাস্থ্য অধিকর্তা, হাসপাতালের অধ্যক্ষ, এমনকী খোদ জেলাশাসক পর্যন্ত দেখে গিয়েছেন। এত টাকা ব্যয়ে নির্মিত প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে যেভাবে ফাটল ধরেছে তাতে তাঁরাও উদ্বিগ্ন। ভবনের রেলিংয়ে ভর দিয়ে যাতে ছাত্রীরা না দাঁড়ায়, তার জন্য সতর্ক করে নোটিশও দেওয়া হয়েছে। কারণ রেলিংয়ের মধ্যেও বড় বড় ফাটল।

নার্সিং স্কুল সূত্রের খবর, স্বাস্থ্য বিভাগের একটি তদন্তকারী দল ইতিমধ্যে ভবনটি ঘুরে দেখেছেন। তাঁরা নাকি জানিয়েছেন, ভবনটির বেশ কিছু জায়গায় কারিগরি ত্রুটি রয়েছে। এ ছাড়া, নিম্নমানের বালি, পাথর তো ব্যবহার করা হয়েছেই। শুধু দালান ভবনই নয়, কনফারেন্স হলের উপরের ফল্স সিলিঙের বিশাল অংশও ভেঙে পড়ে গিয়েছে।

কিছু দিন আগে এডস সচেতনতা সভায় নার্স প্রশিক্ষণ স্কুলের দৈনদশা নিয়ে একাধিক বক্তা তাঁদের বক্তব্যে সরব হন। এমনকী, শাসক কংগ্রেস দলের সভাপতি সতু রায়ও সেই সভায় কাজের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ভবনটির তিন বছরের মধ্যে ওই হাল হওয়ায় সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার-সহ যে সরকারি বিভাগ কাজের তদারকি করেছিল তাদের কর্মদক্ষতা ও সততা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন অনেকেই। বিজেপি সদস্যা মহাশ্বেতা চক্রবর্তী বলেন, ‘‘এই অট্টালিকা তৈরি করতে গিয়ে শুধুমাত্র সরকারি অর্থের অপচয় করা হয়েছে।’’ এ বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের তদন্তও দাবি করেছেন তিনি।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy