শিবরাজ পাশ। এ বারে বসুন্ধরার ফলের অপেক্ষা।
বসুন্ধরার মার্কশিটে পাশ নম্বর এসে গেলেই কংগ্রেসের আক্রমণের জবাবে বড়সড় আন্দোলনে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ। পাশাপাশি কংগ্রেসের উপর পাল্টা চাপ তৈরি করে বিহার নির্বাচনে ফায়দা তোলার সঙ্গে সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডেকে পণ্য ও পরিষেবা কর বিলটাও পাশ করিয়ে নিতে চাইছে বিজেপি।
রবিবার মধ্যপ্রদেশে পুরসভার ফলে দেখা গিয়েছে, কংগ্রেসকে ধরাশায়ী করে বিজেপি একচেটিয়া সাফল্য পেয়েছে। ব্যপম কাণ্ড নিয়ে গোটা দেশে হইচই, সংসদ অচল। কিন্তু তার কোনও প্রভাব পড়েনি রাজ্যের ভোটবাক্সে। সুষমা স্বরাজ, শিবরাজ সিংহ চৌহান ও বসুন্ধরা রাজে সিন্ধিয়ার ইস্তফা নিয়ে গোটা বাদল অধিবেশন সংসদ স্তব্ধ করে রাখল কংগ্রেস। কিন্তু তারপর, মধ্যপ্রদেশে প্রথম পরীক্ষায় পাশ করে শিবরাজ দেখিয়ে দিয়েছেন, দিল্লিতে যতই হইচই হোক, জনমত ভিন্ন কথা বলছে। সোমবার রাজস্থানে ১২৯ টি পুরসভার ভোট হয়েছে। তার ফল বেরোবে তিন দিন পর। বসুন্ধরাও সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে পাল্টা প্রচারে নামবে বিজেপি।
বিজেপির এক শীর্ষ নেতার কথায়, ‘‘কংগ্রেস এত দিন ধরে বিজেপির তিন নেতার বিরুদ্ধে সংসদে হাঙ্গামা করে প্রচারের আলোয় এসেছে। এ বারে তারা রাস্তায় নামছে। তাদের কৌশল ‘সংসদ থেকে সড়ক’। কিন্তু রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা বলে, সেটি আদপে ভুল কৌশল। ‘সড়ক’ থেকে কোনও আন্দোলন গড়ে উঠলে সেটিকে সংসদে তুললে তার প্রভাব আরও কার্যকরী হয়। ফলে কংগ্রেস শুধু দিল্লিতে হইচই করেছে। কিন্তু মানুষ তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে। এক বার বসুন্ধরার সাফল্য সামনে এলেই আমরা এটিকে নিয়ে প্রচার শুরু করব।’’
এমন নয়, শিবরাজ কিংবা বসুন্ধরার সাফল্য সবসময় উচ্ছ্বসিত করে নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহকে। কিন্তু ব্যপম কাণ্ডের পর যে ভাবে কংগ্রেসের থেকে ছিনিয়ে এনে পুরসভার আসন নিজের ঝুলিতে পুড়ে নিজের শক্তি প্রদর্শন করেছেন শিবরাজ সিংহ চৌহান, তাতে তাঁকে সাধুবাদ জানানো ছাড়া আর কোনও উপায় নেই। বিশেষ করে এই নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের আঁচ পড়েছে খোদ নরেন্দ্র মোদীর উপরেও। যে কারণে স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লা থেকেও সাফাই দিতে হয়েছে প্রধানমন্ত্রীকে। তাই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে গতকাল বিদেশ থেকেই শিবরাজকে অভিনন্দন জানাতে হয়েছে মোদীকে। এখন বসুন্ধরার ফল প্রকাশের পর সেটিকেই পুঁজি করে বিরোধীদের পাল্টা জবাবের প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে অমিত শাহকে।
শিবরাজ শুধু ব্যপমের পর নিজের রাজ্যে শক্তি দেখিয়েই ক্ষান্ত হননি, আজ দলের রাজ্য সভাপতি নন্দকুমার সিংহ চৌহানকে দিল্লিতে পাঠিয়েছেন দলের সদর দফতরে সাংবাদিক সম্মেলন করার জন্যও। সেখানে তিনি দাবি করেন, মধ্যপ্রদেশে ব্যপম কাণ্ড হওয়া সত্ত্বেও মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কোনও হাওয়া নেই। শুধু দিল্লিতে একটি ফাঁপা হাওয়া তৈরি করেছে কংগ্রেস। অথচ দিগ্বিজয় সিংহ একটি মাত্র আসন বাঁচাতে পেরেছেন। রাহুল গাঁধীর সেনাপতি জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া হাজার চেষ্টা করেও একটিও আসন বাঁচাতে পারেননি। অথচ এঁরাই দিল্লিতে গেল-গেল রব তোলেন। কংগ্রেস অবশ্য ঘনিষ্ঠ মহলে কবুল করছে, তিনবার শিবরাজ জেতার পর সেখানকার সাংগঠনিক শক্তি সে ভাবে গড়ে উঠতে পারেনি। তাই এই হার।