বিহার ভোটের মরসুমে দিল্লি বিজেপির অন্দরে আপাতত একটাই প্রশ্ন ঘোরাফেরা করছে। মোহনদাস কর্মচন্দ গাঁধী, নেপোলিয়ান বোনাপার্ট, উইনস্টন চার্চিল, আব্রাহাম লিঙ্কনের সঙ্গে বিজেপি সভাপতি অমিত শাহের মিল কোথায়? উত্তর মিলছে দলীয় সূত্রেই। এঁদের সবারই নাকি রাশির দশম স্থানে রাহুর অবস্থান। অর্থাৎ শত্রু প্রবল পরাক্রমী! আর ঠিক সেই কারণেই এ বার চিন্তায় ফেলেছে বিহারের ‘শত্রুজোট’!
লড়াইটা যে হাড্ডাহাড্ডি, মুখে না বললেও মানছেন অমিত। পটনা জয়ে আগের দু’দফার সঙ্গে জুড়ে শেষ তিন দফার ভোটে ম্যাজিক সংখ্যা ১২২ পেরোতে তাই প্রাণপণ ঘুঁটি সাজাচ্ছেন। চলছে ব্যাপক প্রচার। উত্তেজনার সঙ্গে তাল মেলাতে আবার সাট্টা বাজারেও চোখ রাখছেন অমিত। বিরোধী জোটে ফাটল ধরানো যে মুশকিল, প্রথম দু’দফার ভোটেই তা বুঝে গিয়েছে বিজেপি। বাকি আর তিন দফা। তবু হার মানতে নারাজ অমিত শাহ। বরং গুজরাতে ভোটের সময় যে ভাবে সাট্টা বাজারের গতিবিধির উপর নজর রাখতেন, এ বারও তা-ই করছেন। আর বলছেন, সাট্টা বাজার এখনও বিজেপি জোটকে দেড়শোটি আসন দিচ্ছে। যার মধ্যে বিজেপি একাই পাবে ১১১টি। আর বিরোধীরা আটকে যাবে আশির আশপাশে।
দলের একাংশ তবু সিঁদুরে মেঘ দেখছেন। বিহারে শেষ দফার ভোট ৫ নভেম্বর। গণনা ৮ নভেম্বর। এরই মধ্যে প্রশ্ন উঠছে, দিল্লি বিধানসভা ভোট থেকে দলে যে রাহুর দশা শুরু হয়েছিল, ৮ নভেম্বর কি তা কাটবে? প্রথম দু’দফা ভোটের শেষে যা খবর এসেছে, তাতে ৮১টির মধ্যে বিজেপি জোট ৫৫ থেকে ৬৫টি আসন পাবে বলে দলের বিশ্লেষণ। অর্থাৎ, ম্যাজিক সংখ্যা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ মোদী-অমিতের। এ দিকে জোর টক্কর দিচ্ছে লালু-নীতীশ জোট। তবু শেষের দু’দফা ভোটকেই তুরুপের তাস করতে চাইছেন অমিত।
কিন্তু কী ভাবে! সাট্টা বাজারে চোখ রাখার পাশাপাশি দিল্লি হারের থেকে শিক্ষা নিয়ে আরও সুচারু ভোটের ছক কষছেন অমিত শাহ। ভোটযুদ্ধে এখন নবরাত্রি আর দুর্গাপুজোর বিরতি। দিল্লিতে আজ তাই খোশমেজাজেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হলেন অমিত শাহ। তবে বিহার যে সহজে হাতছা়ড়া করতে রাজি নন, তা-ও বুঝিয়ে দিলেন। গত সপ্তাহের প্রায় পুরোটাই বিহারে ঘাঁটি গেড়ে বসেছিলেন। ফের যাবেন পাঁচ দিনের জন্য। ভাবছেন শত্রুপক্ষকে নিয়েও। দলীয় সূত্রের খবর, তিনি নাকি এখনও বিশ্বাস করেন, বিহারে নীতীশের থেকে লালুর শক্তিই বেশি।
কতটা বেশি! অমিতের অঙ্ক বলছে, পাঁচ দফা ভোটের শেষে নীতীশের থেকে লালুর আসন অন্তত দ্বিগুণ হবে। নীতীশ কুমারের শক্তি যেখানে কুর্মি ভোট, লালুর ভোটব্যাঙ্ক যাদবদের পাশাপাশি মুসলিমরাও। আর এ নিয়েই বাজিমাত করতে চাইছে মহাজোট। কিন্তু অমিত শাহের কথায়, এই সব সম্প্রদায় মিলিয়ে মাত্র ৩৫ শতাংশ ভোটে খেলতে চাইছে বিরোধী পক্ষ। যার অর্থ, বিজেপি জোটের কাছে রয়েছে বাকি ৬৫ শতাংশ।
পরিস্থিতি যদিও অন্ধকারটাই বেশি করে দেখাচ্ছে। যেমন, দিন কয়েক আগেই বিহার থেকে জাতীয় রাজনীতির ময়দানে চাউর হয়ে গিয়েছিল— হাওয়া খারাপ বুঝেই বিহারে মোদীর অন্তত তিনটি সভা বাতিল করেছে দল। সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে মোদী-অমিতের পোস্টারও। বিজেপি সভাপতি অবশ্য আজ এগুলিকে রটনাই বললেন। তাঁর কথায়, মোদীর কুড়িটি সভা করার কথা ছিল। করবেন ২২টি। পরের তিন দফায় প্রধানমন্ত্রী আরও ১৩টি সভা করবেন বলে দাবি অমিতের। ২৫ অক্টোবর থেকেই তা শুরু হচ্ছে। কিন্তু পোস্টার সরানো হচ্ছে কেন? বিজেপি সভাপতির দাবি, এ সব নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ। এর সঙ্গে বিজেপির হেরে যাওয়ার আশঙ্কার কোনও সম্পর্ক নেই।
একই সঙ্গে বিরোধীদের দাপটও মানছেন অমিত। মুখে অবশ্য বলছেন, ‘‘লড়াই কঠিন। কিন্তু জয় বিজেপি জোটেরই হবে। আর মুখ্যমন্ত্রী হবেন বিহারেরই কোনও বিজেপি নেতা।’’