Advertisement
E-Paper

বিহার ভোটের ফল নিয়ে রক্ষণাত্মক অমিত শাহ

নরেন্দ্র মোদীই তুরুপের তাস। কিন্তু বিহারে হার-জিতের দায় মোদী সরকারের নয়। ক’দিন আগেই বিজেপি সভাপতি অমিত শাহকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, বিহার বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি-র সব থেকে বড় তুরুপের তাস কী?

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৬ অক্টোবর ২০১৫ ২০:১০

নরেন্দ্র মোদীই তুরুপের তাস। কিন্তু বিহারে হার-জিতের দায় মোদী সরকারের নয়।

ক’দিন আগেই বিজেপি সভাপতি অমিত শাহকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, বিহার বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি-র সব থেকে বড় তুরুপের তাস কী? তৎক্ষণাৎ জবাব দিয়ে বিজেপি সভাপতি বলেছিলেন, ‘‘নরেন্দ্র মোদী।’’ আর আজ এক ইংরেজি দৈনিকে সাক্ষাৎকারে সেই অমিত শাহই বলেন, বিহারের নির্বাচন মোদী সরকারের ‘জনমত’ হিসেবে দেখা উচিত নয়। বিহারে ফল ভাল না হলেও কেন্দ্রের সংস্কার বা নীতি এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে কোনও প্রভাব পড়বে না।

অমিত শাহ এই মন্তব্য করার পর দলের ভিতরেই প্রশ্ন উঠেছে, যে অমিত শাহ এখনও বিজেপি সরকার গড়বে বলে দাবি করে চলেছেন, সেখানেই কার্যত ঘাঁটি গেড়ে বসে রয়েছেন, তাঁকে কেন এমন রক্ষণাত্মক অবস্থান নিতে হচ্ছে? যে কোনও ছোট-বড়-মাঝারি নির্বাচনে জয়ের পর যে বিজেপি নেতৃত্ব ‘মোদী-জাদু’, ‘মোদী-হাওয়া’র কৃতিত্বকে বড় করে দেখিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন, এ বারে আগেভাগে কেন মোদীকে দূরে রাখতে চাইছেন বিজেপি সভাপতি? তা হলে কি বিহারের জয় নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন অমিত শাহ?

বিজেপি সূত্রের মতে, আসলে বিহারের প্রথম দু’দফার ভোটে প্রত্যাশামাফিক ভোট পড়েনি। সেটি বিজেপি-র কপালে ভাঁজ ফেলেছে। বাকি তিন দফার মধ্যে শেষ দফার ভোটেও খুব বেশি আশা নেই দলের। পুরোটাই এখন টিকে রয়েছে পরের দুই দফার উপরে। অমিত শাহ অবশ্য দাবি করেছেন, প্রথম দুই দফায় ৮১টি আসনের মধ্যে ৫২-৫৫ টি আসন পাবে বিজেপি। পরের দুই দফায় বিজেপি সুইপ করবে। শেষের দফাটি যে ‘জটিল’ সেটি কবুল করেছেন খোদ বিজেপি সভাপতিই। দ্বিতীয় একটি বড় কারণ, আরএসএসের অসহযোগিতা। ভোটের মুখে স্বয়ং সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবত সংরক্ষণ নীতি নিয়ে বিতর্ক বাধিয়ে বিজেপিকেই বিপাকে ফেলেছেন। তারপর নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহরা পইপই করে সংরক্ষণ উঠবে না বলে চেঁচালেও থামানো যায়নি ভাগবতকে। তিনি আবার এই নিয়ে মুখ খুলে বিতর্ক বাড়ান।

এই অবস্থায় বিহার নির্বাচনে জেতাটি পুরোটাই এখন নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহের কাঁধে এসে পড়েছে। মোদীর নির্দেশেই কেন্দ্রীয় সরকারের প্রায় দেড় ডজন মন্ত্রী বিহারে ঘাঁটি গেড়ে বসে রয়েছেন। কেন্দ্রীয় সরকারের কাজকর্ম শিকেয় তুলে। দিল্লিতে পরাজয়ের পর বিহার বিধানসভা নির্বাচন রীতিমতো ইজ্জতের লড়াই মোদী-শাহ জুটির কাছে। কিন্তু সেখানেও লালু-নীতীশ সেয়ানে সেয়ানে টক্কর দিচ্ছেন। আর তাই এখন মাঝে দুর্গাপুজো, নবরাত্রির বিরতির পর নরেন্দ্র মোদীকে দিয়েই কার্পেট বম্বিং করানো হচ্ছে। দু’দফার নির্বাচনে ‘সুখবর’ না আসার পরে মোদীর একটি সভা বাতিলও হয়। সেটি নিয়ে গোটা বিরোধী শিবির প্রচার করতে শুরু করে, হেরে যাওয়ার ভয়ে মোদীকে এখন দূরে রাখা হচ্ছে। কিন্তু বিজেপি নেতৃত্ব জানেন, নরেন্দ্র মোদী নামক তুরুপের তাস ছাড়া আর কোনও গতি নেই। তাই বাকি প্রতিটি দফার আগে দু’টি করে দিন প্রধানমন্ত্রী প্রচারের জন্য সময় দিয়েছেন। ছ’দিনেই ১৭টি জনসভা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

ইংরেজি দৈনিকের সাক্ষাৎকারে অমিত শাহকে প্রশ্ন করা হয়, জাতীয় রাজনীতিতে বিহারের ভোট কতটা গুরুত্বপূর্ণ? এটি কি কেন্দ্রের মোদী সরকারের ক্ষেত্রে মোড় হতে পারে? তার জবাবে অবশ্য অমিত শাহ বলেছিলেন, ‘‘বিহার নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ। বিহারে জিতলে এটি পূর্ব ভারতের প্রবেশপথ হবে। পুবে আমাদের আদর্শের স্বীকৃতির জন্য এটি বড় প্রতীক।’’ কিন্তু পর ক্ষণেই যখন তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়, এটি মোদী সরকারের জনমত কি না, তখনই পিছু হঠেন অমিত শাহ। যতই অমিত শাহ মোদী সরকারের কাজকর্মকে এর থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করুন, লালু-নীতীশ কিন্তু লাগাতার দাদরি থেকে মূল্যবৃদ্ধির ইস্যু নিয়ে সোচ্চার হচ্ছেন। ডালের দাম বাড়ানো নিয়ে গতকাল মোদী বিহার প্রচারে গিয়ে নীতীশের বিরুদ্ধে তোপ দেগে বলেছিলেন, বিহারে কালোবাজারি আটকাচ্ছেন না বলে ডালের দাম বাড়ছে। নীতীশ পাল্টা হামলা করে বলেন, যেন ডালের দাম শুধু বিহারেই বাড়ছে। গোটা দেশে ডালের দাম বাড়ছে কেন্দ্রীয় সরকারের ভুল নীতির ফলে।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy