Advertisement
E-Paper

ভিসা-বিতর্ক সরিয়ে মোদীকে আমন্ত্রণ আমেরিকার

সাত বছর আগে তাঁকে ভিসা দিতে চায়নি এই দেশ। আজ সেই নরেন্দ্র মোদীকেই ফোন করে অভিনন্দন জানালেন খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। একটি সূত্রের দাবি, মোদীকে ওয়াশিংটনে আমন্ত্রণও জানিয়েছেন তিনি। মোদীকে ওবামা বলেছেন, পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে দু’দেশের কৌশলগত সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যেতে তাঁরা আগ্রহী।

অগ্নি রায়

শেষ আপডেট: ১৭ মে ২০১৪ ০৩:২৩

সাত বছর আগে তাঁকে ভিসা দিতে চায়নি এই দেশ। আজ সেই নরেন্দ্র মোদীকেই ফোন করে অভিনন্দন জানালেন খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। একটি সূত্রের দাবি, মোদীকে ওয়াশিংটনে আমন্ত্রণও জানিয়েছেন তিনি।

মোদীকে ওবামা বলেছেন, পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে দু’দেশের কৌশলগত সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যেতে তাঁরা আগ্রহী। বস্তুত, ভিসা-বিতর্ক যে এখন অতীত, সেই বার্তা দিয়ে হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব জে কার্নি সাফ বলেন, “ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে আমেরিকায় স্বাগত।”

মোদীর জয়ের খবর স্পষ্ট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আজ সক্রিয় ওঠে প্রতিবেশী বলয়। বিকেল তিনটের আগেই পাকিস্তান, বাংলাদেশ এবং শ্রীলঙ্কা থেকে অভিনন্দনবার্তা আসে। পাক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ নিজে ফোন করে মোদীকে তাঁর দেশে আমন্ত্রণও জানিয়েছেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি দীর্ঘ চিঠি পাঠিয়েছেন মোদীকে। সেখানে ভারত বাংলাদেশের ‘বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের’ কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ মোদীর ‘দ্বিতীয় ঘর’ হয়ে উঠবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নয়াদিল্লিতে নতুন রাজনৈতিক পর্বের সূচনায় কিছুটা উদ্বিগ্ন ও সতর্ক প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলি। তারা বুঝে নিতে চাইছে, মোদীর বিদেশনীতি কোন অভিমুখে এগোবে। প্রচারের সময়ে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, চিন সম্পর্কেও রূঢ় বাক্য ব্যবহার করেছেন মোদী। জাতীয়তাবাদী আবেগ তৈরির প্রশ্নে বেশ কিছু প্রতিবেশী রাষ্ট্রের নীতির সমালোচনা করেছেন তিনি। বিদেশ মন্ত্রক সূত্রের মতে, বাংলাদেশ বা পাকিস্তানের মতো দেশগুলি বুঝতে চায় মোদী সংঘাতপূর্ণ বিদেশনীতির পথেই হাঁটতে চাইছেন কি না। বাংলাদেশি শরণার্থীদের ফেরত যাওয়া নিয়ে মোদী হুঙ্কার দেওয়ার পরে হতাশা প্রকাশ করেছিলেন বাংলাদেশি নেতৃত্ব। বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী প্রকাশ্যেই জানিয়েছিলেন, এই ধরনের মন্তব্য দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যেতে কোনও ভাবেই সাহায্য করবে না। ঘরোয়া আলোচনায় একই কথা বলেছিলেন হাসিনা। কিন্তু মোদী এই বিপুল জনসমর্থন পাওয়ার পরে নিঃশর্ত বন্ধুতার হাত না বাড়িয়ে উপায় থাকছে না ঢাকার। তিস্তা এবং স্থলসীমান্ত চুক্তি দু’টি ঝুলে রয়েছে। বাণিজ্য-সহ নানা বিষয়ে ভারতকে পাশে পাওয়া একান্ত প্রয়োজন হাসিনা সরকারের। আজ হাসিনার চিঠিতে এই বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। দেশে মোদীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন হাসিনা।

সূত্রের খবর, পাক প্রধানমন্ত্রীকে মোদী জানান, দারিদ্রের মোকাবিলায় ভারত-পাক যৌথ সহযোগিতার কথা তিনি প্রচারের সময়ে বলেছিলেন। কূটনীতিকদের মতে, বিদেশনীতিতে পাকিস্তান নিঃসন্দেহে মোদীর সামনে সব চেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ২০১২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তৎকালীন বিদেশমন্ত্রী এস এম কৃষ্ণ শেষ বারের মত পাক সফরে গিয়েছিলেন। তার পর থেকে প্রায় দু’বছর হতে চলল, কার্যত অচল হয়ে রয়েছে দু’দেশের সম্পর্ক। মুম্বই সন্ত্রাসের অভিযুক্তদের সাজা দেওয়ার বিষয়ে পাকিস্তান কাজের কাজ কিছুই করেনি। উপরন্তু সীমান্তে ঘটেছে একের পর এক পাক সেনার হামলা। এই তিক্ত পরিবেশে দু’দেশের মধ্যে সম্পর্কের স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনতে মোদী কী পদক্ষেপ করবেন সেটাই এখন আঁচ করতে চাইছে পাকিস্তান।

অনেকের মতে, মোদীর বিদেশনীতি অনেকটাই নির্ধারিত হবে জাতীয় বাণিজ্যিক চাহিদার উপর নির্ভর করে। এক সাক্ষাৎকারে বিজেপি-র তিনি তেমনই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। সূত্রের খবর, গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তিনি জাপান, ইজরায়েল, কানাডার মতো দেশগুলি থেকে বিপুল অঙ্কের লগ্নি এবং প্রযুক্তি আনতে সক্ষম হয়েছিলেন। জাতীয় স্তরেও মোদী তারই প্রতিফলন দেখানোর চেষ্টা করবেন। ফলে ক্ষমতায় এসেই প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে রণং দেহি কূটনীতিতে না গিয়ে মোদী চাইবেন তাদের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ককে দৃঢ় করতে। এ ক্ষেত্রে চিন এবং জাপানকে একই সঙ্গে কী ভাবে মোদী কাজে লাগাতে পারেন সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে। অনেকের মতে, ভারতের ঝিমিয়ে পড়া অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে এই দু’টি দেশকেই পাশে পেতে চাইবে মোদী সরকার। মুখ্যমন্ত্রী থাকার সময়ে এবং তার আগে তিনি একাধিক বার চিনে গিয়েছেন। পাশাপাশি গত কয়েক বছরে ভারতে জাপানি লগ্নির প্রায় অর্ধেকই রয়েছে মোদীর গুজরাতে। তবে জাপানকে কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে মোদী সরকারকে চিনের সঙ্গে সম্পর্কের কথাও মাথায় রাখতে হবে। চলতি বছরে তিন থেকে চারটি বহুপাক্ষিক আন্তর্জাতিক সংগঠনের (ব্রিকস, আসিয়ান, জি-২০ ইত্যাদি) বৈঠকে চিনের শীর্ষ নেতার সঙ্গে বৈঠক হওয়ারও কথা রয়েছে তাঁর। মোদীকে অভিনন্দন জানান ব্রিটেন, অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী ও ভুটানের রাজাও।

agni roy narendra modi
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy