Advertisement
E-Paper

মাওবাদীদের ঘরে ফেরাতে সিনেমা বানালো পুলিশ

বন্দুকের ভয় দেখিয়ে নয়, মাওবাদীদের মূল স্রোতে ফেরানোর রাস্তা ভালবাসা, ভরসাই। সেই বার্তা দিতে বাণিজ্যিক ছবি তৈরি করল ঝাড়খণ্ড পুলিশ। রজীব কুমার জানান, ২০০২ সালে মাওবাদীদের মূল স্রোতে ফেরা নিয়ে তিনি একটি নাটক লিখেছিলেন।

আর্যভট্ট খান রাঁচি

শেষ আপডেট: ০৫ নভেম্বর ২০১৫ ১৬:৫৯

বন্দুকের ভয় দেখিয়ে নয়, মাওবাদীদের মূল স্রোতে ফেরানোর রাস্তা ভালবাসা, ভরসাই। সেই বার্তা দিতে বাণিজ্যিক ছবি তৈরি করল ঝাড়খণ্ড পুলিশ।

রাজ্য পুলিশের ডিজি (হোমগার্ড ও দমকল) রাজীব কুমার বলেন, ‘‘মাওবাদীদের ঘরে ফেরা নিয়ে ২ ঘণ্টা ১৬ মিনিটের ঝকঝকে বানিজ্যিক ছবি তৈরি করা হয়েছে। লাতেহারের একটি গ্রামকে ঘিরে ছড়িয়েছে সিনেমার গল্প। এক দিকে রয়েছে দুই ভিন্ন আর্দশের মাওবাদীর সংঘাত। সঙ্গে ভালবাসার গল্পও।’’ তিনি জানান, কী ভাবে পুলিশের ভরসা ও নিকটাত্মীয়দের ভালবাসা কোনও মাওবাদীকে সমাজের মূলস্রোতে ফেরাতে পারে সে কথাই তুলে ধরা হয়েছে গোটা ছবিতে।’’

রজীব কুমার জানান, ২০০২ সালে মাওবাদীদের মূল স্রোতে ফেরা নিয়ে তিনি একটি নাটক লিখেছিলেন। তা মঞ্চস্থ করা হতো মাওবাদী অধ্যুষিত বিভিন্ন গ্রামে। পুলিশকর্তার কথায়, ‘‘নাটকটা খুব জনপ্রিয় হয়েছিল। তখনই ওই গল্প নিয়ে পূর্ণদৈর্ঘ্যের সিনেমা তৈরির কথা মাথায় আসে। তা বাস্তব-রূপ পাওয়ায় আমি খুশি।’’

Advertisement

ঝাড়খণ্ড পুলিশের প্রযোজনায় তৈরি ওই ছবির নাম ‘প্রত্যাবর্তন-দ্য হোম কামিং’। পরিচালক নামী নাট্যব্যক্তিত্ব নিমু ভৌমিক। ছবিতে গান গেয়েছেন— শান, শুভমিতা, মহালক্ষ্মী আইয়ারের মতো শিল্পীরা। অভিনয়ে এক দিকে রয়েছেন শ্রীলা মজুমদারের মতো অভিজ্ঞ অভিনেত্রী। তেমনই পর্দায় দেখা যাবে ইশান্ত, মৌসুমী ভট্টাচার্য ও সৈকত চট্টোপাধ্যায়ের মতো নবাগতদেরও। ক্যামেরায় রয়েছেন বিক্রমজিৎ সবরওয়াল। নিমুবাবু বলেন, ‘‘মাওবাদীদের মূলস্রোতে ফেরা নিয়ে ছবি তৈরির কথা বলেছিলেন রাজীববাবু। তখন ভেবেছিলাম হয়তো এ নিয়ে কোনও তথ্যচিত্র চাইছেন তিনি। চিত্রনাট্য দেখে বুঝলাম নাচ, গান, মারপিটে ভরা মশলাদার বানিজ্যিক ছবি। ছবিতে একটা ‘আইটেম সং’-ও রয়েছে।’’

লাতেহারের জঙ্গল, খুঁটির জলপ্রপাতের পাশে শ্যুটিং হয়েছে। নিমুবাবু জানালেন, শুধু প্রযোজনাই নয় ছবিতে অভিনয়ও করেছেন ঝাড়খণ্ড পুলিশের বড়কর্তারা। ছবিতে অভিনয় করেছেন আইজি (সিআইডি) সম্পদ মিনা, আইজি (কারা) সুমন গুপ্তা, পুলিশ সুপার কুলদীপ দ্বিবেদীও। সিনেমায় রয়েছেন কয়েক জন কনস্টেবলও। থাকবেন ডালটনগঞ্জের মৌসম আর্ট গ্রুপের সদস্যরাও। নিমুবাবু জানান, সিনেমায় বাড়তি পাওনা ঝাড়খণ্ডের পাহাড় জঙ্গলে ভরা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য।

গল্পটা ঠিক কেমন? তার হালকা আভাস মিলেছে।

পাহাড়-জঙ্গলে ঘেরা লাতেহারের একটি গ্রামের দুই যুবক সুরজ ও চন্দন। ছোটবেলায় তাঁদের দেখাশোনা করেন দু’জনের কাকিমা। সেই ভূমিকায় রয়েছেন শ্রীলা মজুমদার। কিন্তু সুরজ ও চন্দন দু’জনই মাওবাদীদের সঙ্গে হাত মেলায়। কিন্তু দু’জনের দু’রকম আদর্শ। সুরজ গরিব মানুষদের অধিকার অর্জনে লড়তে চায়। অন্য দিকে, মাওবাদীদের আঞ্চলিক কম্যান্ডার চন্দনজি লেভি তোলে, খুন করে এলাকায় ত্রাস ছড়ায়। এরই মধ্যে সুরতিয়া নামে এক গ্রাম্য তরুণীর সঙ্গে আলাপ হয় সুরজের। কিন্তু তাদের বিয়ের দিন সুরতিয়াকে ধরে নিয়ে যায় পুলিশ। সুরজ পুলিশের ভরসা, সুরতিয়ার প্রেমের টানে মূলস্রোতে ফেরে। চন্দনকে মরতে হয় তার কাকিমার হাতের বন্দুকের গুলিতে। রাজীব কুমার বলেন, ‘‘ছবির নায়ক ইশান্ত। খলনায়ক সৌকত চট্টোপাধ্যায়। দু’জনই অসাধারণ অভিনয় করেছেন।’’

আজ সন্ধ্যায় রাঁচির একটি প্রেক্ষাগৃহে ছবির প্রিমিয়ার শো হয়ে গেল। নিমুবাবু জানিয়েছেন, ছবিটি গোটা দেশে মুক্তি পাবে এ মাসের শেষের দিকে। এডিজি অপারেশন সত্যনারায়ণ প্রধান বলেন, ‘‘মাওবাদীদের মূলস্রোতে ফেরানোর জন্য আমরা নানা ভাবে চেষ্টা করছি। এটা আমাদের একটা নতুন উদ্যোগ।’’

উপরে ওই সিনেমারই দু’টি দৃশ্য।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy