Advertisement
E-Paper

মোদী-মন্ত্রে ঝাঁপ চাচার, মিসার লড়াই রাজনীতির

নরেন্দ্র মোদীকে ধর্মনিরপেক্ষতার সার্টিফিকেট দিয়ে আজ বিজেপি-তে যোগ দিলেন লালুপ্রসাদের এক সময়ের ছায়াসঙ্গী রামকৃপাল যাদব। এত দিন আরজেডি-প্রধানের সব চেয়ে বড় ভক্ত হিসেবে লালুর হনুমান বলা হত তাঁকে। লালুর সঙ্গেই উঠতে-বসতে মোদীকে সাম্প্রদায়িক বলে আক্রমণ করতেন। দল বদলের সঙ্গে সঙ্গেই দেখা গেল মোদীতে কতটাই মুগ্ধ তিনি।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৩ মার্চ ২০১৪ ০২:৪৬

নরেন্দ্র মোদীকে ধর্মনিরপেক্ষতার সার্টিফিকেট দিয়ে আজ বিজেপি-তে যোগ দিলেন লালুপ্রসাদের এক সময়ের ছায়াসঙ্গী রামকৃপাল যাদব।

এত দিন আরজেডি-প্রধানের সব চেয়ে বড় ভক্ত হিসেবে লালুর হনুমান বলা হত তাঁকে। লালুর সঙ্গেই উঠতে-বসতে মোদীকে সাম্প্রদায়িক বলে আক্রমণ করতেন। দল বদলের সঙ্গে সঙ্গেই দেখা গেল মোদীতে কতটাই মুগ্ধ তিনি। দিল্লিতে বিজেপি-র সদর দফতরে রাজনাথ সিংহ, সুশীল মোদী, মঙ্গল পাণ্ডে, সি পি ঠাকুরের মতো নেতাদের উপস্থিতিতে নতুন দলে যোগ দিয়েই রামকৃপাল আজ মোদীর ধর্মনিরপেক্ষতার পক্ষে জোরালো সওয়াল করতে উঠেপড়ে লাগলেন। মোদীকে উদ্ধৃত করেই বললেন, গুজরাতে সংখ্যালঘুরা যতটা উন্নয়নের সুফল পেয়েছেন, বিহারে তার ছিটেফোঁটাও হয়নি।

বিজেপি-তে এসে নিজের মোদী সম্পর্কে তাঁর পুরনো কট্টর অবস্থান বদলানোর দায় তো ছিলই। আরও একধাপ এগিয়ে রামকৃপাল নিজেকেও মোদীর সঙ্গে তুলনা করে বসলেন। বললেন, “দেশের মানুষ তাঁকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাইছেন। তিনি এক জন চা বিক্রেতার ছেলে। সেই পরিবারের ছেলে আজ প্রধানমন্ত্রীর পদপ্রার্থী। আমিও গরিব ঘরের ছেলে। আমার বাবাও দুধ বিক্রি করতেন।” তাঁর এই সব কথায় মোটেই আমল দিচ্ছেন না লালু। তিনি বলেন, “রাতারাতি নরেন্দ্র মোদীর তিনি ভাই হয়ে গেলেন। আমি তাঁকে দল থেকে তাড়াইনি। এমনকী রাজ্যসভার সদস্য পদও কেড়ে নিতে চাইনি।” তবে সাম্প্রদায়িক তকমা যাতে গায়ে না লাগে, তা বোঝাতে সচেতন ভাবেই রামকৃপাল বলেছেন, “আমার জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত সব ধর্মের মানুষের পাশে থাকব।”

সাধারণত ভিন্ দল থেকে এসে বিজেপি-তে যোগ দেওয়ার মঞ্চে নতুন কোনও অতিথিকে খুব বেশি বলার সুযোগ দেওয়া হয় না। রামকৃপালের ক্ষেত্রে দেখা গেল তার উল্টো। গত কয়েক দিন ধরেই বিভিন্ন দল থেকে নেতাদের বিজেপি-তে যোগ দেওয়ার ঢল চলছে। আজও ঝাড়খণ্ডের নেতারা যোগ দিয়েছেন। বিজেপি-তে আসার জন্য কংগ্রেসের নেতা জগদম্বিকা পালও আজ মোদী-ঘনিষ্ঠ অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠক করেন। কিন্তু রামকৃপালকে নিয়ে বিজেপি নেতৃত্বের বাড়তি উৎসাহ রয়েছে। তাই আজ তাঁকে বলারও সুযোগ দিলেন রাজনাথ।

বিজেপি নেতারা মনে করছেন, ভোটের মুখে পাটলিপুত্র আসন থেকে লড়ে তিনি শুধু সেই কেন্দ্রেই নয়, গোটা বিহারেই লালুপ্রসাদের যাদব ভোটব্যাঙ্কে থাবা বসাবেন। সেই কেন্দ্রে লালু-তনয়া মিসা ভারতীর সঙ্গে টক্কর নিতে গিয়ে প্রতিনিয়ত লালুর বিরুদ্ধেই সরব হবেন। আজ থেকেই তার ক্ষেত্র প্রস্তুত করে রাখলেন তিনি।

তিনি বলেন, “দলের মধ্যে আমি উপেক্ষিত হচ্ছিলাম। সামাজিক ন্যায়ের থেকে পারিবারিক ন্যায়কে বেশি অগ্রাধিকার দিচ্ছিলেন লালুপ্রসাদ। তা আমাকে কষ্ট দিচ্ছিল। লালুপ্রসাদ রামমনোহর লোহিয়া এবং কর্পূরী ঠাকুরের আদর্শ থেকে সরে গিয়েছেন।” তাঁর আক্ষেপ, “১৭ বছর এই দলের সুখ-দুঃখের সঙ্গে জড়িয়ে থেকে দলকে মজবুত করার চেষ্টা করেছি। এখন ভাবছি এত দিন কী করলাম।” রামকৃপালের বিজেপি-তে যোগ দেওয়া নিয়ে লালুপ্রসাদ বলেন, “আমার দলের ক্ষতি করার পরে এ বার বিজেপি-র ক্ষতি করতে গিয়েছে। সাম্প্রদায়িক শক্তির কাছে নিজেকে বেচে দিয়েছে।”

মিসা অবশ্য এ দিন বলেন, “রাজ্যে আরজেডি এবং বিজেপি-র মধ্যে লড়াই। সুতরাং পাটলিপুত্রে দুই দলের মধ্যে লড়াই হবে।” চাচা-রামকৃপাল যদি এই কেন্দ্রে প্রার্থী হন, তা হলে কী করবেন, এই প্রশ্নে মিসার বক্তব্য, “ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিজের জায়গায়। রাজনৈতিক লড়াই জনতার রাজনীতির আঙ্গিনায়।”

ramkripal yadav bjp modi
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy