Advertisement
E-Paper

মোদীর বিরুদ্ধে চাঙ্গা বাম-মুলায়ম-কেজরী

তাঁরা নিজেরা কেউই বলার মতো সাফল্য পাননি। কিন্তু বিহার ভোটে নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহের বিজয়রথের চাকা বসে যাওয়ায় বিজেপি-বিরোধী সব দলের নেতারাই চাঙ্গা হয়ে উঠেছেন। তা সে বামেরাই হোন বা মুলায়ম সিংহ যাদব কিংবা অরবিন্দ কেজরীবাল।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৯ নভেম্বর ২০১৫ ০৩:৫৭

তাঁরা নিজেরা কেউই বলার মতো সাফল্য পাননি। কিন্তু বিহার ভোটে নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহের বিজয়রথের চাকা বসে যাওয়ায় বিজেপি-বিরোধী সব দলের নেতারাই চাঙ্গা হয়ে উঠেছেন। তা সে বামেরাই হোন বা মুলায়ম সিংহ যাদব কিংবা অরবিন্দ কেজরীবাল।

তাঁরা মনে করছেন, এখনই হয়তো বিজেপি-র বিরুদ্ধে জাতীয় স্তরে কোনও ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ জোট তৈরি হচ্ছে না। কারণ, সেই জোট তৈরি করতে গেলে অনেক প্রশ্ন উঠবে। বামেরা গেলে থাকবেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুলায়ম
থাকলে থাকবেন না মায়াবতী। কিন্তু বিজেপির বিরুদ্ধে যে যেখানেই লড়ছেন, তাঁদের মনোবল বাড়বে। কোনও কোনও প্রসঙ্গে একজোট হয়ে প্রতিবাদও করা যাবে।

বামেরাই যেমন। তাঁদের কাছে প্রস্তাব ছিল, নীতীশ-লালু-কংগ্রেসের মহাজোটে সামিল হওয়ায়। কিন্তু
দলের নীতি মেনে সিপিএম বা সিপিআই নেতারা শেষ পর্যন্ত ওই জোটে যেতে রাজি হননি। যুক্তি ছিল, দলের শক্তি ও বাম জোট মজবুত করা হোক। তার পর নির্বাচনী সমঝোতা। গেলে হয়তো আজ তাদেরও দু’একটি আসন জুটত। কিন্তু তার বদলে সিপিআই(এম-এল) ও এসইউসি-কে নিয়ে ছয় বাম দলের জোট হয়েছিল। ভোটের ফলাফল বলছে, সিপিএম-সিপিআই একটি আসন না পেলেও সিপিআই(এম-এল) তিনটি জিতেছে। এর মধ্যে দু’টি
যথেষ্ট ভাল ব্যবধানে। গত বিধানসভা নির্বাচনে সিপিআইয়ের একটি আসন থাকলেও এ বার সে’টি খোয়া
গিয়েছে। তা সত্ত্বেও সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি বলছেন, ‘‘প্রথমে দিল্লি, তার পরে কেরলে পুর-পঞ্চায়েত ভোটে বামেদের জয়, তার পরে বিহারের ফল। স্পষ্টই বোঝা যাচ্ছে মানুষের অচ্ছে দিন শুরু হয়ে গিয়েছে।’’ নীতীশ-লালুকে অভিনন্দন জানিয়ে ইয়েচুরি বলেছেন, ‘‘এ বার আরও বড় যুদ্ধ। আন্দোলন জোরদার হবে।’’ লালু যে জানিয়েছেন, তিনি বারাণসী থেকে আন্দোলন শুরু করতে চলেছেন, তাতেও উজ্জীবিত বামেরা।

একই অবস্থা মুলায়ম সিংহ যাদবেরও। নীতীশ-লালুর সঙ্গে আসন রফা মনোমত না হওয়ায় জোট ভেঙে বেরিয়ে গিয়ে একলা লড়েছিল সমাজবাদী পার্টি। বিহারের ফল দেখে তিনি এখন হাত কামড়াচ্ছেন ঠিকই। কারণ কোনও আসন না পেয়ে মেরেকেটে ১ শতাংশ ভোট নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে মুলায়মকে। কিন্তু উত্তরপ্রদেশে বিজেপির মোকাবিলা করার ক্ষেত্রে নীতীশের জয় অবশ্যই মুলায়ম-অখিলেশের মনোবল বাড়িয়ে দিল বলেই রাজনীতিকদের মত।

তবে বিহারে যে ভাবে এত দিনের প্রতিদ্বন্দ্বী নীতীশ-লালু বিজেপির বিরুদ্ধে একজোট হয়েছেন, উত্তরপ্রদেশে মায়াবতী ও মুলায়মের সে ভাবে একজোট হওয়া কঠিন। বিজেপি মায়াবতীর সঙ্গে জোটের চেষ্টা করতে পারে। তা না হলেও রাজনীতিকরা বলছেন, ইদানীং জাতপাতের রাজনীতির থেকেও উন্নয়নের বিষয়ে বেশি সরব হচ্ছেন মায়াবতী। অখিলেশ সরকার-বিরোধী ভোট বিজেপির থেকে নিজের ঝুলিতে নিয়ে আসার লড়াইয়েও তিনি
উদ্যোগী হবেন।

আঞ্চলিক দলের হয়ে যিনি প্রথম খাস দিল্লিতে মোদীর অশ্বমেধের ঘোড়া থামিয়ে দিয়েছিলেন, সেই অরবিন্দ কেজরীবালের বক্তব্য, ‘‘এই ফল মোদী সরকারের বিরুদ্ধে জনমত। যে ভাবে প্রধানমন্ত্রী অহঙ্কার ও ঔদ্ধত্যের সঙ্গে কাজ করছেন, মোদী-অমিত শাহ জুটি যে ভাবে স্বৈরাচার চালাচ্ছে, তার পরে এই ভোট কেন্দ্রের গর্ব ভেঙে দিয়েছে।’’ এর পরে রাজ্যের বিষয়ে কেন্দ্রের নাক গলানোও বন্ধ হবে বলে তাঁর মত।

কেজরীবাল ইতিমধ্যেই মমতা-নীতীশ এবং ত্রিপুরার সিপিএমের মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারকে নিয়ে কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ক বিষয়ে ঐকমত্য গড়ে তোলার চেষ্টা করেছিলেন। মমতাও জাতীয় স্তরে অবিজেপি, অকংগ্রেসি জোট গড়তে আগ্রহী। কিন্তু বাম দলগুলির সঙ্গে এক মঞ্চে থাকা তাঁর পক্ষে এখনও কঠিন। তাই কেজরীবালের মঞ্চেও তিনি ও মানিকবাবু মুখোমুখি হননি। আলাদা আলাদা করে কেজরীবালের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। তা ছাড়া মমতা ও মানিকবাবু ছাড়া কেউই না আসায় কেজরীবালের সেই উদ্যোগ কার্যত ভেস্তে যায়।

এখনই অবশ্য জোটের কথা ভাবছেন না কেউই। কিন্তু মোদী সরকারকে চাপে ফেলার ক্ষেত্রে বিভিন্ন সময়ে সুর মেলানোর কথা ভাবা যেতেই পারে বলে মনে করছেন মমতা-কেজরীবালেরা। তা ছাড়া এই পরিস্থিতিতে সংসদে বিল পাশ করানোর স্বার্থে বিভিন্ন আঞ্চলিক দলের উপরে মোদী সরকারের নির্ভরতা বাড়বে বলেই ধারণা রাজনীতিকদের। তাই এখন সারদা কেলেঙ্কারিতে সিবিআই তদন্ত
নিয়ে মমতাকে বেশি চাপে ফেলা তাঁদের পক্ষে সম্ভব নয় বলে মনে করছে তৃণমূল।

সিপিআই(এম-এল)-র সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘এখনই জাতীয় স্তরে এই ধরনের কোনও জোটের সম্ভাবনা নেই। কিন্তু মোদী সরকারের নীতির বিরুদ্ধে যে সব রাজনৈতিক দল বা গণ সংগঠন আন্দোলন করছে, এই ফলে সকলেরই মনোবল বাড়বে।’’

অনেকের মতে, রাজনীতিতে অসম্ভব বলে কিছুই নেই। এক সময়ে বিশ্বনাথপ্রতাপ সিংহকে কেন্দ্র করেও কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সকলে এককাট্টা হয়েছিল। একসঙ্গে এসেছিল বাম ও বিজেপি। তাই যৌথ মঞ্চ নিয়ে শেষ কথা বলার সময় এখনও আসেনি।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy