Advertisement
E-Paper

রেকর্ড ভোট শুনেই আশায় বিরোধীরা

ষোড়শ লোকসভা ভোটে ‘মোদী ঝড়’ উঠেছে কি না, দেশ জুড়ে কার্যত তার প্রথম পরীক্ষা হল আজ। আগের দু’দফায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ভোট হয়ে গিয়েছে। তৃতীয় দফার ভোট ছুঁয়ে গেল কাশ্মীর থেকে কেরল, দিল্লি থেকে গো-বলয়--- মোট ৯১টি আসনকে। ভোটমুখী প্রতিটি রাজ্যেই আজ দেখা গিয়েছে, গত বারের চেয়ে অনেকটাই বেড়েছে ভোটদানের হার।

অনমিত্র সেনগুপ্ত

শেষ আপডেট: ১১ এপ্রিল ২০১৪ ০৩:৫০

ষোড়শ লোকসভা ভোটে ‘মোদী ঝড়’ উঠেছে কি না, দেশ জুড়ে কার্যত তার প্রথম পরীক্ষা হল আজ।

আগের দু’দফায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ভোট হয়ে গিয়েছে। তৃতীয় দফার ভোট ছুঁয়ে গেল কাশ্মীর থেকে কেরল, দিল্লি থেকে গো-বলয়--- মোট ৯১টি আসনকে। ভোটমুখী প্রতিটি রাজ্যেই আজ দেখা গিয়েছে, গত বারের চেয়ে অনেকটাই বেড়েছে ভোটদানের হার। দিনের শেষে উপ-নির্বাচন কমিশনার বিনোদ জুৎসি বলেন, “সব রাজ্য থেকেই ভোটের হার বৃদ্ধির খবর এসেছে। যা অভূতপূর্ব। এটা রেকর্ড।” কমিশনের আশা, এই ধারা বজায় থাকতে চলেছে বাকি ছ’টি পর্বেও।

প্রশ্নটা এখানেই। এই রেকর্ড ভোট গেল কার পক্ষে? বিজেপি ইতিমধ্যেই উচ্ছ্বসিত। নবীন ভোটারদের কাছে টানার চেষ্টায় কসুর করেননি নরেন্দ্র মোদীরা। নেতারা বলছেন, যুব সমাজ যে মোদীর নেতৃত্বে পরিবর্তন চাইছে, এই বাড়তি ভোট তারই প্রমাণ। সেই নবীনরা আবার কংগ্রেসেরও আশা। নেতারা বলছেন, তরুণ ভোটারদের মধ্যে প্রভাব ফেলতে সক্ষম হবে রাহুল গাঁধীর স্বচ্ছ ভাবমূর্তি।

ভোটের হার বাড়তে দেখে উৎসাহিত আঞ্চলিক শক্তিগুলিও। বিহারে জেডিইউ, দিল্লিতে আম আদমি পার্টি, উত্তরপ্রদেশে সপা-বসপা সকলেরই মতে, কেন্দ্রে প্রতিষ্ঠান বিরোধিতার তত্ত্বকেই তুলে ধরছে এই বাড়তি ভোটদানের প্রবণতা। দুর্নীতি, মূল্যবৃদ্ধির মতো বিষয়গুলি নিয়ে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ক্ষোভই আজ ফুটে বেরিয়েছে বলে মনে করছেন তাঁরা। স্বভাবতই ওই তত্ত্ব খারিজ করে কংগ্রেস নেতৃত্ব বলেছেন, সব ক্ষেত্রেই মানুষ শাসকদলের বিরুদ্ধেই ভোট দেবে, এমন ভাবা ঠিক নয়। তা হলে মধ্যপ্রদেশ বা ছত্তীসগঢ়ে বিজেপি ফের জিতে আসত না।

সদ্য হয়ে যাওয়া বিধানসভা ভোটে ক্ষমতায় ফেরা নিয়ে কিছুটা সংশয়ীই ছিলেন মধ্যপ্রদেশের বিজেপি নেতারা। কিন্তু ফল হয় আশাতীত ভাল। আজও মধ্যপ্রদেশের ৯টি আসনে প্রায় ৬০% ভোট পড়েছে, যা গত বারের চেয়ে প্রায় ৮% বেশি। তাই বাড়তি আশাবাদী মোদী শিবির। একই ভাবে আজ ভোট হওয়া ছত্তীসগঢ়ের একটি আসনেও ভাল ফলের প্রত্যাশী তাঁরা।

বিজেপির মুখপাত্র রবিশঙ্কর প্রসাদ বলছেন, “গোটাটাই মোদী হাওয়া। মানুষ পরিবর্তন চাইছে।” তবে মুখে এই কথা বললেও আঞ্চলিক শক্তি অধ্যুষিত এলাকায় পদ্মের চাষ কত দূর সফল হবে, সেই হিসেব কষাও চলছে। বিশেষজ্ঞরাও মনে করছেন, বিজেপির আসল প্রতিপক্ষ ওই আঞ্চলিক নেতারাই। ওড়িশায় নবীন পট্টনায়ক, বিহারে নীতীশ কুমার, উত্তরপ্রদেশে মুলায়ম-মায়াবতী আর দিল্লিতে অরবিন্দ কেজরীবাল। রাজধানীতে আজ বিধানসভা ভোটের প্রায় সমান ৬৫ শতাংশের মতো ভোট পড়েছে। বিজেপির আশা, এ বার আর আপ-কে ঢেলে ভোট না দিয়ে মোদীতে আস্থা রাখবেন দিল্লিবাসী।

পাশের রাজ্য হরিয়ানায় সরাসরি কংগ্রেস-বিজেপির লড়াই। গত বার সেখানে ন’টি আসনে জিতেছিল কংগ্রেস। কিন্তু এ বার তাদের বড় ফাঁড়া রবার্ট বঢরার বিরুদ্ধে জমি কেলেঙ্কারির অভিযোগ। তার ওপর মোদীর সাম্প্রতিক জনসভা বিপুল সাড়া ফেলেছিল। আবার যোগেন্দ্র যাদবের নেতৃত্বে আপ-ও হরিয়ানায় কম কাঠখড় পোড়াচ্ছে না। আজ হরিয়ানার দশটি আসনে ৬ শতাংশ ভোট বেশি পড়েছে। যা দেখে অনেকেরই সন্দেহ, আসন-সমীকরণ বদলাতে পারে হরিয়ানায়।

মুজফ্ফরনগর-সহ উত্তরপ্রদেশের ১০টি কেন্দ্রেও ভোট ছিল আজ। আর ওই দশটি কেন্দ্রে সব মিলিয়ে প্রায় ১৪% বেশি ভোট পড়েছে, যা মেরুকরণের স্পষ্ট ইঙ্গিত, মনে করছেন অনেক নেতাই। বিজেপি শিবিরও খুশি। গো-বলয়ের সব চেয়ে বড় রাজ্যটিতে হিন্দু ভোট সংগঠিত করতে নিজের ঘনিষ্ঠ অমিত শাহকে দায়িত্ব দেন মোদী। হিন্দুত্বের পতাকা ওড়ানোর কাজটি করে গিয়েছেন অমিতই। সম্প্রতি জাঠেদের সভায় প্রকাশ্যে ‘বদলা’র ডাক দিয়ে পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছেন অমিত। বস্তুত বিজেপি মনে করে, বিভিন্ন জাতের হিন্দু ভোটের লড়াইয়ে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আরএলডি-র জাঠ নেতা অজিত সিংহকেও অনেকটা পিছনে ফেলে দেবেন মোদী। তবে অমিত শাহ যেমন হিন্দু ভোটকে একজোট করেছেন, বিপরীতেও মেরুকরণ স্পষ্ট। মুলায়ম সিংহের হয়ে সংখ্যালঘু ভোট টানতে নেমে পড়েছেন আজম খান। তিনি কার্গিল জয় নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে বসেছেন। সূত্রের মতে, এখনও পর্যন্ত যা ভাবগতিক, তাতে উত্তরপ্রদেশে সংখ্যালঘু ভোটের বড় ভাগ পেতে চলেছেন মুলায়মই।

(সহ-প্রতিবেদন: অগ্নি রায়)

anamitra sengupta agni roy
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy