সমদোষী দু’জনেই। কিন্তু ভুল স্বীকার করে এ যাত্রায় বিজেপি নেতা অমিত শাহ ছাড় পেলেও, নিষেধাজ্ঞা উঠল না সমাজবাদী পার্টি নেতা আজম খানের উপর থেকে। কারণ তিনি তাঁর ভুল স্বীকার করতে রাজি নন। উপরন্তু জনসভায় ভোটারদের শাসানোর অভিযোগে এ বার তাঁর দলের শীর্ষ নেতা মুলায়ম সিংহ যাদবকেই নোটিস ধরাল নির্বাচন কমিশন।
অভিযোগ, গত ৩ এপ্রিল বুলন্দশহরে এক জনসভায় মুলায়ম কার্যত প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষামিত্র তথা অস্থায়ী শিক্ষকদের কার্যত হুমকি দিয়ে বলেন, রাজ্য সরকার তাঁদের অস্থায়ী থেকে স্থায়ী করেছে। এখন তাঁরা যদি সমাজবাদী পার্টিকে ভোট না দেন তা হলে সরকার তাঁদের স্থায়ী কর্মীর স্বীকৃতি বাতিল করে দেবে। বিষয়টি নিয়ে একাধিক বিরোধী দল মুলায়মের বিরুদ্ধে কমিশনের কাছে অভিযোগ জানায়। কমিশনের বক্তব্য, কোনও নেতাই ভোট চাইতে গিয়ে হুমকি দিতে পারেন না। এটা নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন। এ ক্ষেত্রে মুলায়মের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গিয়েছে। তাই এ বিষয়ে আগামী রবিবারের মধ্যে কমিশনকে নিজের বক্তব্য জানাতে বলা হয়েছে মুলায়মকে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে উত্তর না এলে মুলায়মের বিরুদ্ধে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কমিশন।
উস্কানিমূলক ভাষণ দেওয়ার অভিযোগে গত সপ্তাহেই বিজেপির অমিত শাহ ও সপা’র আজম খানের সমস্ত ধরনের প্রচারের উপরে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল নির্বাচন কমিশন। কমিশনের বক্তব্য ছিল, ওই দুই নেতাই নির্বাচনী প্রচারে যে ধরনের ভাষা ব্যবহার করেছেন, তাতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রতি নষ্ট হয়েছে। তাই ওই দুই নেতাই কোনও ধরনের ভোট প্রচার বা জনসভা করতে পারবেন না। এ বিষয়ে দুই নেতার বক্তব্য জানতে নোটিসও পাঠায় কমিশন। নোটিসের জবাবের অমিত শাহ কমিশনের কাছে ক্ষমা চেয়ে নেন। ভবিষ্যতে নির্বাচনী আচরণবিধি না ভাঙারও আশ্বাস দেন তিনি। এর পরে গত কালই তাঁর উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন। অন্য দিকে আজম প্রসঙ্গে কমিশনের যুক্তি, সমাজবাদী পার্টির ওই নেতা অভিযোগের জবাবে ক্ষমা চাওয়ার পথে হাঁটেননি। উল্টে তিনি যে আচরণবিধি ভেঙেছেন তা-ও মানতে চাননি। তাই তাঁর উপরে নিষেধাজ্ঞা বজায় রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এক যাত্রায় পৃথক ফল হওয়ায় ক্ষুব্ধ আজম খান আজ কমিশনের ভূমিকার সমালোচনায় সরব হন। তাঁর কথায়, “কমিশন বিজেপির চাপে পড়ে কাজ করছে। কমিশন এক দিকে এক জন খুনিকে প্রচার করতে দিচ্ছে। অথচ সত্যি কথা বলার অপরাধে আমাকে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে।” এমন পক্ষপাতদুষ্ট নির্বাচন কমিশনের থাকার কী প্রয়োজন, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
আজমের এই আক্রমণের পরে কমিশন কী পদক্ষেপ করে, এখন সেটাই দেখার।