প্রত্যাশিত ভাবেই কংগ্রেসের বিদ্রোহী বিধায়করা আজ বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করলেন। বিজেপিতে যোগ দেওয়ার ইচ্ছেও তাঁরা প্রকাশ করলেন। তবে অসম বিধানসভায় তৃণমূলের একমাত্র বিধায়ক দীপেন পাঠকেরও বিজেপিতে যোগ দেওয়ার কথা শোনা গেলেও, তিনি বলেন, ‘‘এখনও এমন সিদ্ধান্ত আমি নিইনি।’’
হিমন্তবিশ্ব শর্মা কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার কথা ঘোষণা করার পর থেকেই তাঁর পক্ষে থাকা কংগ্রেসি বিধায়ক পীযুষ হাজরিকা, জয়ন্তমল্ল বরুয়া, তাবু তাহের বেপারী, পল্লবলোচন দাস, রাজেন বরঠাকুর, বলিন চেতিয়া, প্রদান বরুয়া, বিনন্দ শইকিয়া, কৃপানাথ মালারা প্রকাশ্যে হিমন্তের প্রতি তাঁদের আনুগত্য ঘোষণা করেন। তাঁরা জানান, হিমন্ত যে দিকে, তাঁরাও সেই দিকেই যাবেন। হিমন্ত যেদিন বিজেপিতে যোগ দিতে দিল্লি থেকে গুয়াহাটি এলেন, তাঁর সঙ্গেই দিল্লি থেকে আসেন পীযুষ হাজরিকা, পল্লব লোচন দাস ও রাজেন বরঠাকুর। বাকি হিমন্তপন্থী ও গগৈ বিরোধী ৬ বিধায়ক গুয়াহাটি বিমান বন্দরে হাজির থেকে হিমন্তকে সম্বর্ধনা জানান।
হিমন্তকে গুয়াহাটি বিমানবন্দরে স্বাগত জানাতে যাওয়ার অপরাধে পীষুষ হাজরিকা, পল্লবলোচন দাস, প্রদান বরুয়া ও জয়ন্তমল্ল বরুয়াকে সাসপেন্ড করে কংগ্রেস। পাশাপাশি, বিনন্দ শইকিয়া, আবু তাহের বেপারি, বলিন চেতিয়া, কৃপানাথ মালা ও রাজেন বরঠাকুরকে শো-কজ নোটিশ পাঠানো হয়।
রাজ্য কংগ্রেসের টালমাটাল অবস্থা দেখে সনিয়া গাঁধী মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ ও প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অঞ্জন দত্তকে দিল্লিতে ডেকে পাঠান। তখনই তাঁরা সনিয়াকে জানান, কেবল হিমন্তই নন, বাকি নয় বিধায়কও কংগ্রেস ছাড়তে পারেন। কালই নয় বিদ্রোহী বিধায়ক দিল্লি পৌঁছন। আজ প্রথমে বিজেপি সাধারণ সম্পাদক রামমাধবের সঙ্গে দেখা করেন তাঁরা। পরে, হিমন্তের নেতৃত্বে সকলে অমিত শাহের বাড়িতে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করেন। বৈঠক শেষে হিমন্ত বলেন, ‘‘এদিন বিধায়করা বিজেপিতে যোগ দেননি। অমিত শাহের কাছে গিয়ে আনুগত্য প্রকাশ করেছেন। শীঘ্রই আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁরা বিজেপিতে যোগ দেবেন।’’ হিমন্তের দাবি, বিজেপিতে কংগ্রেসের আরও বিধায়ক ও পাঁচ শতাধিক কংগ্রেস নেতা-কর্মী যোগ দেবেন।
হিসেব মতো ১২৬ আসনের বিধানসভায় ৭৭ জন কংগ্রেস বিধায়কের মধ্যে ৯ জন বিজেপিতে গেলেও গগৈ সরকারের পতনের কোনও সম্ভাবনা নেই। হিমন্ত বলেন, ‘‘আমি সংখ্যার খেলায় কংগ্রেস সরকারকে ফেলতে চাই না। আগামী নির্বাচনে জনতাই কংগ্রেসকে ছুড়ে ফেলবে।’’ তিনি নিজে কয়েকদিনের মধ্যেই জালুকবাড়ির বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দেবেন বলে হিমন্ত জানিয়েছেন। আজকের বৈঠকের পরে পীযুষ হাজরিকা, জয়ন্তমল্ল বরুয়ারা জানান, তাঁরা ফিরে গিয়েই কংগ্রেস থেকে ইস্তফা দিয়ে বিজেপিতে যোগ দেবেন। জয়ন্ত বলেন, ‘‘বিজেপির অসম জয়ের স্বপ্ন সফল করব আমরা। অমিত শাহকে সেই আশ্বাসই দিয়েছি। আবু তাহের, বলিনবাবুরা জানান, ফিরেই রাজ্যের পরিষদীয় সচিবের পদ থেকে তাঁরা ইস্তফা দেবেন।
প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অঞ্জন দত্ত বলেন, ‘‘৯ জন বিধায়ক যে বিজেপিতে যাবেন, তা আমরা জানতাম। এই খবরে নতুনত্ব বা অস্বাভাবিকতা কিছু নেই।’’ তবে এই পরিস্থিতিতে কংগ্রেসও নিজেদের ঘোষিত অবস্থান থেকে সরে এসে আরও নমনীয় অবস্থান নিয়েছে। এর আগে প্রদেশ সভাপতি জানিয়েছিলেন, বর্তমান সব বিধানকই টিকিট পাবেন না। আজ তিনিই জানান, সব বিধায়করাই টিকিট পাবেন। এদিকে, রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব জানিয়েছে, ‘‘দল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিলেই যে কংগ্রেস বিধায়কদের প্রার্থী-পদ দেওয়া হবে, তা মনে করার কোনও কারণ নেই। বিশেষ স্ক্রুটিনি কমিটি বসেই প্রার্থী ঠিক করবে।’’ অসম বিধানসভায় তৃণমূলের একমাত্র প্রতিনিধি, হাজোর বিধায়ক দীপেন পাঠকও দিল্লি যাওয়ায় খবর রটে, তিনিও বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন। এমনিতে তিনি হিমন্ত ঘনিষ্ঠ
হিসেবেই পরিচিত। তিনি অবশ্য দিল্লি থেকে ফোনে বলেন, ‘‘আমি এখনও তৃণমূল থেকে পদত্যাগ করিনি।’’ দিল্লি এলেও তিনি অমিত শাহের সঙ্গে দেখাও করেননি।
হিমন্তর কেন্দ্র জালুকবাড়ি থেকে নির্বাচিত কংগ্রেসের সব ওয়ার্ড কমিশনার, জেলা পরিষদ সদস্য, সমগ্র উত্তর গুয়াহাটির টাউন কমিটি ও গ্রাম পঞ্চায়েত সভাপতিরা বিজেপিতে যোগ দেন। সূত্রের খবর, আসুর সদ্য অবসরপ্রাপ্ত সভাপতি ও সম্পাদক শঙ্কর প্রদাস রয় ও তপন গগৈও ১৬ সেপ্টেম্বর বিজেপিতে যোগ দেবেন।