জ্বলে পুড়ে খাক ইউরোপ! চল্লিশের গণ্ডি ছাড়িয়ে তাপমাত্রার পারদ রেকর্ড গড়েছে জার্মানি, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস ও বেলজিয়ামে। এ বার সেই তাপপ্রবাহ এগোচ্ছে গ্রিনল্যান্ডের দিকে। আর তাতেই নতুন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, ওই তাপপ্রবাহের ঝাপটায় গলে যেতে পারে গ্রিনল্যান্ডের দ্বিতীয় বৃহত্তম বরফের স্তর!

অন্যান্য বার জুলাই মাসে ইউরোপে উষ্ণতা থাকে সহনীয় মাত্রার মধ্যেই। কিন্তু, এ বার যেন মাত্রা ছাড়া তাপমাত্রা। রুদ্রমূর্তি ধারণ করেছে সে। ফলে, শুক্রবার প্যারিসে তাপমাত্রা পৌঁছেছিল ৪৩.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। বেলজিয়ামের কিছু জায়গায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। জার্মানির লিনজেনে সর্বকালীন রেকর্ড গড়ে ইতিমধ্যেই তাপমাত্রা ৪২.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে ইউরোপের একাধিক দেশে।

ইউরোপ পুড়িয়ে সেই ভয়াবহ তাপপ্রবাহই এখন নজর ঘুরিয়েছে গ্রিনল্যান্ডের দিকে। আর তাতেই আশঙ্কার মেঘ জমাট বাঁধছে একটু একটু করে। রাষ্ট্রপুঞ্জের শাখা ওয়ার্ল্ড মেটেওরোলজিক্যাল অর্গানাইজেশনের (ডব্লিউএমও) কর্তারা যে আশঙ্কার কথা বলছেন তা ভয় ধরিয়ে দেওয়ার পক্ষে যথেষ্ট। ওই সংস্থার মুখপাত্র ক্লেয়ার ন্যুলিস বলছেন, ‘‘অবিশ্বাস্য ভাবে ইউরোপের তাপমাত্রা বেড়েছে। উত্তর আফ্রিকা থেকে তাপপ্রবাহ এ বার এগোচ্ছে গ্রিনল্যান্ডের দিকে। তার ফলে গলতে পারে গ্রিনল্যান্ডের পুরু বরফের স্তর।’’ তাঁর আশঙ্কা, ২০১২ সালের থেকেও এ বছরের তাপপ্রবাহে গ্রিনল্যান্ডের বরফের স্তরে আরও বেশি ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।

ইউরোপ জুড়ে তাপপ্রবাহ। গ্রাফিক: শৌভিক দেবনাথ।

আরও পড়ুন: পাকিস্তানকে এফ-১৬ বিমানের প্রযুক্তি দিয়ে সাহায্য, ইমরানের সফরের পর ঘোষণা আমেরিকার​

ন্যুলিস যে তথ্য তুলে ধরেছেন তা চমকে দেওয়ার পক্ষে যথেষ্ট। তাঁর দাবি, ‘‘শুধুমাত্র জুলাই মাসেই গ্রিনল্যান্ডের বিভিন্ন জায়গায় উপরের অংশ থেকে ষোলোশো কোটি টন বরফ গলেছে, যা আয়তনে ৬৪ লক্ষ অলিম্পিক সুইমিং পুলের সমান।’’ তাঁদের দাবি, গ্রিন হাউস গ্যাসের ফলেই এমন রকেট গতিতে বাড়ছে তাপমাত্রা।

পরিবেশবিদদের মতে, প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকেই গ্রিনল্যান্ডের অন্তত ৮০ শতাংশ জুড়ে প্রচুর বরফ জমে রয়েছে। ওই বরফ সম্পূর্ণ গলে গেলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা গড়ে ৭ মিটার বেড়ে যাবে। আর তাতেই ভূপৃষ্ঠের একটি বড় অংশ জলের তলায় চলে যেতে পারে।

আরও পড়ুন: জীবন্ত নয়, স্পুটনিকে চড়ে মহাকাশে পৌঁছেছিল লাইকার লাশ, জানা যায় ৩৫ বছর পরে

এ বার এক ঝটকায় বদলে গিয়েছে ইউরোপের আবহাওয়ার চিত্রটাও। প্রকৃতির খামখেয়ালিপনায় এত দিনের চেনা আবহাওয়া আচমকা বদলে গিয়েছে। ব্রিটেনে প্রবল ঝড়ে অন্তর্দেশীয় ও ইউরোপের বিমান উড়ান সাময়িক ভাবে বন্ধ হয়ে যায়। শিলাবৃষ্টির ফলে ব্যাহত হয় ফ্রান্সের বিখ্যাত সাইকেল রেস ত্যুর দ্য ফ্রাঁসেও।

আরও পড়ুন: বাস্তবের ‘গালি বয়’কে চেনেন? ঢাকার বস্তি থেকে উঠে এখন বাংলা র‌্যাপের ধামাকা​