সকালে উঠে জলখাবারের সময় নেই! দুপুরে খিদে পেলে অনেকেই বেছে নিচ্ছেন প্রোটিন বার। খাওয়া সহজ, ব্যাগে রাখাও সহজ। কাজ করতে করতে খাওয়া যায়। তবে অনেক চিকিৎসকই বাজারচলতি প্রোটিন বার খাওয়ার পক্ষপাতী নন। তা ছাড়া, স্বাদ বাড়ানোর জন্য অনেক প্রোটিন বারে চিনির ব্যবহারও হয় । যোগ করা হয় ফ্লেভার। এই সবের বদলে ঘরোয়া খাবারই বেছে নিতে বলেন পুষ্টিবিদ এবং চিকিৎসকেরা। হাতের কাছে কোন খাবার থাকলে খিদের মুখে খাওয়া যাবে, প্রোটিন, ফাইবারও পাবে শরীর?
চিপ্স, বাদামের মিলমিশ
চিপ্স, বাদাম, মাখানার মিশেলেই বানানো যায় স্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস। ছবি: এআই সহয়তায় প্রণীত।
আলু নয়, কাঁচা কলার চিপ্স বানিয়ে নিন বেক করে বা এয়ার ফ্রায়ারে। চিনেবাদাম, মাখানা, কাজুবাদাম শুকনো খোলায় অল্প ঘি দিয়ে রোস্ট করে নিন। নারকেলও পাতলা করে কেটে একই ভাবে হালকা ভেজে নিন। সবটাই হবে কম তেলে। কিংবা সব কিছুই আলাদা ভাবে তেল বা ঘি ব্রাশ করে এয়ারফ্রায়ারে মুচমুচে করে রোস্ট করে নিতে পারেন। যোগ করুন নুন, গোলমরিচ, ভাজা মশলা। কৌটো করে হাতের কাছে রাখা থাকলে যখন তখন খাওয়া যাবে। বাদামে শুধু প্রোটিন নয় স্বাস্থ্যকর ফ্যাটও মিলবে। মাখানায় রয়েছে ফাইবার এবং প্রয়োজনীয় খনিজ। নারকেলে আছে ফ্যাটি অ্যাসিড। কাঁচকলার চিপ্সও সুস্বাদু।
চকোলেট-পেস্তা বল
চকোলেট, খেজুর, পেস্তা দিয়ে তৈরি করুন বল। ছবি:সংগৃহীত।
বীজ ছাড়ানো খেজুর, এক মুঠো পেস্তা, ১ টেবিল চামচ পেস্তা বাটা মিক্সারে ঘুরিয়ে নিন। তার পর বলের আকার দিন। এতে চিনি দিতে হবে না। বল তৈরির পরে গলিয়ে নেওয়া ডার্ক চকোলেটে সেটি ডুবিয়ে ফ্রিজে রেখে ঠান্ডা করে নিন। খেজুরের প্রাকৃতিক মিষ্টত্বই স্বাদ জোগাবে। খেজুরে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন এবং খনিজ, আছে ফাইবার। পেস্তায় রয়েছে ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, প্রোটিন এবং জরুরি খনিজ। ডার্ক চকোলেটও শরীরের পক্ষে উপকারী।
কিনোয়া বার
কিনোয়া বার বানিয়ে নিতে পারেন। ছবি: সংগৃহীত।
কিনোয়া ধুয়ে জল ঝরিয়ে শুকিয়ে নিন। গরম তাওয়ায় কিনোয়া দিয়ে হালকা নাড়াচাড়া করে নিন। কিনোয়ার দানা তাপে অল্প ফুলে উঠবে। কিনোয়ার সঙ্গে বাদামের মাখন মিশিয়ে একটি ট্রে-তে সমান ভাবে ছড়িয়ে দিন। উপর থেকে যোগ করুন তরল চকোলেট। ঠান্ডা হতে দিন। টুকরো করে কৌটো বন্দি করে রাখুন। যখন ইচ্ছা খাওয়া যাবে। কিনোয়াকে সুপার ফুড বলা হয়। ফাইবার তো আছেই, আছে জরুরি খনিজ। বাদামের মাখন প্রোটিনে ভরপুর। এতে চিনি ব্যবহার করা হয় না।