Advertisement
E-Paper

ছুটি না নিয়েও ছুটি! অফিসে গেলেও বেশি কাজ নয়! কর্মী ও কর্মের স্বার্থে নয়া ভাবনা ‘সফট ডে অফ’

আক্ষরিক অর্থ করলে ‘নমনীয় ছুটি’। কিন্তু হিসাব অনুযায়ী দিনটি ঠিক ছুটিও নয়। বরং একে ‘ছুটির মেজাজে কাজ করা’ বলা যেতে পারে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:৫৬
অফিসই হবে বেড়ানোর জায়গা!

অফিসই হবে বেড়ানোর জায়গা! গ্রাফিক— আনন্দবাজার ডট কম।

খাতায়কলমে ছুটি নিলেন না। আবার অফিসে এসে কাজও করলেন না সে ভাবে। দিনটা একটু গা-এলিয়ে কাটালেন। খুব দরকারি কাজগুলো করলেন। বাকি কাজ পাশ কাটিয়ে গেলেন। বদলে সহকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করলেন নানা বিষয়ে। কিংবা ডুবে থাকলেন ইন্টারনেটে নিজের আগ্রহের কোনও জিনিস খোঁজাখুঁজিতে। ভাবটা এমন হবে যে, কাজের কোনও বাধ্যবাধকতা নেই। দিনের শেষে বেঁধে দেওয়া লক্ষ্যে পৌঁছতেই হবে, তারও মানে নেই কোনও। চাইলে অন্য দিন যে সময় ছুটি নেন, তার একটু আগেই বেরিয়ে পড়তে পারেন অফিস থেকে। তাতে অফিস কিংবা কর্মী— কারও তেমন ক্ষতি হবে না। বরং দু’তরফের লাভই হবে। এমনই একটি ভাবনাকে বাস্তবায়িত করার পদ্ধতি হল ‘সফট ডে অফ’। যা নিয়ে ইন্টারনেটে শুরু হয়েছে আলোচনা।

‘সফট ডে অফ’। কথাটির আক্ষরিক অর্থ করলে হয় ‘নমনীয় ছুটি’। কিন্তু হিসাবমতো দিনটি ঠিক ছুটিও নয়। বরং একে ‘ছুটির মেজাজে কাজ করা’ বলা যেতে পারে। ইন্টারনেটে নানা ‘ট্রেন্ডিং’ বিষয় মাঝে মধ্যেই মাথা তোলে। ফেব্রুয়ারির শুরু থেকে এই ইংরেজি ‘শব্দবন্ধ’টি ঘুরে ফিরে আসছে নানা ফিড-এ। কিন্তু কী ভাবে এই ‘ডে অফ’ নিতে হয়, তার নিয়মাবলী সংক্রান্ত একটি ভিডিয়োও ভাইরাল হয়েছে সম্প্রতি।

জ্যাকলিন ও’সাল নামে এক মহিলা সেখানে বলেছেন, ‘‘এমন অনেক দিনই জীবনে আসে যখন কাজ করতে ইচ্ছে করে না। রুটিন মানতেও ইচ্ছে করে না। সে ক্ষেত্রে আপনি নিতে পারেন সফট ডে অফ।’’ ব্যস্ত দিনে নানা কাজের চাপের মধ্যে এক দিনের সফট ডে অফ কী ভাবে নিতে হয়, তার উপায়ও বাতলে দিয়েছেন জ্যাকলিন।

সাকুল্যে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মাথায় রাখতে বলেছেন তিনি—

১। রোজ যে সময়ে হুড়োহুড়ি করে অফিসে ঢোকেন, সে দিন তত তাড়াতাড়ি পৌঁছোনোর দরকার নেই। একটু দেরি করে যান। তবে একেবারে সবাই পৌঁছে যাওয়ার পরে নয়। কেউ যেন বলতে না পারে যে, আপনি সবার শেষে অফিসে ঢুকেছেন।

২। যে কাজগুলো কেবল আপনারই দায়িত্বে, সেগুলো হেলাফেলা করবেন না। কারণ সেই কাজ না করলে অন্যের কাজের ক্ষতি হতে পারে। তাই অফিসে এসে সেই কাজগুলো আগে করে ফেলুন। কারণ, জ্যাকলিনের কথায়, ‘সারা দিনে ওই গুলোই হবে আপনার একমাত্র কাজ’।

৩। দিনের মিটিংয়ে যোগ দিতেই হয়। কিন্তু তাতে মনযোগ দিতে হবে এমন কোনও মানে নেই। সেদিন নিজেকে ওই স্বাধীনতাটুকু দিতেই পারেন। মিটিংয়ে ঢুকে পুরোটা রেকর্ড করে নিন। কিছু ট্রান্সক্রিপশন টুল অ্যাপ এ ব্যাপারে সাহায্য করতে পারে। ওই ধরনের অ্যাপ রেকর্ড করা কথা আপনাকে লিখিত আকারে ডকুমেন্ট হিসাবে দিতে পারে। এতে মিটিংয়ের চাপ না নিয়েও তার মূল বক্তব্য জানা হয়ে যাবে।

৪। কোনও বাড়তি কাজের দায়িত্ব কাঁধে নেওয়ার দরকার নেই ওই দিন। ‘না’ বলতে শিখুন। কেউ কোনও কাজ করে দিতে বললে জানিয়ে দিন, বেশি ক্ষণ অফিসে থাকবেন না বা অন্য কোনও জরুরি দরকার আছে। এতে বাড়তি কাজ নিয়ে দীর্ঘ ক্ষণ অফিসে থেকে যাওয়ার চাপ থাকবে না মাথায়।

৫। কোনও রকম অপরাধবোধ না রেখেই অন্য দিনের থেকে একটু আগে অফিস থেকে বেরিয়ে যান।

জ্যাকলিন যে ভাবে বলেছেন, সেগুলো ঠিক তেমন ভাবেই প্রত্যেককে করতে হবে, তা নয়। এই নিয়ম নিজের পরিস্থিতি অনুযায়ী বদলে নেওয়াও যেতে পারে। আসল কথা হল, কাজের জাঁতাকলে পিষতে থাকা একজন কর্মী যখন লাগাতার মানসিক চাপের মধ্যে দিয়ে যান, তখন তার প্রভাব কাজের উপরেও পড়তে বাধ্য। সে ক্ষেত্রে মাসে একটি বা দু’টি এমন ‘সফট ডে অফ’ নিলে যদি কর্মীর মানসিক সুস্থতা বজায় থাকে, তবে অফিস পাবে একজন মানসিক চাপমুক্ত, ভাল কাজ করতে সমর্থ কর্মী। তাতে কাজের মান উন্নত হবে। কর্মীরও কৃতজ্ঞতাবোধ এবং দায়বদ্ধতা বাড়বে অফিসের প্রতি।

‘সফট ডে অফ’ নিয়ে বাড়তে থাকা আলোচনা দেখে তাই কর্পোরেট অফিস কর্তৃপক্ষ আগাম শিক্ষা নিতেই পারেন। সারা বছর তাঁরা যে কর্মীদের কেবল লক্ষ্যপূরণের তাগাদা দেন, তাদের এমন একটি লক্ষ্য-হীন দিন উপহার দিলেনই না হয়। কর্মীর মানসিক স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে।

New Work Culture new trend Trending Lifestyle Worklife Soft Day Off
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy