মায়েরা বা তারও আগের প্রজন্মের মানুষ জনকে চুলের যত্নের কথা জিজ্ঞাসা করলে কেউ বলবেন তেল মাখতেন রোজ। কেউ বলবেন পেঁয়াজের রস। হেমা মালিনী, ডিম্পল কাপাডিয়ার মতো পুরনো দিনের নায়িকারা আজও সেই সব টোটকার পক্ষেই কথা বলেন। সেই সব পরামর্শ ভুল নয় হয়তো। কিন্তু এ যুগে পেঁয়াজ থেঁতো করে মাথায় রস মাখা বা সারা দিনের ব্যস্ততা সামলে চুলে তেল মাসাজ করার মতো সময় এবং ইচ্ছে অনেকেরই হয় না। এ যুগের প্রয়োজন বুঝে তাই চুলের যত্ন নেওয়ারও নানা আধুনিক উপায় বেরিয়েছে। চুলের যত্নে গতানুগতিক পদ্ধতির বাইরে সেই সব কিছু আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত উপায় এ কালের প্রজন্মের মধ্যে জনপ্রিয়ও। চুলের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে তেমনই তিনটি পদ্ধতি জেনে নিন।
১. স্ক্যাল্প ডিটক্সিফিকেশন
এ যুগে শুধু চুল নয়, চুলের গোড়া এবং মাথার ত্বক বা স্ক্যাল্পের স্বাস্থ্যের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। পরিবেশের দূষণ এবং বিভিন্ন হেয়ার প্রোডাক্টের অবশিষ্টাংশ চুলের গোড়ায় জমে রক্ত সঞ্চালন কমিয়ে দেয়। মাথার ত্বকের স্বাস্থ্যেরও ক্ষতি হয়। তাই সপ্তাহে অন্তত একদিন স্যালিসিলিক অ্যাসিড বা কফি স্ক্রাব যুক্ত শ্যাম্পু ব্যবহার করে স্ক্যাল্প এক্সফোলিয়েট করা জরুরি। এটি খুশকি কমায় এবং নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে। মাথার ত্বক রাখে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন
২. বন্ড-বিল্ডিং ট্রিটমেন্ট
রং করা, হিট দেওয়া বা স্টাইলিংয়ের কারণে চুলের ভেতরের প্রোটিন বন্ড বা বন্ধন ভেঙে যায়, ফলে চুল রুক্ষ হয়ে পড়ে। সাধারণ কন্ডিশনার এই ক্ষতি পূরণ করতে পারে না। তাই বাড়িতেই ‘বন্ড রিপেয়ার’ সিরাম বা মাস্ক ব্যবহার করা যেতে পারে। এই সিরাম চুলের অনু পর্যন্ত পৌঁছে ভাঙা প্রোটিন বন্ড জোড়া লাগাতে সাহায্য করে, যা চুলকে ভেতর থেকে মজবুত ও রেশমের মতো নরম ও উজ্জ্বল করে তোলে।
৩. কাস্টমাইজড হেয়ার কেয়ার
সবার চুলের ধরন এক নয়, তাই সবার জন্য একই শ্যাম্পু বা তেল কাজ করে না। এ কালে আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে চুলের পোরোসিটি, ঘনত্ব এবং মাথার ত্বকের ধরন বুঝে ব্যক্তিগত রুটিন তৈরি করা হয়। তাই নিজের চুলের পোরোসিটি টেস্ট করুন। এক গ্লাস জলে চুল ফেলে দেখুন। যদি চুল ‘লো পোরোসিটি’ হয়, তবে হালকা ওজনের ওয়াটার-বেসড প্রসাধনী ব্যবহার করুন। আর ‘হাই পোরোসিটি’ হলে ভারী তেল বা ময়েশ্চারাইজ়ার যুক্ত প্রসাধনী বেছে নিন।