মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে কাকে দেখতে চান?
শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়: এটা তো একটু আবরণহীন প্রশ্ন হয়ে গেল। এমন প্রশ্নের উত্তর দিলে ব্যাপারটা একটু রাজনৈতিক হয়ে যায়। এই প্রশ্নটি বরং ছাড়ছি!
দল দেখে ভোট দেন না কি প্রার্থী দেখে?
শীর্ষেন্দু : প্রার্থীকে দলের থেকে আলাদা করে বিচার করি কী করে? কোনও একটি কেন্দ্রের জন্য আলাদা ভাবে কিছু করা হয় বলে তো মনে হয় না! একটা রাজ্য সার্বিক ভাবে চালিত হয়। উপর থেকেই নিয়ন্ত্রণ হয় সবটা। তাই প্রার্থী নয়, দল দেখেই ভোট দিই।
প্রার্থী বাছাইয়ের পরীক্ষা হলে কেমন হয়? আর জেতার পরে যদি হয় বিধায়কের প্রশিক্ষণ?
শীর্ষেন্দু : প্রার্থীদের যোগ্যতা মাপবেন কী দিয়ে! যদি দেখা যায় মেরুদণ্ডটি শক্ত, তবেই তিনি হতে পারেন প্রার্থী। আর বিধায়কদের প্রশিক্ষণ হলে মন্দ হত না! বিশেষ করে যদি নৈতিক আর ব্যবহারিক ট্রেনিং দেওয়ার ব্যবস্থা থাকত, ভালই হত।
নিজে বিধায়ক হলে কী বদলাতে চাইতেন?
শীর্ষেন্দু : বিধায়কের ক্ষমতা কতটুকুই বা! তবে যদি মানুষের কী দরকার, সেটা জেনে কাজ করা যেত, হয়তো সেটাই করতাম।
আপনার পেশার জগতের কোনও অভিযোগ কি ভোট প্রচারে গুরুত্ব পাওয়া দরকার?
শীর্ষেন্দু : আমি সাহিত্য জগতের মানুষ। মনে করি, সেটা ব্যক্তিগত সাধনার ব্যাপার। একজন সাহিত্যিকের লেখায় সমাজের কোনও উপকার হতে পারে। কিন্তু তার সঙ্গে ভোট বা রাজনীতি বা প্রশাসনের কোনও সম্পর্ক নেই।
নির্বাচন প্রক্রিয়াকে দুর্নীতিমুক্ত রাখতে পারে কী কী?
শীর্ষেন্দু : ভোটার তালিকা ঠিক মতো করা দরকার। নকল এবং মৃত ভোটারদের বাদ দেওয়া দরকার। কিন্তু এখন সেটা করতে গিয়ে এসআইআর-এর নামে যা চলছে, তা ভয়ঙ্কর।
ঘন ঘন দলবদলের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেওয়া দরকার?
শীর্ষেন্দু : একটাই ব্যবস্থা সংবিধান সংশোধন করে নেওয়া যায়, তা হল— দল বদল করা যাবে, কিন্তু সাংসদ বা বিধায়কপদ ছাড়তে হবে। এ রকম আইন করলে পরিস্থিতি খানিক অন্য রকম হবে।
রাজনীতিতে অপশব্দের প্রয়োগ কি জরুরি?
শীর্ষেন্দু : অবশ্যই জরুরি নয়। ভদ্রলোকের ছেলেমেয়ে, তাঁদের তো পারিবারিক সংস্কৃতি রয়েছে। কেন এঁরা ঘৃণাভাষণ করবেন, কেন মানুষের বিরুদ্ধে খারাপ খারাপ কথা বলবেন? এটা নিন্দনীয় এবং যে কোনও দলের পক্ষেই লজ্জাজনক।
দেশজ সংস্কৃতি, উন্নয়ন না কি সমান অধিকার— ভোট প্রচারে কোনটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ?
শীর্ষেন্দু : সবক’টিই গুরুত্বপূর্ণ। সামাজিক অধিকারের ক্ষেত্রে সাম্যবাদ থাকা দরকার। আবার দেশের ঐতিহ্য, সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখাও জরুরি। উন্নয়নও প্রয়োজন। তবে সব থেকে বেশি জরুরি দুর্নীতিমুক্ত সুস্থ সমাজ।
ভাতা-র রাজনীতি সমাজের উন্নতি করে কি?
শীর্ষেন্দু : যখন দেশে বেশি চাকরি নেই, তখন সরকার যদি পারে, কিছু টাকা তো দেওয়াই উচিত। একটা মেয়ে যদি মাসে ১০০০-১৫০০ টাকা পায়, তা তো তার কাছে অক্সিজেন!
প্রায় বিরোধীশূন্য রাজনীতি কি স্বাস্থ্যকর?
শীর্ষেন্দু : স্বাস্থ্যকর নয়। বিরোধীদেরও একটু শক্ত হওয়া দরকার যাতে, সরকার সমঝে চলে। আগে কিন্তু সেটা হত।
তারকারা কি ভোট টানার শর্টকাট?
শীর্ষেন্দু : তারকা বলেই যে প্রার্থী হিসাবে খারাপ হবেন, তা তো নয়। তারকাদের জনপ্রিয়তাকে যদি কোনও দল কাজে লাগাতে চায়, তা হলে তা করতেই পারে।
পছন্দের রাজনীতিবিদ কে?
শীর্ষেন্দু : সুভাষচন্দ্র বসুকে ভাল লাগে। তবে তিনি তো দেশ শাসন করেননি। এ ছাড়া, গান্ধীজি সব মতের ঊর্ধ্বে। আর ভাল লাগে চিত্তরঞ্জন দাশকে।