চুলের আর্দ্রতা বজায় রাখতে এবং বাইরের ধুলোবালি থেকে সুরক্ষা দিতে কন্ডিশনারের ভূমিকা অনস্বীকার্য। কিন্তু বাজারে হাজারো ব্র্যান্ডের ভিড়ে কোনটি আপনার জন্য নিরাপদ, তা বোঝা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে।
কোন কন্ডিশনারটি ভাল?
একটি ভাল কন্ডিশনার চুলকে শুধু নরমই করবে না, বরং চুলের প্রাকৃতিক পিএইচ ব্যালেন্স বজায় রাখবে। সাধারণত যেসব কন্ডিশনারে প্রাকৃতিক তেল, যেমন: আর্গান অয়েল, জোজোবা অয়েল এবং প্রোটিন থাকে, সেগুলো চুলের জন্য বেশ কার্যকর। তবে ক্ষতি এড়াতে ৩টি প্রধান উপায় মাথায় রাখা জরুরি।
১. উপাদানের তালিকা যাচাই
সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয় রাসায়নিক উপাদানের কারণে। কেনার আগে লক্ষ্য রাখুন, কন্ডিশনারে প্যারাবেন, সালফেট এবং কৃত্রিম সুগন্ধি আছে কি না এ সবই চুলের জন্য ক্ষতিকর। সিলিকন থাকলে চুল সাময়িক সিল্কি মনে হলেও দীর্ঘমেয়াদে চুলের ক্ষতি করতে পারে। গ্লিসারিন, শিয়া বাটার, অ্যালোভেরা এবং কেরাটিন সমৃদ্ধ কন্ডিশনার ব্যবহার করতে পারেন।
২. চুলের ধরণ অনুযায়ী নির্বাচন
সবার চুল একরকম নয়, তাই সবার জন্য একই কন্ডিশনার প্রযোজ্য নয়। তৈলাক্ত চুলে ভারী বা খুব বেশি ক্রিমি কন্ডিশনার না ব্যবহার করে হালকা কন্ডিশনার বেছে নিন। শুষ্ক ও কোঁকড়ানো চুল যাঁদের, যাঁদের চুল রুক্ষ, তাদের জন্য ডিপ কন্ডিশনিং বা গভীরে গিয়ে আর্দ্রতা জোগানো কন্ডিশনার প্রয়োজন। পাতলা চুলে অতিরিক্ত ভারী কন্ডিশনার ব্যবহার না করাই ভাল। কারণ, তা চুলকে আরও পেতে দেয়, তাঁদের ওয়াটার-বেসড কন্ডিশনার ব্যবহার করা নিরাপদ।
৩. ব্যবহারের সঠিক পদ্ধতি
কন্ডিশনার ব্যবহারের ভুল পদ্ধতির কারণে অনেক সময় চুল পড়া বেড়ে যায়। কন্ডিশনার কখনোই স্ক্যাল্প বা মাথার তালুতে লাগানো যাবে না। এটি শুধুমাত্র চুলের মাঝখান থেকে ডগা পর্যন্ত লাগাতে হয়। তালুতে লাগালে রোমকূপ বন্ধ হয়ে চুল পড়া এবং খুশকি হতে পারে। নতুন কোনও কন্ডিশনার পুরো চুলে লাগানোর আগে কানের পেছনের ত্বকে বা সামান্য চুলে লাগিয়ে দেখুন কোনো ইরিটেশন হচ্ছে কি না।