Advertisement
E-Paper

ফ্যাশনে ফিরছে আশির দশকের জুতো! কোনগুলি এই মরসুমের ‘ট্রেন্ড’-এ? কীই বা নাম তাদের?

আচমকাই বিশ্বের বড় বড় ফ্যাশন শো-এর র‌্যাম্পে দেখা যাচ্ছে ৮০-র দশকে জনপ্রিয় হওয়া কিছু জুতো। সেই সব জুতো এক সময়ে ফ্যাশন দুনিয়ায় ঝড় তুলেছিল। আর এখন সেই জুতোই নতুন করে জায়গা করে নিচ্ছে ফ্যাশন সচেতনদের হৃদয়ে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৫ জুন ২০২৬ ১৫:২১

ছবি: সংগৃহীত।

কথায় আছে ‘পুরনো চাল ভাতে বাড়ে।’ ফ্যাশন দুনিয়ায় এই কথাটি ভীষণ ভাবে প্রযোজ্য। বহু পুরনো ফ্যাশন ট্রেন্ড-ই ঘুরেফিরে নতুন রূপে হাজির হয় এবং হয়েছে বারবার। সে ডেনিমের কাট হোক বা শার্টের আদল কিংবা গয়নার ধরন, চুলের ছাঁট— সবই পুরনোয় ফিরে গিয়েছে বার বার। এ বছরও তেমনই কিছু পুরনো ফ্যাশন ফিরে এসেছে জুতোয়। আচমকাই বিশ্বের বড় বড় ফ্যাশন শো-এর র‌্যাম্পে দেখা যাচ্ছে ৮০-র দশকে জনপ্রিয় হওয়া কিছু জুতো। সেই সব জুতো এক সময়ে ফ্যাশন দুনিয়ায় ঝড় তুলেছিল। আর এখন সেই জুতোই নতুন করে জায়গা করে নিচ্ছে ফ্যাশন সচেতনদের হৃদয়ে। বিশেষ করে গ্রীষ্মকালীন আবহাওয়ায় ওই জুতোগুলি আরও বেশি করে প্রাসঙ্গিক বলে মনে করছে ফ্যাশন দুনিয়া।

১. ব্যালেরিনা

বাঁ দিকে, পেরি এলিসের ফ্যাশন শোয়ে মডেলের পায়ে ব্যালেরিনা। ডান দিকে, ২০২৬ সালের এক ফ্যাশন শোয়ে নতুন ধরনের ব্যালেরিনা।

বাঁ দিকে, পেরি এলিসের ফ্যাশন শোয়ে মডেলের পায়ে ব্যালেরিনা। ডান দিকে, ২০২৬ সালের এক ফ্যাশন শোয়ে নতুন ধরনের ব্যালেরিনা। ছবি: সংগৃহীত।

ক্রিশ্চিয়ান ডিওর বা ইভ সাঁ লোরার মতো বিখ্যাত ডিজাইনারদের হাত ধরে ব্যালেরিনা জুতো ফ্যাশন দুনিয়ায় পরিচিতি পায়। সেটা ১৯৩০-এর আশপাশ। তবে ব্যালেরিনার উত্থান হয় আশির দশকে রাজকুমারী ডায়ানার দৌলতে। তাঁর পায়ে ব্যালেরিনা দেখার পরে অভিজাতকূল ওই জুতোর প্রতি আরও আগ্রহী হন। আরামদায়ক নরম জুতো হিসাবেও জনপ্রিয়তা পায়। পরে ১৯৮৭ সালে আমেরিকার ব্র্যান্ড পেরি এলিস সাদা রঙের ব্যালেরিনা জুতোর সঙ্গে মডেলকে মিডি স্কার্ট এবং হালকা সোয়েটার পরিয়ে র‍্যাম্পে নিয়ে আসে। বর্তমানে এই জুতো ফ্যাশনে ফিরেছে সামান্য অদলবদল করে। ২০২৬ সালের ব্যালেরিনা জুতো সাজানো হচ্ছে বড় বো অথবা স্পোর্টস এলিমেন্ট দিয়ে। যা ফরম্যাল এবং ক্যাজ়ুয়াল আউটফিটের সঙ্গে সমান ভাবে যাবে।

২. টি-বার শুজ

বাঁ দিকে, ১৯৮০ সালে ওয়াইএসএল ব্র্যান্ডের স্প্রিং সামার কালেকশনে মডেলের পায়ে টি-বার শুজ়। ডান দিকে,  ২০২৬ সালের এক ফ্যাশন শোয়ে মডেলের পরনে একটু অন্য ধাঁচের টি-বার শুজ়।

বাঁ দিকে, ১৯৮০ সালে ওয়াইএসএল ব্র্যান্ডের স্প্রিং সামার কালেকশনে মডেলের পায়ে টি-বার শুজ়। ডান দিকে, ২০২৬ সালের এক ফ্যাশন শোয়ে মডেলের পরনে একটু অন্য ধাঁচের টি-বার শুজ়। ছবি: সংগৃহীত।

আশির দশকের পপ কুইন ম্যাডোনার সাড়া ফেলে দেওয়া সাজ— সাদা টি-শার্ট, মিডি স্কার্ট এবং নেট টাইটসের ফ্যাশনের সঙ্গে ইভ সাঁ লোরা তাঁকে পরিয়েছিলেন টি-বার হিলস। এই জুতো যেমন মার্জিত, তেমনই দেখতে আকর্ষণীয়। এ যুগে সেই টি-বার জুতো ফিরে আসছে আবার। তবে নতুন অবতারে কিছুটা চওড়া হয়েছে স্ট্র্যাপ, গোড়ালির কাছে ডাবল ব্রেসলেট স্টাইল দেওয়া হয়েছে, যা ব্লেজার এবং পেন্সিল স্কার্টের সাথে দুর্দান্ত মানাবে।

৩. স্লিংব্যাক শুজ

বাঁ দিকে, ইমান্যুয়েল উঙ্গারোর নাটকীয় পোশাকের সঙ্গে মডেলের পায়ে স্লিংব্যাক শুজ়। ডান দিকে, ২০২৬ সালে সেই একই ধরনের স্লিং ব্যাক জুতো দেখা যাচ্ছে এ কালের মডেলের পায়েও।

বাঁ দিকে, ইমান্যুয়েল উঙ্গারোর নাটকীয় পোশাকের সঙ্গে মডেলের পায়ে স্লিংব্যাক শুজ়। ডান দিকে, ২০২৬ সালে সেই একই ধরনের স্লিং ব্যাক জুতো দেখা যাচ্ছে এ কালের মডেলের পায়েও। ছবি: সংগৃহীত।

অমাল ক্লুনি থেকে শুরু করে লিলি-রোজ ডেপ— এ কালের ফ্যাশন আইকনদের পায়ে ইদানীং দেখা যাচ্ছে স্লিংব্যাক জুতো। অথচ এ জুতোর আবির্ভাব হয় আশির দশকেই। ডিজাইনার ইমানুয়েল উঙ্গারো কাঁধে নাটকীয় নকশা করা মিনি ড্রেসের সঙ্গে মডেলকে পরিয়েছিলেন বেগনি রঙের ম্যাচিং স্লিংব্যাক জুতো। পরবর্তী কালে নানা ভাবেই ওই জুতো ফ্যাশনে আসা-যাওয়া করেছে। তবে ২০২৬ সালে তা গ্রীষ্মের জুতো হিসাবে নতুন করে ফিরেছে রঙ আর নকশায় বৈচিত্র্য এনে। এখনকার স্লিংব্যাক জুতোয় দেখা যাচ্ছে রঙিন ফুলের ছাপা নকশা। যা একরঙা পোশাকের সঙ্গে ভাল বৈপরীত্য তৈরি করছে।

৪. মোকাসিন্স বা লোফার্স

বাঁ দিকে, জর্জ আরমানির ফ্যাশন শোয়ে ঢিলেঢালা ব্লেজ়ার আর প্যান্টের সঙ্গে লোফার্স। বাঁ দিকে, ২০২৬ সালে সেই একই লোফার্স বা মোকাসিন্সের রূপ বদলে পরানো হয়েছে গাউনের সঙ্গে।

বাঁ দিকে, জর্জ আরমানির ফ্যাশন শোয়ে ঢিলেঢালা ব্লেজ়ার আর প্যান্টের সঙ্গে লোফার্স। বাঁ দিকে, ২০২৬ সালে সেই একই লোফার্স বা মোকাসিন্সের রূপ বদলে পরানো হয়েছে গাউনের সঙ্গে। ছবি: সংগৃহীত।

কিছু জুতো কখনওই পুরোনো হয় না। মোকাসিন্স বা লোফার্স তার অন্যতম উদাহরণ। আশির দশকে অফিসিয়াল লুকের জন্য লোফার্স ছিল ফ্যাশন সচেতনদের প্রথম পছন্দ। ১৯৮৭ সালে জর্জিও আরমানি ঢিলেঢালা ব্লেজার ও ট্রাউজারের সঙ্গে মোকাসিন্স পরিয়েছিলেন মডেলদের। পরবর্তী কালে মিনিমালিস্টিক ফ্যাশনেও লোফার্স জনপ্রিয় হয়। তবে এখন লোফার্স পরা হচ্ছে ম্যাক্সিমাল ফ্যাশন হিসাবেও। ২০২৬ সালে মোকাসিন্স বা লোফার্সের চেনা আদলে সামান্য বদল আনা হয়েছে। স্টেলা ম্যাককার্টনি লোফার্স জুতোর মুখটি করে দিয়েছেন সূচালো। গোলাকৃতির বদলে কৌণিক হয়েছে সেই নতুন লোফার্সের টো। আর তা বানানো হয়েছে চকচকে চামড়া দিয়ে।

৫. টু-টোন শুজ

বাঁ দিকে, শানেলের জনপ্রিয় টু’টোন জুতো। ডান দিকে, সেই একই জুতোর রঙে সাহসী বদল এনে ২০২৬ সালে এক ফ্যাশন ব্র্যান্ড পরিয়েছে তাদের মডেলকে।

বাঁ দিকে, শানেলের জনপ্রিয় টু’টোন জুতো। ডান দিকে, সেই একই জুতোর রঙে সাহসী বদল এনে ২০২৬ সালে এক ফ্যাশন ব্র্যান্ড পরিয়েছে তাদের মডেলকে। ছবি: সংগৃহীত।

একটি জুতোয় দু’রকম রং। আর সেই রঙের বৈপরীত্যেই জুতোর কেতা আরও বাড়ে। শানেল ব্র্যান্ডের বিগ্রহপ্রতিম বলা চলে এই টু-টোন জুতোকে। কোকো শানেলের হাত ধরে এর জনপ্রিয়তার শুরু। তবে আশির দশকে এই জুতোর হিল কিছুটা সরু করে একে আধুনিক রূপ দেন কার্ল ল্যাগারফেল্ড। যা আরও বেশি জনপ্রিয় হয়। ২০২৬ সালে এই দু’রকম রঙের শেড দেওয়া জুতো নতুন করে দেখা যাচ্ছে ফ্যাশন শো-এর মার্জার সরণিতে। শানেলের মতো আরও অনেক ব্র্যান্ডই এখন দু’রকম রঙের জুতো বানাচ্ছে। সেই রঙের বৈপরীত্যেও আসছে বৈচিত্র। অনেকেই সবুজ-কমলা, লাল-নীল কিংবা সোনালি রুপোলির মতো উজ্জ্বল রং ব্যবহার করেও চমকে দিচ্ছেন।

Shoe Fashion Fashion Tips Summer Fashion Tips
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy