দৈনন্দিন ব্যবহারের অনেক জিনিস নিয়েই নানা ধরনের ভুল ধারণা থাকে মনে। তেমনই একটি জিনিস হল ফেসওয়াশ। নিত্যদিন পুরুষ-মহিলা সকলেই ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ পরিষ্কার করেন। এঁদের মধ্যে অনেকে এমনও ভাবেন যে, বেশি ফেনা হচ্ছে না মানে মুখ ভাল ভাবে পরিষ্কারই হল না। আবার কেউ ভাবেন দিনে বারবার ফেসওয়াশ ব্যবহার করলে ভাল থাকে ত্বক। অথচ আদতে বিষয়গুলো উল্টো। ফেসওয়াশ সম্পর্কে এমনই ৫ ভুল ধারণার আসল সত্যিটা জেনে নেওয়া যাক।
১. বেশি ফেনা মানেই বেশি পরিষ্কার
সবচেয়ে বড় ভুল ধারণা এটি। ফেনা মূলত একটি রাসায়নিক বিক্রিয়া। অনেক উন্নত মানের মাইল্ড ফেসওয়াশ বা ক্লিনজার একদমই ফেনা তৈরি করে না, কিন্তু তা ত্বকের গভীর থেকে ময়লা পরিষ্কার করতে সক্ষম। বরং অতিরিক্ত ফেনা ত্বকের প্রয়োজনীয় আদ্রতা নষ্ট করে দেয়। অতিরিক্ত ফেনা হওয়ার মানে হলো ওই ফেসওয়াশে সালফেটজাতীয় উপাদান— যেমন এসএলএস বা এসএলইএস-এর পরিমাণ বেশি, যা ত্বকের স্বাভাবিক তেল কেড়ে নিয়ে ত্বককে খসখসে ও রুক্ষ করে দিতে পারে।
২. মুখ ধোয়ার পর ত্বক টানটান হলে তা ভাল
অনেকে মনে করেন মুখ ধোয়ার পর ত্বক একদম টানটান হয়ে যাওয়া মানেই মুখ ভাল পরিষ্কার হয়েছে। আসলে এটি ত্বকের সুরক্ষা স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার লক্ষণ। মুখ ধোয়ার পর ত্বক কোমল ও সতেজ অনুভূত হওয়া উচিত, একদম শুকনো বা টানটান নয়।
৩. গরম জল দিয়ে মুখ ধোয়া উপকারী
গরম জল ত্বকের লোমকূপ খুলে দেয়— কথাটি পুরোপুরি ঠিক নয়। গরম জল ত্বকের প্রাকৃতিক তেল ধুয়ে ফেলে, ফলে ত্বক অতিমাত্রায় সংবেদনশীল হয়ে পড়ে। সবসময় সাধারণ তাপমাত্রার জল বা হালকা কুসুম গরম জল ব্যবহার করা উচিত।
৪. দিনে বারবার ফেসওয়াশ ব্যবহার করা
যাদের ত্বক তৈলাক্ত, তারা মনে করেন বারবার ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধুলে তেল কমবে। আসলে উল্টোটা ঘটে! আপনি যত বেশি ত্বক শুকিয়ে ফেলবেন, ত্বক নিজেকে রক্ষা করতে তত বেশি তেল উৎপাদন করবে। দিনে খুব বেশি হলে দু’বার (সকালে ও রাতে) ফেসওয়াশ ব্যবহার করাই যথেষ্ট।
৫. দামি ফেসওয়াশ মানেই ভাল মানের
ব্র্যান্ড বা দাম দেখে ফেসওয়াশ কেনা বুদ্ধিমানের কাজ নয়। ত্বকের ধরন তৈলাক্ত, শুষ্ক নাকি সংবেদনশীল, তা বুঝে উপাদান দেখে ফেসওয়াশ বেছে নেওয়া জরুরি। উদাহরণস্বরূপ, শুষ্ক ত্বকের জন্য ক্রিম বেসড এবং তৈলাক্ত ত্বকের জন্য জেল বেসড ফেসওয়াশ সাধারণত বেশি কার্যকর।