রুক্ষ চুলকে মসৃণ দেখাতে, জট এড়াতে সাহায্য করে সিরাম। চুলের যত্নও নেয়। সিরাম চুলের উপরিভাগে একটি পাতলা আবরণ তৈরি করে, ফলে চুল মসৃণ দেখায়। সিরাম চুলকে সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মি, দূষণ, ধুলো থেকে বাঁচায়। তবে সিরাম মাখলেই হল না, মাখার পন্থাও জানা জরুরি। ব্যবহারের কোন ভুলে লক্ষ্যলাভ অধরা থেকে যেতে পারে?
চুলের ধরন অনুযায়ী সিরাম বাছাই করছেন কি? শুষ্ক, কোঁকড়া, তৈলাক্ত— সমস্ত ধরনের চুলের জন্য আলাদা সিরাম হয়। নিজের চুলের ধরন বুঝে সঠিকটি বাছাই জরুরি। আর্গান অয়েল চুলে প্রোটিনের ক্ষয় কমায় (বিশেষ করে রং করা চুলে) এবং বাইরের ক্ষতি থেকে চুলকে রক্ষা করে। কোঁকড়া চুলের জন্য নারকেল তেল বা গ্লিসারিন যুক্ত সিরাম বেছে নিতে পারেন। চুল সব সময় উস্কোখুস্কো হয়ে থাকলে সিলিকন যুক্ত অ্যান্টি-ফ্রিজ় সিরাম ভাল। এটি চুলের উপর একটি মসৃণ স্তর তৈরি করে এবং এলোমেলো চুলকে বশে রাখে।
পরিমাণ: সিরাম ব্যবহার করতে হয় পরিমিত পরিমাণে। প্রচুর সিরাম মাখলেই চুল ভাল হয় না বা মসৃণ দেখায় না। বরং মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারে চুল চিটচিটে হয়ে যেতে পারে। এতে ধুলোবালি আটকে যাওয়ার ঝুঁকিও বেশি থাকে।
নিয়ম করে ব্যবহার: রোজ যেমন তা ব্যবহার করা ঠিক নয়, আবার মাসে এক দিন মাখলেও লাভ হবে না। সিরাম কতটা মাত্রায়, কত দিন অন্তর বা কখন মাখতে হবে, তা জানা জরুরি।
পদ্ধতিগত ভুল: সিরাম মাখার পদ্ধতি আছে। এতে ভুল হলেও কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে না। সিরাম হাতের তালুতে নিয়ে আলতো করে ঘষে নিন। এর পর চুলের মাঝখান থেকে শুরু করে নীচ পর্যন্ত হালকা হাতে লাগিয়ে নিন। চুলের উপর থেকে নীচের দিকে সিরাম লাগালে তা চুলের প্রতিটি স্তরে সমান ভাবে পৌঁছোয়।
শুকনো চুল: অনেকেই মনে করেন, সিরাম শুকনো চুলে লাগানো হয়। কিন্তু চুল যখন শুকিয়ে এসেছে বা হালকা ভিজে, সেই অবস্থায় সিরাম মাখলে আর্দ্রতা বজায় থাকবে দীর্ঘ ক্ষণ। চুল শুষ্ক দেখাবে না, এলোমেলো হয়ে যাবে।