Advertisement
E-Paper

দেখতে সুন্দর কিন্তু বিড়ালাক্ষী হওয়ার বিড়ম্বনাও অনেক! নিজের ভয়ের কথা বললেন অদিতি

বিড়াল-চোখ এক রকমের ধারালো ভাব আনে চোখে মুখে। সেই সঙ্গে তৈরি করে রহস্যময়তাও। যা সৌন্দর্যকে এক ভিন্ন মাত্রা দেয়।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬ ১৫:৩৬
বিড়াল চোখের বিড়ম্বনা নিয়ে কথা বললেন অদিতি গোবিত্রীকর।

বিড়াল চোখের বিড়ম্বনা নিয়ে কথা বললেন অদিতি গোবিত্রীকর। ছবি: সংগৃহীত।

কারও মধু রং। কারও ঘোলাটে সবুজ। কারও আবার চোখের মণিতে ধূসর ভাব। এমন চোখের সঙ্গে বিড়ালের চোখের মণির বড্ড মিল। হয়তো তাই ওই ধরনের চোখ যাঁদের, তাঁদের বর্ণনা দিতে গিয়ে অনেকেই বলেন ‘বিড়াল-চোখ’।

এ দেশে এমন চোখ বিরল না হোক, খুব সাধারণও নয়। ঐশ্বর্যা রাই বচ্চন, লিজ়া রে, অদিতি গোবিত্রীকর বিড়ালাক্ষীর অধিকারিণী। আর তাঁরা প্রত্যেকেই ডাকসাইটে ‘সুন্দরী’ তকমাধারী। লিজ়া ভারতের প্রথম সুপারমডেলদের অন্যতম। ঐশ্বর্যা প্রাক্তন বিশ্বসুন্দরী। বিশ্বসুন্দরী (বিবাহিতদের) প্রতিযোগিতা জিতেছিলেন অদিতিও। শুধু বলিউডের কথাই বা কেন বলা। কিছু দিন আগে কুম্ভমেলায় এক মালা বিক্রেতা তরুণী মোনালিসার বিড়াল-চোখে মজেছিল গোটা বিশ্ব।

বিড়ালাক্ষীর অধিকারী ঐশ্বর্যা রাই বচ্চন।

বিড়ালাক্ষীর অধিকারী ঐশ্বর্যা রাই বচ্চন। ছবি: সংগৃহীত।

আসলে বিড়াল-চোখ এক রকমের ধারালো ভাব আনে চোখে মুখে। সেই সঙ্গে তৈরি করে রহস্যময়তাও। যা সৌন্দর্যকে এক ভিন্ন মাত্রা দেয়। কিন্তু এ দেশে বিড়ালাক্ষী হওয়ার কিছু সমস্যাও আছে। সম্প্রতি তা নিয়ে কথা বললেন অভিনেত্রী অদিতি।

অদিতি গোবিত্রীকর জানিয়েছেন তাঁর বিড়াল চোখের বিড়ম্বনার কথা।

অদিতি গোবিত্রীকর জানিয়েছেন তাঁর বিড়াল চোখের বিড়ম্বনার কথা। ছবি: সংগৃহীত।

অদিতি জানিয়েছেন, চোখ নিয়ে সন্ত্রস্ত হয়ে থাকতেন তিনি। কারণ চোখের জন্য অল্প বয়সেও তাঁকে নানা মন্তব্য শুনতে হত। অদিতির কথায়, ‘‘রাস্তায় বেরোলেই ছেলেরা আমাকে দেখে বেড়ালের মতো ‘মিউ’ আওয়াজ করত। কেউ কিউ পিছুও নিত।’’ চোখের জন্য এমন অকারণ মনোযোগ পছন্দ হত না অদিতির। তিনি হীনম্মন্যতায় ভুগতেন। ভাবতেন, চোখের এমন রং হওয়া মোটেই ভাল নয়। ফলে বাইরে বেরোতে লজ্জা পেতেন। এক পডকাস্টে তিনি বলেছেন, ‘‘লজ্জায় রাস্তাঘাটে মাথা নিচু করে চলতাম, যাতে কেউ আমার চোখের দিকে তাকাতে না পারে। এমনকি, পরিবারের সঙ্গে বাইরে গেলেও বাকিদের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখতাম, যাতে নিজের ভয় আর অস্বস্তি লুকিয়ে রাখা যায়।”

ভারতের প্রথম কিছু সুপারমডেলের অন্যতম লিসা রে-র চোখের মণির রং ধূসর সবুজ।

ভারতের প্রথম কিছু সুপারমডেলের অন্যতম লিসা রে-র চোখের মণির রং ধূসর সবুজ। ছবি: সংগৃহীত।

অদিতির ঘটনাটি বিচ্ছিন্ন নয়, বিড়াল-চোখের অধিকারীদের এ দেশে অনেকেই একটু আলাদা ভাবে দেখেন। আশপাশে খেয়াল করলেই তার নিদর্শন পাওয়া যাবে। হালকা রঙের চোখের মণি থাকা কোনও মহিলা বা পুরুষকে প্রথম দর্শনে অনেকে রূঢ় প্রকৃতির বা নিষ্ঠুর প্রকৃতির বলেও ভেবে নেন। আবার দেশের কিছু প্রান্তিক অঞ্চলে মহিলাদের এমন চোখকে ‘অশুভ’ বলেও মনে করেন কিছু সংস্কারপ্রবণ মানুষ। অথচ চোখের এমন রং হওয়ার কিছু বিজ্ঞানসম্মত কারণ আছে।

কুম্ভমেলার মোনালিসার মধু রঙের চোখে মজেছিল গোটা বিশ্ব।

কুম্ভমেলার মোনালিসার মধু রঙের চোখে মজেছিল গোটা বিশ্ব। ছবি: সংগৃহীত।

চোখের চোখের তারা বা পিউপিলের চারপাশের যে অপেক্ষাকৃত হালকা রঙের অংশ, যা চোখে কতটা আলো প্রবেশ করবে, তা নিয়ন্ত্রণ করে, সেই অংশটির রং হালকা হওয়ার একটি নাম আছে। হেটেরোক্রোমিয়া। এমন হতে পারে নানা কারণে—

১। চোখের মণিতে মেলানিনের পরিমাণ কম থাকলে।

২। আলোর বিচ্ছুরণের কারণেও এমন হতে পারে। যদিও তার মূল কারণ সেই মেলানিনই। এই রঞ্জক পদার্থটি কম থাকলে চোখের মণির ওই অংশটি আলো ঠিকমতো শোষণ করতে পারে না। ফলে আলো বাধা পেয়ে চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে চোখকে ধূসর বা সবুজ দেখায়।

৩। জিনের সুপ্ত বৈশিষ্ট্যের কারণেও এমন হতে পারে। ভারতীয়দের শরীরে বহু বিদেশি জিনও মিশেছে। কখনও কখনও সেই সব জিনের কিছু বৈশিষ্ট্য বহু প্রজন্ম পরেও প্রকাশ পেতে পারে। বিড়ালাক্ষী তেমনই এক বৈশিষ্ট্য।

৪। অনেকের আবার জিনগত কারণে অকুলার অ্যালবিনিজ়ম হয়। তেমন হলে মেলানিন তৈরির প্রক্রিয়া ব্যাহত হয় সম্পূর্ণ। তাতেও চোখের মণির রং অত্যন্ত হালকা হয়ে যেতে পারে।

Cat Eye
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy