আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে গালে বা কপালে ফোলা অংশ চোখে পড়ল। দেখতে অনেকটা ব্রণেরই মতো। আপনি সাধারণ ব্রণ ভেবে এড়িয়ে গেলেন। পরে হয়তো সেখানেই গজিয়ে উঠবে ছোটখাটো মাংসপিণ্ড। ব্রণ আর ত্বকের সিস্ট এক নয়। মুখেও সিস্ট হয় অনেকের। তা সহজে সারতে চায় না। অনেকেই এই দু’টির পার্থক্য বুঝতে না পেরে ভুল চিকিৎসা করেন বা খোঁটাখুটি শুরু করেন, যা ত্বকের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। তাই কোনটি ব্রণ এবং কোনটি ত্বকের সিস্ট, তা চিনে নেওয়া জরুরি।
ব্রণ ও সিস্টের পার্থক্য কী?
সিস্ট হল জলভরা থলির মতো। এটি চামড়ার নীচে তৈরি হয়। এর ভিতরে রক্ত, পুঁজ বা আঠালো চর্বি জমা হয়ে থাকে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলে ‘এপিডারময়েড সিস্ট’ বা ‘সেবাসিয়াস সিস্ট’। এগুলি ধীরগতিতে বাড়ে।
আরও পড়ুন:
ব্রণ সাধারণত ত্বকের উপরিভাগে হয়, কিন্তু সিস্ট ত্বকের ভিতরে গজায় এবং চামড়ার উপর ফোলা মাংসপিণ্ডের মতো হয়ে থাকে।
ব্রণ এক থেকে দু’সপ্তাহের মধ্যে সেরে যায়। কিন্তু সিস্ট সহজে সারে না। মাসের পর মাস একই রকম থেকে যেতে পারে। স্পর্শ করলে শক্ত মাংসপিণ্ডের মতো মনে হয়।
ব্রণের ভিতরে পুঁজ বা রক্ত থাকে না। কিন্তু সিস্টে তা থাকে। তাই সিস্ট ফেটে গেলে ত্বকে মারাত্মক সংক্রমণ ঘটতে পারে।
নিরাময়ের ঘরোয়া উপায়
১) গরম সেঁক দিতে পারেন। এটি সিস্টের সবচেয়ে কার্যকর ঘরোয়া টোটকা। একটি পরিষ্কার সুতির কাপড় গরম জলে ভিজিয়ে চিপে নিন। এ বার সেটি সিস্টের উপর ১০-১৫ মিনিট ধরে রাখুন। দিনে ৩-৪ বার এটি করলে দ্রুত নিরাময় হবে।
২) ১-২ ফোঁটা টি ট্রি অয়েল নারকেল তেল বা ক্যাস্টর অয়েলের সঙ্গে মিশিয়ে সিস্টের উপর লাগিয়ে রাখুন। টি ট্রি অয়েলের জীবাণুনাশক গুণ আছে।
৩) অ্যাপল সাইডার ভিনিগারে থাকে অ্যাসিটিক অ্যাসিড যা ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণ ঠেকাতে পারে। জলের সঙ্গে সমপরিমাণ ভিনিগার মিশিয়ে তুলো দিয়ে সিস্টের উপর লাগিয়ে রাখলে সেটির আকার ধীরে ধীরে ছোট হতে থাকবে।