রেলের কামরায় প্রথম সন্তান ও অ্যাম্বুল্যান্সে দ্বিতীয় সন্তানের জন্ম দিলেন এক তরুণী। রেলসফর কালে প্রসববেদনা ওঠায় চলন্ত কোচেই সন্তানের জন্ম দিলেন তিনি। সংবাদ প্রতিবেদন অনুসারে ঘটনাটি ঘটেছে, ওড়িশায়, রৌরকেল্লা-গুনুপুর রাজ্যরানি এক্সপ্রেসে। অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে অন্তঃসত্ত্বা তরুণী যমজ সন্তানের জন্ম দেন। চলন্ত ট্রেনের ভেতরে এক সন্তান এবং পরবর্তী কালে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে অ্যাম্বুল্যান্সের ভেতরে অন্য সন্তান ভূমিষ্ঠ হয়। সেই ঘটনারই একটি ভিডিয়ো প্রকাশ্যে এসেছে সমাজমাধ্যমে। ভাইরাল হয়েছে সেই ভিডিয়োটি। যদিও এই ভিডিয়োটির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
আরও পড়ুন:
সংবাদ প্রতিবেদন বলা হয়েছে, রাজ্যরানি এক্সপ্রেসের সাধারণ কোচে ভ্রমণ করার সময় তরুণীর প্রসববেদনা শুরু হয়। তাঁর অবস্থা ক্রমশ গুরুতর হয়ে ওঠায়, রেল মদত পোর্টালের মাধ্যমে রেল কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করা হয়। জরুরি সহায়তা প্রদানের ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তরুণীকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার জন্য কটক স্টেশনে রেল সুরক্ষা বাহিনীর (আরপিএফ) একটি দল মোতায়েন করা হয়। ট্রেনটি স্টেশনে পৌঁছোনোর আগেই, চলন্ত ট্রেনের ভেতরেই তরুণী তাঁর একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। ট্রেনটি কটকে পৌঁছোতেই আরপিএফ কর্মীরা তৎক্ষণাৎ তৎপর হয়ে ওঠেন। তাঁরা মা ও নবজাতকের জন্য একটি নিরাপদ স্থান তৈরি করতে প্ল্যাটফর্মের একটি অংশ চাদর ও প্লাস্টিক দিয়ে ঘিরে ফেলেন এবং তাৎক্ষণিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। সেই ভিডিয়োই প্রকাশ্যে এসেছে। স্টেশনে উপস্থিত এক ফার্মাসিস্টও সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেন। পরবর্তী চিকিৎসার ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত তিনি প্রয়োজনীয় সাহায্য করেন। তখনই জানা যায় তরুণীর গর্ভে যমজ সন্তান রয়েছে। প্রথম সন্তানের জন্ম হওয়া সত্ত্বেও তাঁর প্রসববেদনা অব্যাহত ছিল। জরুরি সেবাকর্মীরা দ্রুত একটি ১০৮ নম্বরে ফোন করে অ্যাম্বুল্যান্সে করে তাঁকে এসসিবি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। অ্যাম্বুল্যান্সটি হাসপাতালে পৌঁছোনোর আগেই মহিলার আবার প্রসববেদনা শুরু হয়। তরুণী অ্যাম্বুল্যান্সের ভেতরেই তাঁর দ্বিতীয় সন্তানের জন্ম দেন।
ঘটনাটি এক্স হ্যান্ডলে ‘মানস_মুদুলি’ নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট করার পর নেটাগরিকদের নজর কেড়েছে। মায়ের গর্ভে একসঙ্গে থাকা দুই শিশুর ভিন্ন দু’টি জায়গায় জন্মগ্রহণের ঘটনাটি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে নেটমাধ্যমে। নাটকীয় পরিস্থিতি সদ্যোজাত শিশুর স্বাস্থ্যের ওপর কোনও প্রভাব ফেলেনি। রেল আধিকারিক ও চিকিৎসাকর্মীরা জানিয়েছেন যে, মা এবং দুই নবজাতকই সুস্থ আছেন।