সম্প্রতি এক বিরল দৃশ্যের সাক্ষী থেকেছেন তামিলনাড়ুর বাসিন্দারা। ঘটনাটি তামিলনাড়ুর তূতুকুড়ী জেলার। রবিবার বিকেলে তীব্র বজ্রপাত-সহ ঝড়ের সময় একটি শঙ্কু আকৃতির মেঘের (ফানেল ক্লাউড) দেখা পাওয়া গিয়েছে। ভাগাইকুলাম এলাকার তূতুকুড়ী বিমানবন্দরের কাছে এটি দেখা যায়। ঘটনাটির ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়েছে সমাজমাধ্যমে।
ভিডিয়োয় দেখা গেছে, একটি প্রবল ঝড় থেকে কালো মেঘের একটি সরু, প্যাঁচানো স্তম্ভের মতো কিছু নীচের দিকে নেমে আসছে। ঘূর্ণায়মান এই মেঘপুঞ্জটি ক্ষণিকের জন্য মাটি স্পর্শ করে ধুলোর মেঘ তৈরি করেছিল এবং কয়েক মিনিটের মধ্যেই পুরোপুরি বিলীন হয়ে যায়। সেখানে উপস্থিত বেশ কয়েক জনকে ঘটনাটির ভিডিয়ো করতে দেখা যায়। এক্সের (সাবেক টুইটার) ‘নবদ্বীপদাহিয়া৫৫’ নামের হ্যান্ডল থেকে ঘটনাটির বিষয়ে জানা গিয়েছে। যদিও ভিডিয়োটির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
আরও পড়ুন:
ভিডিয়োটির ক্যাপশনে লেখা হয়েছে, প্রত্যক্ষদর্শীরা হয়তো জানেনও না যে তাঁরা একটি টর্নেডোর সাক্ষী থাকলেন। এ ধরনের টর্নেডোর ক্ষেত্রে বাতাসের গতিবেগ অনায়াসেই ঘণ্টায় ১৭০ থেকে ২২০ কিলোমিটার হতে পারে। এর গঠনশৈলী দেখে এটিকে প্রায় ‘ইএফ২’ পর্যায়ের (অর্থাৎ ‘এনহ্যান্সড ফুজিটা স্কেল’ অনুযায়ী ঘণ্টায় ১৭৮ কিলোমিটার বা তার বেশি গতির বাতাস) বলে মনে হয়।
সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, ভাগাইকুলাম টোল প্লাজ়ার কাছে বিমানবন্দর সম্প্রসারণ এলাকার জন্য স্থাপন করা অস্থায়ী ধাতব ছাদের টিন প্রবল দমকা বাতাসে ছিঁড়ে যাওয়ায় ছয় জন গুরুতর আহত হয়েছেন। ভাগাইকুলাম এবং মুদিভাইথানেন্দাল গ্রামে প্রবল ঝোড়ো হাওয়া আঘাত হানায় গাছপালা উপড়ে গিয়েছে, বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়েছে এবং প্রায় ২০০টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাড়ির টিনের চাল উড়ে গিয়েছে এবং গৃহস্থালির জিনিসপত্র ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। প্রায় ২ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে অনুমান।
আরও পড়ুন:
ভিডিয়োটি ছড়িয়ে পড়তেই, আবহবিদেরা অনেকেই এটিকে সাম্প্রতিক সময়ে তামিলনাড়ুতে ঘটা অন্যতম বিরল প্রাকৃতিক ঘটনা বলে উল্লেখ করেছেন। তবে, বিশেষজ্ঞেরা এ-ও উল্লেখ করেছেন যে, শঙ্কু আকৃতির মেঘ এবং টর্নেডো একই জিনিস নয়। এই মেঘ ঝড় থেকে সৃষ্ট একটি ঘূর্ণায়মান বায়ুস্তম্ভ, যা সব সময় ভূমিকে পুরোপুরি স্পর্শ করে না। ভিডিয়োটি দেখে অবাক হয়েছেন সাধারণ ব্যবহারকারীরাও। ২০০০-এর বেশি নেটাগরিক ভিডিয়োটি দেখেছেন। অজস্র মন্তব্য জমা পড়েছে। এই বিরল ঘটনাটির কারণে জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশের অবক্ষয় সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেকেই।