লাল রং উষ্ণতার। আর গরমে কেউ কালো পোশাক পরেছে দেখলে আশপাশের মানুষই একরকম আপত্তি জানাতে শুরু করেন। সরাসরিই শুনতে হয়— ‘‘এই গরমে কালো!’’ গ্রীষ্মের ফ্যাশনে তাই ওই দুই রং সযত্নেই পরিহার করে চলেন অধিকাংশে। কিন্তু সাজাগোজের সেই কৌশল যে নিতান্তই ‘সাবধানী’ এবং সমালোচনা এড়ানোর চেষ্টা, চাইলে যে ওই দুই রংও গরমের রং হয়ে উঠতে পারে, তা বুঝিয়ে দিলেন বলিউডের তিন কালের তিন শৌখিনী, মাধুরী দীক্ষিত, সামান্থা রুথ প্রভু এবং ফাতিমা শানা শেখ।
আসলে রং তো নিপাট রংই। তা উষ্ণতা ছড়াবে না তরতাজা ভাব আনবে নাকি আরাম জোগাবে চোখে, সেই ক্ষমতা অর্পণ করেন তিনি, যিনি সেই রঙে সাজছেন বা সাজাচ্ছেন। ভিন্ন রং এবং সাজের অনুষঙ্গ বদলালে রঙের ভাষাও যায় বদলে। আর সেই গূঢ় ব্যাকরণটিই শিখিয়ে দিলেন তিন কন্যা।
ফাতিমার সাজটি তার আদর্শ উদাহরণ। ঢালা লাল পাড়ের সিল্কের শাড়িতে কুচকুচে কালো জমি। আর তাতে রুপোলি জরির কলকা বুটি। এই শাড়িই একটি লাল কিংবা কালো লম্বা হাতা ব্লাউজ়ের সঙ্গে পড়লে দেখাত অন্য রকম। কিন্তু ফাতিমা শাড়িটি পরেছেন কালচে রুপোলি ব্লাউজ দিয়ে। সঙ্গে পরেছেন অক্সিডাইজ়ড রুপোর হালকা কিছু গয়না। যা দেখে শরীর জুড়ে রুপোর গ্লাসে ঠান্ডা জল খাওয়ার মতোই ঠাণ্ডা অনুভূতি নামছে।
ফ্যাশনের দুনিয়ায় ‘রেড হট’ শব্দটি প্রচলিত। অন্য লাল শাড়িতে সামান্থার জন্যও এমন বিশেষণের যথার্থ প্রয়োগ হতে পারত। কিন্তু এক্ষেত্রে তা হচ্ছে না। কারণ সামান্থা যে টম্যাটো লাল রঙের শাড়িটি পরেছেন, তার ধরণটি মাটিতে লতিয়ে থাকা টম্যাটোর ফলন্ত গাছের মতোই মনে আরাম দেওয়া। টম্যাটো রেড অবশ্য এ বারের গরমের ট্রেন্ডিং রংও। খাঁটি রেশমের শাড়িতে সেই রঙেরই ঢালা জমি। আর সেই জমির নীচের অংশে হাতে আঁকা অচেনা কলমকারির নকশা। প্রাকৃতিক জলপাই রঙ দিয়ে ছোপানো হয়েছে পাড়। আর জমিতে টম্যাটোর লতানো গাছের মতোই ছড়িয়ে রয়েছে লতাপাতার সামান্য আঁকি বুকি। এ শাড়ির সঙ্গে সামান্থা পরেছেন জল রঙের কাচের চুড়ি আর জলপুঁতিতে বোনা স্বচ্ছ-রঙিন হার।
মাধুরী আবার মুম্বইয়ের গরমের এক অনুষ্ঠানে পরে এসেছিলেন কালো শিফন শাড়ি। তবে সেই শাড়ি জুড়ে গোলাপি অর্কিড আর তার সরু সবুজ পাতার হাতেবোনা নকশা। কালো জমিতে ওই বড় বড় ফুলের নকশাই এক অদ্ভুত তরতাজা ভাব এনে দিয়েছে মাধুরীর সাজে। তবে এই সাজের আসল সৌন্দর্য ব্লাউজ়ে। হাই-নেক ব্লাউজ পরেছেন মাধুরী। তবে সেই ব্লাউজ় স্বচ্ছ লেসের তৈরি, হাতা দু’টিও খুবই ছোট। অন্য যেকোনও স্লিভলেস বা লম্বা হাতা ব্লাউজ় শাড়িটিকে এত ভাল ভাবে সাজাতে পারত না। এই বিশেষ কেতার ব্লাউজ়টি শাড়ির মধ্যে একরকমের বাড়তি ফুরফুরে ভাব এনেছে। যা গ্রীষ্মের দুপুরেও দেখলে ভাল লাগবে। বিশেষ গয়না পরেননি মাধুরী। কানে পান্না-চুনির ড্রপ ইয়াররিংস-এ শেষ করেছেন সাজ। কালো যে চড়া গরমেও কতটা ‘ব্রিদেবল’ আর আকর্ষণীয় ফ্যাশন স্টেটমেন্ট হতে পারে, তা নিখুঁতভাবে বুঝিয়ে দিয়েছেন মাধুরী।