গরমের দিনে চুলের যত্নে প্রাকৃতিক উপায়ের খোঁজে রয়েছেন? ঘাম, ধুলো, আর্দ্রতার অত্যাচারে চুলের দুর্দশা আর চোখে দেখা যাচ্ছে না? বাজারের মাস্ক, সিরাম মেখে মাথা আরও ভারী করতে চান না? তা হলে এমন এক ঘরোয়া টোটকার প্রয়োজন, যা় চুলকে কোমল করবে, মাথাও হালকা মনে হবে সারা দিন। নতুন এক ধরনের কৌশল কার্যকরী হতে পারে এই সময়ে।
কুমড়োর বীজের তেল হতে পারে দারুণ সমাধান। এই তেলে রয়েছে ভিটামিন ই, জ়িঙ্ক, অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, যা চুলের গোড়া মজবুত করে, চুল পড়া কমায় এবং নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে। নিয়মিত ব্যবহার করলে চুল আরও ঘন, মসৃণ ও প্রাণবন্ত হবে এই ভ্যাপসা গরমে। চুল পাতলা হওয়ার নেপথ্যে বিশেষ এক হরমোনের ভূমিকা রয়েছে। তা হল, ডাইহাইড্রোটেস্টোস্টেরন (ডিএইচটি)। আর কুমড়োর বীজের তেল এই হরমোনের ক্ষরণকে আটকাতে পারে। আর গরমের সময়ে যখন ঘাম ও ধুলো জমা হয়ে চুলের গোড়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, তখন কুমড়োর বীজ মাথার ত্বকে পুষ্টির জোগান বজায় রাখতে পারে। সবচেয়ে বড় কথা, গরমে এই তেল মাখলে প্যাচপেচে ভাবও তৈরি হবে না।
কিন্তু রাতারাতি কোনও তেলই চুলের ঝরে পড়া কমিয়ে নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে না। কুমড়োর বীজের তেল নিয়মিত মাখলে ধীরে ধীরে মাথার ত্বকের স্বাস্থ্য উন্নত হবে। তার পর চুলের ফলিকল উদ্দীপিত হয়ে চুল গজানো শুরু করবে। তার জন্য জেনে নিতে হবে কুমড়োর বীজ থেকে তেল বার করার কৌশল। ঘরোয়া পন্থায় এই বীজ থেকে তেল বার করে নিতে পারবেন সহজেই।
কুমড়োর বীজের তেল কী ভাবে চুলের স্বাস্থ্যরক্ষা করবে? ছবি: সংগৃহীত
কুমড়োর বীজ থেকে তেল বার করার পদ্ধতি ধাপে ধাপে—
· ২ টেবিল চামচ কুমড়োর বীজ এবং ১ কাপ নারকেল তেল বা অলিভ অয়েল প্রয়োজন এই পদ্ধতির জন্য।
· কুমড়োর বীজগুলি পিষে নিতে হবে ভাল করে।
· তার পর পাত্রে অল্প তেল গরম করতে হবে।
· চূর্ণ করা বীজগুলি ঢেলে দিতে হবে কড়াইয়ের গরম তেলে।
· ৫-১০ মিনিট নাড়াচাড়া করে নিন। আগুনের আঁচ কম রাখুন, যাতে পুড়ে না যায় গুঁড়োটি।
· আগুন বন্ধ করে তেল ঠান্ডা হতে দিন। তার পর ছাঁকনিতে ছেঁকে নিয়ে শিশিতে ভরে রাখুন।
কিন্তু যদি গরমের মধ্যে আগুনের ব্যবহার না করতে চান, তা হলে অন্য এক পদ্ধতিতে তেল বানাতে পারেন। তবে তাতে খানিক সময় বেশি লাগবে। জেনে নিন ধাপে ধাপে—
আরও পড়ুন:
· কুমড়োর বীজগুলি পিষে নিন।
· তার পর একটি তেলের শিশিতে (নারকেল তেল বা আমন্ড অয়েল) রেখে দিন। ঘরের যেখানে সূর্যালোক পড়ে না, ঠান্ডা, তেমন জায়গায় রাখতে হবে। মাঝে মাঝে ঝাঁকিয়ে নিতে হবে শিশিটি।
· ৫-৭ দিন পর তেলটি ছেঁকে নিন অন্য পাত্রে। তার পর সময় মতো ব্যবহার করুন।