গরমে গলদঘর্ম হওয়াতেই কষ্টের শেষ নয়, ঘাম জমে চুলকানি, র্যাশও সহ্য করতে হচ্ছে? বেশি ঘাম মানেই হতে পারে দুর্গন্ধ। গরম মানেই ঘামের উপর ধুলো-ময়লার স্তর জমে শুরু অস্বস্তি। আর এই সবের জন্যই শুধু গায়ে মাখার সাবান বা শ্যাম্পু নয়, বরং বিশেষ কিছু দরকার।
মুখের যেমন ক্লিনজ়ার হয়, গায়ে মাখার জন্যও তা হয়। বাজারচলতি নানা রকম ক্লিনজ়ার রয়েছে। তবে যদি ভরসা রাখতে চান প্রাকৃতিক এবং খাঁটি উপাদানে বাড়িতেই ত্বকের ধরন, নির্দিষ্ট সমস্যা বুঝে তৈরি করতে পারেন গায়ে মাখার ক্লিনজ়ার।
গায়ে র্যাশ, চুলকানি?
সমস্যার সমাধানে কাজে আসবে টি-ট্রি অয়েল এবং পেপারমিন্ট অয়েল। ক্লিনজ়ার তৈরি হবে তরল ক্যাসটাইল সাবান দিয়ে, এটি ক্লিনজ়ারের অন্যতম উপাদান। ক্যাসটাইল সাবান উদ্ভিজ্জ উৎস থেকে তৈরি এবং ত্বকবান্ধব।এটি সংবেদনশীল ত্বকের জন্যও ভাল। আধ কাপ তরল ক্যাসটাইল সাবানের সঙ্গে ১/৪ কাপ পরিশোধিত জল মেশান। এক টেবিল চামচ কাঠবাদামের তেলের সঙ্গে মিশিয়ে নিন ৭-৮ ফোঁটা টি-ট্রি অয়েল এবং পেপারমিন্ট অয়েল। টি-ট্রি অয়েল সংক্রমণ ঠেকাতে সাহায্য করে। পেপারমিন্ট অয়েল ত্বকে ঠান্ডা পরশ আনে, ফলে জ্বালা-চুলকানি কমে। তেল, সাবান এবং জল একটি পরিষ্কার বোতলে ঢেলে, ঝাঁকিয়ে মিশিয়ে নিন। এক বার তৈরি করে রাখলে এক মাস ব্যবহার করা যাবে।
ট্যানের সমস্যা
রোদের তাপে গায়ে, হাতেও কালচে ছোপ পড়ে যায়। ত্বক পুড়ে যায় অনেক সময়। কালচে ভাব দূর করতে বানিয়ে ফেলুন কফি ক্লিনজ়ার। আধ কাপ তরল ক্যাসটাইল সাবানের সঙ্গে ১/৪ কাপ পরিশোধিত জল, ৪-৫ টেবিল চামচ কফিগুঁড়ো, ১ টেবিল চামচ মধু, ১ টেবিল চামচ নারকেল তেল মিশিয়ে নিন। খুব ভাল করে সমস্ত উপকরণ বোতলে ঢেলে মিশিয়ে নিন।
আর্দ্রতা জোগাবে
গরমে ঘাম বেশি হয়, শরীরও ঘামে চটচটে হয়ে থাকে। তবে যদি দীর্ঘ ক্ষণ এসি ঘরে থাকতে হয়, তা হলে কিন্তু ত্বকে আর্দ্রতার অভাব হতে পারে। আবার যদি লু হাওয়া দেয়, বা বাতাসে আর্দ্রতা কমে যায় তখনও ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়, জ্বালা করে। ত্বকে আর্দ্রতা জোগাতে বাড়িতে বানিয়ে ফেলুন অ্যালো ভেরা ক্লিনজ়ার। ১টি শসার রস বার করে নিন। আধ কাপ ক্যাসটাইল সাবানের সঙ্গ শসার রস, ২ টেবিল চামচ অ্যালো ভেরা জেল, ১ টেবিল চামচ গ্লিসারিন ভাল করে মিশিয়ে নিন। গরম থেকে ফেরার পরে এটি ব্যবহার করলে ত্বকে জ্বালার ভাব কমবে, ত্বক নরম এবং আর্দ্র থাকবে।