রং বাহারি চুল দেখতে বেশ ভালই লাগে। কায়দা করে রং করলে এক নিমেষে বদলে যায় সৌন্দর্য। কিন্তু সেই চুলই বিড়ম্বনার কারণ হয়, দিন কয়েক পরে, চুল যখন রুক্ষ হয়ে যায়। ডগা ফাটতে শুরু করে। রঙে থাকা রাসায়নিকের ফলেই ভিতরে ভিতরে ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে কেশ।
ত্বকের রোগের চিকিৎসকেরা বলছেন, স্থায়ী বা সাময়িক স্থায়ী— যে ধরনের রং ব্যবহার করা হোক না কেন, ক্ষতির মূলে থাকে এতে থাকা অ্যামোনিয়া এবং হাইড্রোজেন পারক্সাইড। এই দুই রাসায়নিক চুলের একেবারে উপরের স্তর বা কিউটিকল স্তর ভেঙে রঙের পরত ফেলতে সাহায্য করে। স্বাভাবিক ভাবেই এই প্রক্রিয়ায় চুলের স্বাভাবিক সুরক্ষা বর্ম ভেঙে পড়ে, চুল আরও রুক্ষ হয়ে পড়ে। চুল মসৃণ থাকে কিউটকলের বর্মে থাকে বলে। আর সেটাই না থাকলে চুলের ক্ষতি তো স্বাভাবিক। তা ছাড়া, যত বেশি গাঢ় রং ততই হাইড্রোজেন পারক্সাইডের মাত্রা থাকে বেশি।
কিন্তু বদলে যাওয়া সৌন্দর্যের ধারায় গা ভাসাতে অনেকেই যে চাইবেন, সেটাও স্বাভাবিক। ফলে রং করলেও চুলের যত্নে বাড়তি নজর দিতে হবে। চিকিৎসক রিংকি কপূরের পরামর্শ—সালফেটমুক্ত শ্যাম্পু ব্যবহার করতে হবে। তবে শুধু শ্যাম্পু নয়, যত্ন করতে হবে চুলের। ক্ষতির হাত থেকে বাঁচানোর জন্য দরকার প্রোটিন হেয়ার মাস্ক। বিশেষ ধরনের প্রোটিন মাস্ক সপ্তাহে এক বার করে ব্যবহার করলে চুলের নষ্ট হওয়া কেরাটিনের মাত্রা ঠিক হবে, নতুন করে কিউটকলের স্তরও তৈরি হবে।
পাশাপাশি চুল রং করার ৭২ ঘণ্টা পর থেকেই ব্যবহার করা দরকার সিরাম। সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগনি রশ্মি ত্বকের জন্য যতটা ক্ষতিকর চুলের জন্যও তাই। চড়া রোদে ঘুরে বেড়ালে চুল আরও রুক্ষ হয়ে পড়তে পারে।
সঠিক ভাবে চুলের যত্ন না নিলেই, চুল শুধু রুক্ষ হয়ে পড়বে না ডগা ফাটার সমস্যাও দেখা দিতে পারে। একবার এমন সমস্যা হলে, তার সমাধান কিন্তু সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়াবে।