বয়স বৃদ্ধি ও বয়সের ছাপ পড়ার মতো স্বাভাবিক আর কী-ই বা আছে! কিন্তু নতুন ধরনের জীবনযাপনে বয়সের আগেই বার্ধক্যের ছাপ পড়ে যাচ্ছে শরীরে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে মুখ। অথচ কারওর শরীরের মধ্যে সবচেয়ে আগে চোখে পড়ে তাঁর মুখমণ্ডলই। এ দিকে বলিরেখা, চামড়া ঝুলে পড়া, রং অসমান হয়ে যাওয়া ইত্যাদি নানা রকমের লক্ষণে মুখের ত্বক তার জেল্লা হারিয়ে ফেলে দ্রুত। বয়স ধরা পড়ে সময়ের অনেক আগেই। ত্বকের নীচে চলতে থাকা নানা পরিবর্তনের মাধ্যমে এই বিষয়টি চোখে পড়ে। তাই শুধু ক্রিম মেখে নয়, ভিতর থেকে যত্ন নেওয়াই আসল। কী কী কারণে মুখের বয়স বাড়ে এবং কী ভাবে সেই প্রক্রিয়া ধীর করা যায়, তা দেখে নেওয়া যাক।
মুখের বয়স কি বেড়ে চলেছে? ছবি: সংগৃহীত
কী ভাবে মুখমণ্ডলের বয়স বৃদ্ধি পায়?
মুখের বয়স বৃদ্ধি পাওয়া ত্বকের উপরিভাগের সমস্যা নয়, অনেক নীচে এর প্রক্রিয়া শুরু হয়।
· বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মুখের হাড়ের কাঠামো বদলাতে থাকে। ফলে ত্বকে তারুণ্য ধরে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি কমে যায়, মুখের ত্বক ঢিলে লাগে।
· মুখের ভিতরের ফ্যাট বা চর্বির স্তর ধীরে ধীরে কমে যায়। এতে মুখের ভলিউম কমে গিয়ে ফাঁপা বা ঝুলে যাওয়া ভাব আসে।
· কোলাজেন ও ইলাস্টিন কমে যায়। ত্বকের টানটান ভাব বজায় রাখার জন্য এই দুই উপাদান জরুরি। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এগুলি কমতে থাকলে বলিরেখা ও চামড়া ঝুলে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ে।
· ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় টিস্যুগুলি দুর্বল হয়ে গেলে মুখের গঠন বদলে যায় এবং চামড়া ঝুলে পড়া শুরু হয়।
এই পরিবর্তনগুলি ত্বকের গভীরে গিয়ে ঘটে। তাই শুধু ত্বকচর্চা করে বা একাধিক পণ্য ব্যবহার করে পুরো সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায় না। ভিতর থেকে শরীরের যত্ন নেওয়াও সমান ভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
ভাল খাবার খেয়ে ত্বক ভাল রাখুন। ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।
মুখের বয়স বৃদ্ধির গতি ধীর করবেন কী ভাবে?
১. শরীরচর্চা নিয়মিত করতে হবে। নিয়মিত নড়াচড়া করলে দেহে রক্তসঞ্চালন বাড়ে এবং তা ত্বককে ভিতর থেকে সুস্থ রাখে।
২. শক্তি বাড়ানোর ব্যায়াম করুন। পেশি শক্তিশালী থাকলে মুখের গঠনও ভাল থাকে।
৩. প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার খান বেশি করে। কোলাজেন তৈরিতে প্রোটিনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে।
৪. পর্যাপ্ত ঘুম দরকার রোজ। ঘুমের সময়ে শরীর নিজেকে মেরামত করে। ত্বকের জন্যও এটি খুব জরুরি।
৫. মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখুন। দীর্ঘ দিন ধরে মানসিক চাপ থাকলে ত্বকের ক্ষতি দ্রুত বাড়ে।
৬. সূর্যের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে নিজেকে বাঁচান। অতিরিক্ত রোদ ত্বকের কোলাজেন দ্রুত ভেঙে দেয়, পরিমাণ কমেও যায়।
৭. শরীরে তরলের ভারসাম্য ঠিক রাখতে হবে। পর্যাপ্ত জল খেলে ত্বক ভিতর থেকে আর্দ্র থাকে। এতে ত্বকের স্বাস্থ্য অনেকাংশে প্রভাবিত হয়।
৮. এ ছাড়াও ধূমপান এবং অতিরিক্ত অ্যালকোহল সেবন ত্বকের রক্তসঞ্চালন কমিয়ে দ্রুত বয়সের ছাপ বাড়ায়। ত্বককে শুষ্ক ও দুর্বল করে দেয়।
৯. সুষম খাবার খেয়ে ত্বকের যত্ন নিতে হবে। ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট সমৃদ্ধ খাবার ত্বককে দীর্ঘ দিন তরুণ রাখে।